ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনীতিতে আদর্শ, জীবনে কুরআনের আলো হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের স্বপ্ন মানুষ গড়ার মন্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খোকন মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, কোনাবাড়িতে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য এক-দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী মেধা, মনন ও স্বপ্নের পথে রামিসা মলিয়াত উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডে পাড়ি উদ্বোধনের আগেই ফাটল স্কুল ভবনের ছাদে, সরকারি উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উজ্জ্বল চন্দ্র বর্মনের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে নাজমুল হোসেন মন্ডল মানুষের পাশে নাজমুল হোসেন মন্ডল, উন্নয়ন ও জনসেবাই যার অঙ্গীকার টঙ্গীতে মাদরাসায় হামলার প্রতিবাদে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

“আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই”

মায়ের দোয়া, মানুষের ভালোবাসা আর জনসেবার প্রত্যয়ে এক পথচলা ৪৩ নং ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডল—রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষের গল্প

md younus
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭০১ বার পড়া হয়েছে




জনপ্রতিনিধিত্ব কি শুধুই একটি পদ-পদবি? নাকি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, নাগরিকের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করা, দুর্ভোগের জায়গায় ছুটে যাওয়া এবং মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া অর্জন করাই একজন জনবান্ধব মানুষের প্রকৃত পরিচয়? টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাজমুল হোসেন মন্ডলকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এমনই এক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকা, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রাস্তা-ড্রেনের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি মুখ। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব এবং গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। কিন্তু নিজের বক্তব্যে তিনি বারবার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর একটি বাক্য যেন তাঁর পুরো পথচলার দর্শনকে ধারণ করে, “আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই।”
এই একটি বাক্যের মধ্যেই যেন রয়েছে তাঁর রাজনীতি, জনসম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল সুর। মায়ের দোয়া, এক রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে মানবিক বন্ধন, রাজনীতির মাঠে সমর্থন পাওয়া যায়, কর্মী পাওয়া যায়, মিছিল-মিটিং হয়; কিন্তু একজন মানুষের জন্য এলাকার মায়েরা যখন সন্তানের মতো মমতা প্রকাশ করেন, তখন সেই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক থাকে না, তা হয়ে ওঠে পারিবারিক ও মানবিক। নাজমুল হোসেন মন্ডলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে এলাকার মায়েদের ভালোবাসা ও দোয়ার কথা।
তিনি লিখেছেন, “একজন মা তাঁর সন্তানকে যতটুকু নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন, ঠিক ততটুকুই মায়া ও স্নেহ নিয়ে আজ এলাকার মায়েরা আগলে রেখেছেন আমাকে। আমি শুধু একজন নেতা নই, প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ আমি তাদের সন্তানের মতো জায়গা করে নিয়েছি।” এই অনুভূতির পেছনে তিনি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সহযোগিতা করার মধ্য দিয়েই একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের প্রকৃত সম্পর্ক তৈরি হয়।
তাঁর আরেকটি বক্তব্য, “মায়ের দোয়া যার সঙ্গে আছে, তার পথচলার শক্তি কখনো শেষ হয় না।” মায়ের দোয়া তাই তাঁর কাছে শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং দায়িত্ব পালনের অনুপ্রেরণা। নির্বাচনের আগেই মাঠে, কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা, নাজমুল হোসেন মন্ডলের জনসম্পৃক্ততার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো, নির্বাচিত হওয়ার আগেই এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পাওয়ার পর কাজ করার সুযোগ থাকে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নির্বাচনের আগেই মানুষের দুর্ভোগের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়াকে তাঁর সমর্থকেরা ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, রাস্তা, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন। পাগাড় শাহসাব বাড়ি থেকে সোসাইটি রোড, জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে থাকা পাগাড় শাহসাব বাড়ি থেকে সোসাইটি রোড পর্যন্ত এলাকার পানি নিষ্কাশনের সমস্যা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ নয়, বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের স্লাব নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে খোলা ড্রেনের কারণে মানুষের চলাচলে ঝুঁকি কমে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়ে। একটি ওয়ার্ডকে বাসযোগ্য করতে রাস্তার পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেই বিষয়টিই সামনে এসেছে।
