ত্যাগ ও সংগ্রামের পথ পেরিয়ে টঙ্গীর রাজনীতিতে অটুট এক কর্মীর গল্প
এক চোখ হারিয়েও হার মানেননি মনোয়ার হোসেন খোকন
- আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৯৮ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতিতে পরিচিতি শুধু পদ-পদবিতে তৈরি হয় না; কখনো কখনো একজন মানুষের ত্যাগ, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস এবং দীর্ঘদিনের পথচলাই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। মনোয়ার হোসেন খোকন তেমনই এক রাজনৈতিক কর্মী, যাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংগ্রাম, আঘাত এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে চলার এক গল্প। বর্তমানে তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
রাজনীতির পথে হারিয়েছেন এক চোখের আলো, মনোয়ার হোসেন খোকনের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার শিকার হন। ওই হামলায় তাঁর একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সেই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান বলে জানান। একজন মানুষের জন্য চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো নিঃসন্দেহে জীবনের এক বড় আঘাত। কিন্তু সেই আঘাত তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। চোখের আলো কমেছে, কিন্তু তাঁর পথচলার প্রত্যয় কমেনি।
ত্যাগই তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অধ্যায়, মনোয়ার হোসেন খোকনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর পদ নয়, তাঁর ত্যাগ। রাজনৈতিক জীবনে শারীরিক ক্ষতির মতো কঠিন অভিজ্ঞতার পরও তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর এই পথচলা মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতির ইতিহাস শুধু বড় বড় নেতাদের বক্তব্য দিয়ে তৈরি হয় না; ইতিহাসের পেছনে থাকে অসংখ্য কর্মীর নীরব ত্যাগ। “আমার কষ্ট যেন মানুষের জন্য কাজে লাগে” নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে মনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্যে আত্মপ্রচারের চেয়ে মানুষের জন্য কাজ করার আকাঙ্ক্ষাই বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত মানুষের সঙ্গে থাকা এবং কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর ভাষায়, “জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা হারাইনি। আমার রাজনৈতিক জীবনের কষ্ট ও ত্যাগ যদি মানুষের কোনো উপকারে আসে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ উপলক্ষে তিনি গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনিসহ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
নীরব কর্মীদের গল্পও ইতিহাসের অংশ, মনোয়ার হোসেন খোকনের জীবনকাহিনি রাজনৈতিক অঙ্গনের সেইসব কর্মীর কথা মনে করিয়ে দেয়, যাঁদের নাম হয়তো জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় খুব বেশি আসে না, কিন্তু দলের কঠিন সময়ে তাঁরা মাঠে থাকেন। একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার তাঁর এই অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর সামনে হয়তো এখনও দীর্ঘ পথ। কিন্তু সেই পথের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে তাঁর ত্যাগ ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস। একটি চোখের আলো হারিয়েছেন কিন্তু স্বপ্ন হারাননি। মনোয়ার হোসেন খোকনের রাজনৈতিক জীবনের গল্প তাই শুধু একজন নেতার গল্প নয়; এটি একজন কর্মীর ত্যাগ, আঘাত সহ্য করে ফিরে দাঁড়ানো এবং মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ের গল্প। মনোয়ার হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতি দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।












