‘মাদককে না বলি, প্রজন্মকে বাঁচাই’ ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ
এরশাদ নগরে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৯ বার পড়া হয়েছে

“আসুন সকলে দল-মত নির্বিশেষে মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সুন্দর এরশাদ নগর গড়ি” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ নগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ। ‘মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন’ এই স্লোগানে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাদ আসর জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে কর্মসূচির সূচনা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব-ঐক্য, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড, টঙ্গী-পূর্ব, গাজীপুর মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সচেতন নাগরিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান, র্যালি ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের একক সমস্যা নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। মাদকের কারণে একটি সম্ভাবনাময় তরুণ জীবন যেমন ধ্বংস হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবার ও সমাজ। তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী কোনো কর্মসূচিকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মাদক ব্যবসা বা মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে না তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান তারা।
‘মাদকমুক্ত এরশাদ নগর’ গড়ার প্রত্যয়, বক্তারা বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে আমাদের সন্তানরা মাদকের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ থাকবে। কোনো তরুণ যেন মাদকের কারণে তার ভবিষ্যৎ হারিয়ে না ফেলে, এ দায়িত্ব শুধু একজনের নয়, আমাদের সবার।” তারা আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে এরশাদ নগরকে একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নাজিউর রহমান সুমন, সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর যুবদল; আহসান হাবিব সোহেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদল; এস. এম. শাকিল পারভেজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুগ্ম আহ্বায়ক, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দল; লিটন আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদল; কামাল আহমেদ তন্ময়, সাবেক ছাত্রনেতা; ইয়াকুব ঢালী, সাবেক সহ-সভাপতি, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদল; বাদল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী, শহিদুল, কবির, মনির শিকদার, জুয়েল রানা, ফরিদুল হাসান বাবু, মাহমুদ পারভেজ, আব্দুল জলিল, নজরুল সিকদারসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কর্মসূচিতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, কোরআনের হাফেজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শের ব্যক্তিরাও অংশ নেন। তারা মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি জানান।
স্লোগানে মুখরিত এরশাদ নগরের রাজপথ, বাদ আসরের পর জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাদকবিরোধী র্যালিটি বের হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, “মাদককে না বলুন” “মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন” “দল-মত নির্বিশেষে মাদককে না বলি” “মাদকমুক্ত সুন্দর এরশাদ নগর গড়ি” র্যালিটি এরশাদ নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৮ নম্বর ব্লকের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড, টেম্পু স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তালতলায় গিয়ে শেষ হয়।
মোনাজাতে মাদকমুক্ত সমাজের জন্য প্রার্থনা, র্যালি শেষে তালতলা এলাকায় স্থানীয় মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়। এ সময় বক্তারা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন। শেষে উপস্থিত সবাই মাদককে না বলা, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতন হওয়া এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর এরশাদ নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একটি স্লোগানেই যেন পুরো কর্মসূচির মূল বার্তা, “মাদককে না বলুন, প্রজন্মকে বাঁচান, জীবনকে বাঁচান।”