বিসিক ফকির মার্কেট, একটি সমস্যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদারকি, ৪৩ নং ওয়ার্ডের বিসিক ফকির মার্কেট এলাকাতেও দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ড্রেনের পিট নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে নাজমুল হোসেন মন্ডলকে সরেজমিনে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উন্নয়নকাজের সময় সাধারণ মানুষের চলাচলে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে, এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে ভ্যানগাড়ি না বসানো এবং দোকানের মালামাল সরিয়ে রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করা হয়। অর্থাৎ শুধু নির্মাণকাজ নয়, নির্মাণকাজ চলাকালে মানুষের দৈনন্দিন চলাচল কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
পাগাড় ফডুর বাড়ি, অভিযোগ শুনে সরেজমিনে, একজন জনসম্পৃক্ত মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় মানুষের অভিযোগ শোনার সময়। পাগাড় ফডুর বাড়ি এলাকার বেহাল রাস্তা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে সরেজমিনে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। স্থানীয়দের সমস্যা শোনেন, পরিস্থিতি দেখেন এবং বধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ধরনের সরেজমিন উপস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যে বার্তাটি দিতে চান তা হলো, মানুষের সমস্যা জানতে দূর থেকে খবর নেওয়া যথেষ্ট নয়; প্রয়োজনে সমস্যার জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে হয়। মার্চেন্ট গেট থেকে সোনারগাঁ রোড, মূল সড়কের পাশাপাশি শাখা রাস্তাতেও নজর মার্চেন্ট গেট থেকে সোনারগাঁ রোড পর্যন্ত ব্লক রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে নাজমুল হোসেন মন্ডলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল শুধু প্রধান সড়ক নয়, শাখা রাস্তাগুলোকেও উন্নয়নের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্যে শাখা রাস্তাগুলোর মাপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার-এর উদ্যোগ ও সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃত্ব ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব।
ভাঙা রাস্তা থেকে পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডের স্বপ্ন, একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন শুধু বড় সড়ক নির্মাণে শেষ হয় না। অলিগলির রাস্তা, শাখা সড়ক, ড্রেন, পথচারীর নিরাপত্তা, সবকিছু মিলেই নাগরিক জীবন। ৪৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডে। কোথাও রাস্তার সমস্যা, কোথাও ড্রেনেজ, কোথাও জলাবদ্ধতা, এভাবে বিভিন্ন এলাকার সমস্যা আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে একটি প্রত্যয় বারবার ফিরে আসে, “৪৩ নং ওয়ার্ডের সর্বত্র জায়গায় আমি কাজ করে দিতে চাই, ইনশাআল্লাহ।” এই প্রত্যয়ের সঙ্গে তিনি একটি পরিকল্পিত ওয়ার্ডের স্বপ্নের কথাও বলেন, যেখানে থাকবে উন্নত রাস্তা, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মশকনিধন, নিরাপদ চলাচল এবং নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ।
শুধু রাস্তা-ড্রেন নয়, পরিচ্ছন্নতাকেও গুরুত্ব, একটি বাসযোগ্য ওয়ার্ডের জন্য উন্নত অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। কোবানণীসহ বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য শ্রমিক নিয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুরোনো ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং মশার উপদ্রব কমাতে মশকনিধন কার্যক্রম ও ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কারণ জলাবদ্ধতা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যহানি নয়, এগুলো জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক জীবনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। নাজমুল হোসেন মন্ডলের পরিকল্পনায় তাই রাস্তা ও ড্রেনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা এবং জনস্বাস্থ্যও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মানুষের দুয়ারে দুয়ারে, গণসংযোগের অন্যরকম পাঠ. রাজনৈতিক গণসংযোগ সাধারণত নির্বাচনের সময়ই বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডে নিয়মিত গণসংযোগ, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের কথাও উঠে এসেছে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা শোনেন, পরামর্শ নেন এবং সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ রাস্তার কথা বলেন, কেউ ড্রেনের কথা, কেউ পরিচ্ছন্নতার কথা, আবার কেউ ব্যক্তিগত বা সামাজিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মানুষের কথা শোনার এই প্রক্রিয়াটিকেই তিনি জনসম্পৃক্ত রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখেন।
ঝিনুক মার্কেট ও আমবাগান, ভালোবাসার স্মৃতি, ঝিনুক মার্কেট ও আমবাগান এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। তাঁর ভাষায়, “আপনাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।” রাজনীতির ভাষায় ভালোবাসা অনেক সময় ভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যায়। কিন্তু একজন মানুষের কাছে মানুষের ভালোবাসা যদি দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়, তখন সেই সম্পর্কের অর্থ আরও গভীর হয়।
