ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সততাকে ভিত্তি, জনতাকে শক্তি করে জনসেবায় আব্দুল আউয়াল সরকার গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন মানুষের পাশে থাকা, সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে হাজী আব্দুল জব্বার সরকার ফল বিক্রির সামান্য আয়, তবুও দলের কর্মসূচিতে নিজের উপার্জন ব্যয় মাদকবিরোধী অবস্থানে আপসহীন আবুল হোসেন খলিফা, মামলা নিয়ে প্রশ্ন

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে সংহতি, শিল্পকারখানায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান; সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৮১ বার পড়া হয়েছে




গার্মেন্টস শিল্পে চলমান অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষের নামে নৈরাজ্য এবং শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সরকারের বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনির নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সরকার পরিবারের তরুণ প্রজন্মের বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ শিল্পের পরিবেশ নষ্ট হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দাবি আদায়ের নামে শিল্পকারখানার পরিবেশ অস্থিতিশীল করা কিংবা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী সরকার শাহানুর ইসলাম রনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা মারামারি চাই না, আমরা শান্তি চাই। শ্রমিক-বিএনপি ভাই ভাই। আমরা শ্রমিকদের পক্ষে আছি। শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও পারিশ্রমিক বুঝে পাক, এটাই আমরা চাই। তাঁদেরও পরিবার আছে, ছেলে-মেয়ে আছে, সংসারের খরচ আছে। তাঁদের কষ্ট ও প্রয়োজন আমরা বুঝি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের স্বার্থে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তাই শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান, কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরুন।”


এ সময় তিনি তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবার জন্য আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে মুক্তি দান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আপনারাও তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে দেশের লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় অর্থনীতি জড়িত। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে যেমন আন্তরিক হতে হবে, তেমনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ রক্ষায় মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলার কারণে যেন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান হারান, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন ও আলোচনা সভা থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি শিল্পকারখানায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “শিল্প বাঁচলে কর্মসংস্থান বাঁচবে, কর্মসংস্থান বাঁচলে বাঁচবে মানুষের জীবন ও জীবিকা।” তাঁরা শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে সংহতি, শিল্পকারখানায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান; সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

গার্মেন্টস শিল্পে চলমান অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষের নামে নৈরাজ্য এবং শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সরকারের বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনির নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সরকার পরিবারের তরুণ প্রজন্মের বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ শিল্পের পরিবেশ নষ্ট হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দাবি আদায়ের নামে শিল্পকারখানার পরিবেশ অস্থিতিশীল করা কিংবা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী সরকার শাহানুর ইসলাম রনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা মারামারি চাই না, আমরা শান্তি চাই। শ্রমিক-বিএনপি ভাই ভাই। আমরা শ্রমিকদের পক্ষে আছি। শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও পারিশ্রমিক বুঝে পাক, এটাই আমরা চাই। তাঁদেরও পরিবার আছে, ছেলে-মেয়ে আছে, সংসারের খরচ আছে। তাঁদের কষ্ট ও প্রয়োজন আমরা বুঝি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের স্বার্থে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তাই শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান, কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরুন।”


এ সময় তিনি তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবার জন্য আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে মুক্তি দান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আপনারাও তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে দেশের লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় অর্থনীতি জড়িত। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে যেমন আন্তরিক হতে হবে, তেমনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ রক্ষায় মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলার কারণে যেন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান হারান, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন ও আলোচনা সভা থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি শিল্পকারখানায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “শিল্প বাঁচলে কর্মসংস্থান বাঁচবে, কর্মসংস্থান বাঁচলে বাঁচবে মানুষের জীবন ও জীবিকা।” তাঁরা শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।