শিশুদের হাসিতে মানবিকতার স্বপ্ন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গ্লোবাল কিডস স্কুল আয়োজিত “ফল উৎসব”-এ অংশ নিয়ে শিশুদের পুষ্টি, আনন্দ ও মানবিক বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। তিনি বলেন, “পুষ্টি, আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে ছড়িয়ে দেয় এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।” শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষা দিয়ে তৈরি হয় না; প্রয়োজন পুষ্টি, নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ। এই উপলব্ধি থেকেই এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
হজ শেষে নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য দোয়া, সম্প্রতি পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে ৪৩ নং ওয়ার্ডবাসী, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। ধর্মীয় অনুভূতি ও জনসেবাকে তিনি পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখেন। তাঁর বক্তব্য, “মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।” প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে সরকারি ঘোষিত অনুদান পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবার তথ্য প্রচারের উদ্যোগও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমে দেখা গেছে।
নাগরিক সচেতনতা, জরুরি সেবার তথ্য মানুষের হাতে, জনসেবাকে শুধু রাস্তা-ড্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবার নম্বর সংরক্ষণ ও প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় জরুরি সেবা, ট্রেন, ভূমি, সরকারি তথ্য, আইনগত সহায়তা, নারী ও শিশু সহায়তাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার নম্বর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিপদের সময় সঠিক জায়গায় যোগাযোগ করতে পারা একজন সচেতন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয়, স্থানীয় জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয় রয়েছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের আয়োজিত আনন্দ মিছিলে তিনি অংশ নেন। তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ আগমন উপলক্ষেও টঙ্গীতে যুবদলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা যায়। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে জেলা বিএনপি কার্যালয়, জয়দেবপুর, গাজীপুরে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলেও তিনি অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সমস্যা নিয়ে মাঠে থাকাকেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।
প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয়ের কথা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার টঙ্গী জোনে নিয়মিত অফিস করে নাগরিক সেবা আরও গতিশীল করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, রাস্তা, ড্রেন, মেরামত ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির কাজ এগিয়ে নিতে প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, “আগে জনগণ শওকত হোসেন সরকার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন, তারপর আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি।” এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল, ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৪৩ নং ওয়ার্ড আলোর পথে যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতিকে তাঁর অনুসারীরা জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।
রাজনীতির চেয়েও বড়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, নাজমুল হোসেন মন্ডলের পথচলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় সম্ভবত এখানেই, তিনি বারবার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মায়ের দোয়া, প্রবীণের আশীর্বাদ, তরুণদের উৎসাহ, শিশুদের হাসি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা। তাঁর কাছে মানুষের ভালোবাসা শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়; এটি একটি দায়িত্ব। এই কারণেই তাঁর বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে, “মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব।”
ভবিষ্যতের ৪৩ নং ওয়ার্ড, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য ওয়ার্ডের স্বপ্ন, নাজমুল হোসেন মন্ডলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গেলে শুধু কয়েকটি রাস্তা বা ড্রেনের কথা নয়, বরং একটি সমন্বিত নাগরিক ব্যবস্থার চিত্র সামনে আসে। তিনি যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান বলে জানিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কার, শাখা সড়কের উন্নয়ন, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পরিচ্ছন্ন ড্রেন, মশকনিধন, নিরাপদ চলাচল, সুন্দর পরিবেশ, শিশু-কিশোরদের সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ।
অর্থাৎ তাঁর স্বপ্নের ওয়ার্ড শুধু ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়; বরং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। “কাউন্সিলর না হয়েও যদি কাজ করা যায়…” নাজমুল হোসেন মন্ডলের সমর্থকদের বক্তব্য, তিনি এখনও নির্বাচিত কাউন্সিলর নন। তারপরও এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জনগণের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে এই কাজ আরও পরিকল্পিত ও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যেকোনো নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের। আর সেই সিদ্ধান্তের আগে মানুষের আস্থা অর্জন, মানুষের কথা শোনা এবং মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল।
পদ নয়, আস্থাই বড় একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ দিয়ে হয় না। মূল্যায়ন হয়—
তিনি মানুষের জন্য কী করেছেন,
মানুষের কথা কতটা শুনেছেন,
বিপদের সময় কতটা পাশে দাঁড়িয়েছেন,
দায়িত্ব পাওয়ার আগেই কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং
মানুষের ভালোবাসাকে কতটা সম্মান করেছেন।
৪৩ নং ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে তাঁর সমর্থকেরা তাই কেবল একটি নির্বাচনী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে চান না। তাঁদের চোখে এটি ভবিষ্যৎ জনসম্পৃক্ততার একটি প্রস্তুতি এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। একজন মায়ের দোয়া থেকে মানুষের আস্থার গল্প, একজন মায়ের কাছে সন্তান মানে শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, সন্তান মানে বিশ্বাস, নিরাপত্তা, মায়া ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। নাজমুল হোসেন মন্ডল যখন বলেন, এলাকার মায়েরা তাঁকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন, তখন সেই কথার সঙ্গে যুক্ত হয় একটি বড় দায়িত্বের অনুভূতি। কারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যতটা আনন্দের, সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখা তার চেয়েও বড় দায়িত্ব। ৪৩ নং ওয়ার্ডের অলিগলি, রাস্তা, বাজার, মহল্লা আর মানুষের ঘর-দুয়ার ঘুরে তাঁর পথচলার গল্পে তাই একদিকে রয়েছে রাজনীতি, অন্যদিকে রয়েছে জনসেবা; একদিকে রয়েছে উন্নয়নের প্রত্যাশা, অন্যদিকে রয়েছে মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর স্বপ্ন, একটি পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, নিরাপদ, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব ৪৩ নং ওয়ার্ড।
আর তাঁর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রত্যয়, “আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই।” রাজনীতির ইতিহাসে অনেক নাম আসে, অনেক নাম হারিয়েও যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায় তখনই, যখন মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করা যায়, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো যায় এবং ক্ষমতা বা পদকে নয়—মানুষকে বড় করে দেখা যায়। নাজমুল হোসেন মন্ডলের পথচলার গল্পে তাই বারবার ফিরে আসে তিনটি শব্দ, **মায়ের দোয়া। মানুষের ভালোবাসা। জনসেবার অঙ্গীকার।** এই তিন শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ৪৩ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বলছেন।
তাঁর নিজের ভাষায়, “মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব।” আর সেই পথচলার দর্শনকে এক বাক্যে বলা যায়, “মানুষের কল্যাণেই আমার রাজনীতি, মানুষের সেবাই আমার অঙ্গীকার।” নাজমুল হোসেন মন্ডল, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, ৪৩ নং ওয়ার্ড, সদস্য সচিব, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল, যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল, উন্নয়ন • মানবিকতা • জনসেবা, ৪৩ নং ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

“আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই”

মায়ের দোয়া, মানুষের ভালোবাসা আর জনসেবার প্রত্যয়ে এক পথচলা ৪৩ নং ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডল—রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষের গল্প

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

জনপ্রতিনিধিত্ব কি শুধুই একটি পদ-পদবি? নাকি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, নাগরিকের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করা, দুর্ভোগের জায়গায় ছুটে যাওয়া এবং মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া অর্জন করাই একজন জনবান্ধব মানুষের প্রকৃত পরিচয়? টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাজমুল হোসেন মন্ডলকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এমনই এক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকা, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রাস্তা-ড্রেনের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি মুখ। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব এবং গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। কিন্তু নিজের বক্তব্যে তিনি বারবার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর একটি বাক্য যেন তাঁর পুরো পথচলার দর্শনকে ধারণ করে, “আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই।”
এই একটি বাক্যের মধ্যেই যেন রয়েছে তাঁর রাজনীতি, জনসম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল সুর। মায়ের দোয়া, এক রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে মানবিক বন্ধন, রাজনীতির মাঠে সমর্থন পাওয়া যায়, কর্মী পাওয়া যায়, মিছিল-মিটিং হয়; কিন্তু একজন মানুষের জন্য এলাকার মায়েরা যখন সন্তানের মতো মমতা প্রকাশ করেন, তখন সেই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক থাকে না, তা হয়ে ওঠে পারিবারিক ও মানবিক। নাজমুল হোসেন মন্ডলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে এলাকার মায়েদের ভালোবাসা ও দোয়ার কথা।
তিনি লিখেছেন, “একজন মা তাঁর সন্তানকে যতটুকু নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন, ঠিক ততটুকুই মায়া ও স্নেহ নিয়ে আজ এলাকার মায়েরা আগলে রেখেছেন আমাকে। আমি শুধু একজন নেতা নই, প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ আমি তাদের সন্তানের মতো জায়গা করে নিয়েছি।” এই অনুভূতির পেছনে তিনি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সহযোগিতা করার মধ্য দিয়েই একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের প্রকৃত সম্পর্ক তৈরি হয়।
তাঁর আরেকটি বক্তব্য, “মায়ের দোয়া যার সঙ্গে আছে, তার পথচলার শক্তি কখনো শেষ হয় না।” মায়ের দোয়া তাই তাঁর কাছে শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং দায়িত্ব পালনের অনুপ্রেরণা। নির্বাচনের আগেই মাঠে, কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা, নাজমুল হোসেন মন্ডলের জনসম্পৃক্ততার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো, নির্বাচিত হওয়ার আগেই এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পাওয়ার পর কাজ করার সুযোগ থাকে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নির্বাচনের আগেই মানুষের দুর্ভোগের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়াকে তাঁর সমর্থকেরা ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, রাস্তা, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন। পাগাড় শাহসাব বাড়ি থেকে সোসাইটি রোড, জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে থাকা পাগাড় শাহসাব বাড়ি থেকে সোসাইটি রোড পর্যন্ত এলাকার পানি নিষ্কাশনের সমস্যা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ নয়, বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের স্লাব নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে খোলা ড্রেনের কারণে মানুষের চলাচলে ঝুঁকি কমে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়ে। একটি ওয়ার্ডকে বাসযোগ্য করতে রাস্তার পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেই বিষয়টিই সামনে এসেছে।
বিসিক ফকির মার্কেট, একটি সমস্যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদারকি, ৪৩ নং ওয়ার্ডের বিসিক ফকির মার্কেট এলাকাতেও দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ড্রেনের পিট নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে নাজমুল হোসেন মন্ডলকে সরেজমিনে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উন্নয়নকাজের সময় সাধারণ মানুষের চলাচলে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে, এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে ভ্যানগাড়ি না বসানো এবং দোকানের মালামাল সরিয়ে রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করা হয়। অর্থাৎ শুধু নির্মাণকাজ নয়, নির্মাণকাজ চলাকালে মানুষের দৈনন্দিন চলাচল কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
পাগাড় ফডুর বাড়ি, অভিযোগ শুনে সরেজমিনে, একজন জনসম্পৃক্ত মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় মানুষের অভিযোগ শোনার সময়। পাগাড় ফডুর বাড়ি এলাকার বেহাল রাস্তা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে সরেজমিনে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। স্থানীয়দের সমস্যা শোনেন, পরিস্থিতি দেখেন এবং বধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ধরনের সরেজমিন উপস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যে বার্তাটি দিতে চান তা হলো, মানুষের সমস্যা জানতে দূর থেকে খবর নেওয়া যথেষ্ট নয়; প্রয়োজনে সমস্যার জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে হয়। মার্চেন্ট গেট থেকে সোনারগাঁ রোড, মূল সড়কের পাশাপাশি শাখা রাস্তাতেও নজর মার্চেন্ট গেট থেকে সোনারগাঁ রোড পর্যন্ত ব্লক রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে নাজমুল হোসেন মন্ডলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল শুধু প্রধান সড়ক নয়, শাখা রাস্তাগুলোকেও উন্নয়নের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্যে শাখা রাস্তাগুলোর মাপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার-এর উদ্যোগ ও সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃত্ব ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব।
ভাঙা রাস্তা থেকে পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডের স্বপ্ন, একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন শুধু বড় সড়ক নির্মাণে শেষ হয় না। অলিগলির রাস্তা, শাখা সড়ক, ড্রেন, পথচারীর নিরাপত্তা, সবকিছু মিলেই নাগরিক জীবন। ৪৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডে। কোথাও রাস্তার সমস্যা, কোথাও ড্রেনেজ, কোথাও জলাবদ্ধতা, এভাবে বিভিন্ন এলাকার সমস্যা আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে একটি প্রত্যয় বারবার ফিরে আসে, “৪৩ নং ওয়ার্ডের সর্বত্র জায়গায় আমি কাজ করে দিতে চাই, ইনশাআল্লাহ।” এই প্রত্যয়ের সঙ্গে তিনি একটি পরিকল্পিত ওয়ার্ডের স্বপ্নের কথাও বলেন, যেখানে থাকবে উন্নত রাস্তা, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মশকনিধন, নিরাপদ চলাচল এবং নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ।
শুধু রাস্তা-ড্রেন নয়, পরিচ্ছন্নতাকেও গুরুত্ব, একটি বাসযোগ্য ওয়ার্ডের জন্য উন্নত অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। কোবানণীসহ বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য শ্রমিক নিয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুরোনো ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং মশার উপদ্রব কমাতে মশকনিধন কার্যক্রম ও ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কারণ জলাবদ্ধতা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যহানি নয়, এগুলো জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক জীবনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। নাজমুল হোসেন মন্ডলের পরিকল্পনায় তাই রাস্তা ও ড্রেনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা এবং জনস্বাস্থ্যও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মানুষের দুয়ারে দুয়ারে, গণসংযোগের অন্যরকম পাঠ. রাজনৈতিক গণসংযোগ সাধারণত নির্বাচনের সময়ই বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডে নিয়মিত গণসংযোগ, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের কথাও উঠে এসেছে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা শোনেন, পরামর্শ নেন এবং সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ রাস্তার কথা বলেন, কেউ ড্রেনের কথা, কেউ পরিচ্ছন্নতার কথা, আবার কেউ ব্যক্তিগত বা সামাজিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মানুষের কথা শোনার এই প্রক্রিয়াটিকেই তিনি জনসম্পৃক্ত রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখেন।
ঝিনুক মার্কেট ও আমবাগান, ভালোবাসার স্মৃতি, ঝিনুক মার্কেট ও আমবাগান এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। তাঁর ভাষায়, “আপনাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।” রাজনীতির ভাষায় ভালোবাসা অনেক সময় ভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যায়। কিন্তু একজন মানুষের কাছে মানুষের ভালোবাসা যদি দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়, তখন সেই সম্পর্কের অর্থ আরও গভীর হয়।
শিশুদের হাসিতে মানবিকতার স্বপ্ন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গ্লোবাল কিডস স্কুল আয়োজিত “ফল উৎসব”-এ অংশ নিয়ে শিশুদের পুষ্টি, আনন্দ ও মানবিক বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। তিনি বলেন, “পুষ্টি, আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে ছড়িয়ে দেয় এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।” শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষা দিয়ে তৈরি হয় না; প্রয়োজন পুষ্টি, নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ। এই উপলব্ধি থেকেই এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
হজ শেষে নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য দোয়া, সম্প্রতি পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে ৪৩ নং ওয়ার্ডবাসী, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। ধর্মীয় অনুভূতি ও জনসেবাকে তিনি পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখেন। তাঁর বক্তব্য, “মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।” প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে সরকারি ঘোষিত অনুদান পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবার তথ্য প্রচারের উদ্যোগও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমে দেখা গেছে।
নাগরিক সচেতনতা, জরুরি সেবার তথ্য মানুষের হাতে, জনসেবাকে শুধু রাস্তা-ড্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবার নম্বর সংরক্ষণ ও প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় জরুরি সেবা, ট্রেন, ভূমি, সরকারি তথ্য, আইনগত সহায়তা, নারী ও শিশু সহায়তাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার নম্বর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিপদের সময় সঠিক জায়গায় যোগাযোগ করতে পারা একজন সচেতন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয়, স্থানীয় জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয় রয়েছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের আয়োজিত আনন্দ মিছিলে তিনি অংশ নেন। তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ আগমন উপলক্ষেও টঙ্গীতে যুবদলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা যায়। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে জেলা বিএনপি কার্যালয়, জয়দেবপুর, গাজীপুরে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলেও তিনি অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সমস্যা নিয়ে মাঠে থাকাকেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।
প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয়ের কথা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার টঙ্গী জোনে নিয়মিত অফিস করে নাগরিক সেবা আরও গতিশীল করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, রাস্তা, ড্রেন, মেরামত ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির কাজ এগিয়ে নিতে প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, “আগে জনগণ শওকত হোসেন সরকার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন, তারপর আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি।” এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল, ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৪৩ নং ওয়ার্ড আলোর পথে যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতিকে তাঁর অনুসারীরা জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।
রাজনীতির চেয়েও বড়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, নাজমুল হোসেন মন্ডলের পথচলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় সম্ভবত এখানেই, তিনি বারবার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মায়ের দোয়া, প্রবীণের আশীর্বাদ, তরুণদের উৎসাহ, শিশুদের হাসি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা। তাঁর কাছে মানুষের ভালোবাসা শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়; এটি একটি দায়িত্ব। এই কারণেই তাঁর বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে, “মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব।”
ভবিষ্যতের ৪৩ নং ওয়ার্ড, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য ওয়ার্ডের স্বপ্ন, নাজমুল হোসেন মন্ডলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গেলে শুধু কয়েকটি রাস্তা বা ড্রেনের কথা নয়, বরং একটি সমন্বিত নাগরিক ব্যবস্থার চিত্র সামনে আসে। তিনি যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান বলে জানিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কার, শাখা সড়কের উন্নয়ন, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পরিচ্ছন্ন ড্রেন, মশকনিধন, নিরাপদ চলাচল, সুন্দর পরিবেশ, শিশু-কিশোরদের সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ।
অর্থাৎ তাঁর স্বপ্নের ওয়ার্ড শুধু ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়; বরং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। “কাউন্সিলর না হয়েও যদি কাজ করা যায়…” নাজমুল হোসেন মন্ডলের সমর্থকদের বক্তব্য, তিনি এখনও নির্বাচিত কাউন্সিলর নন। তারপরও এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জনগণের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে এই কাজ আরও পরিকল্পিত ও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যেকোনো নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের। আর সেই সিদ্ধান্তের আগে মানুষের আস্থা অর্জন, মানুষের কথা শোনা এবং মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল।
পদ নয়, আস্থাই বড় একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ দিয়ে হয় না। মূল্যায়ন হয়—
তিনি মানুষের জন্য কী করেছেন,
মানুষের কথা কতটা শুনেছেন,
বিপদের সময় কতটা পাশে দাঁড়িয়েছেন,
দায়িত্ব পাওয়ার আগেই কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং
মানুষের ভালোবাসাকে কতটা সম্মান করেছেন।
৪৩ নং ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে তাঁর সমর্থকেরা তাই কেবল একটি নির্বাচনী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে চান না। তাঁদের চোখে এটি ভবিষ্যৎ জনসম্পৃক্ততার একটি প্রস্তুতি এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। একজন মায়ের দোয়া থেকে মানুষের আস্থার গল্প, একজন মায়ের কাছে সন্তান মানে শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, সন্তান মানে বিশ্বাস, নিরাপত্তা, মায়া ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। নাজমুল হোসেন মন্ডল যখন বলেন, এলাকার মায়েরা তাঁকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন, তখন সেই কথার সঙ্গে যুক্ত হয় একটি বড় দায়িত্বের অনুভূতি। কারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যতটা আনন্দের, সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখা তার চেয়েও বড় দায়িত্ব। ৪৩ নং ওয়ার্ডের অলিগলি, রাস্তা, বাজার, মহল্লা আর মানুষের ঘর-দুয়ার ঘুরে তাঁর পথচলার গল্পে তাই একদিকে রয়েছে রাজনীতি, অন্যদিকে রয়েছে জনসেবা; একদিকে রয়েছে উন্নয়নের প্রত্যাশা, অন্যদিকে রয়েছে মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর স্বপ্ন, একটি পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, নিরাপদ, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব ৪৩ নং ওয়ার্ড।
আর তাঁর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রত্যয়, “আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই।” রাজনীতির ইতিহাসে অনেক নাম আসে, অনেক নাম হারিয়েও যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায় তখনই, যখন মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করা যায়, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো যায় এবং ক্ষমতা বা পদকে নয়—মানুষকে বড় করে দেখা যায়। নাজমুল হোসেন মন্ডলের পথচলার গল্পে তাই বারবার ফিরে আসে তিনটি শব্দ, **মায়ের দোয়া। মানুষের ভালোবাসা। জনসেবার অঙ্গীকার।** এই তিন শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ৪৩ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বলছেন।
তাঁর নিজের ভাষায়, “মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব।” আর সেই পথচলার দর্শনকে এক বাক্যে বলা যায়, “মানুষের কল্যাণেই আমার রাজনীতি, মানুষের সেবাই আমার অঙ্গীকার।” নাজমুল হোসেন মন্ডল, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, ৪৩ নং ওয়ার্ড, সদস্য সচিব, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল, যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল, উন্নয়ন • মানবিকতা • জনসেবা, ৪৩ নং ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়।