তারেক রহমানের আহ্বানে জাগ্রত টঙ্গী — শহরজুড়ে দেশপ্রেম, উচ্ছ্বাস ও মানুষের ঢল; গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জনতার অঙ্গীকারে প্রতিধ্বনিত হলো “জিয়া তারেক জিয়া, খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ” ধ্বনি
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যের অগ্নিশপথ: বিপ্লব ও সংহতি দিবসে টঙ্গীতে সালাউদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ র্যালি
- আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৫০ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীতে শুক্রবার বিকেলে এক ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো জনতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৬ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব সালাউদ্দিন সরকার-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ও বর্ণাঢ্য র্যালি। এই দিনটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্মরণিকা নয়-এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের আত্মদায়বদ্ধতার প্রতীক। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫—বাংলার ইতিহাসে এক অবিনশ্বর দিন, যখন সৈনিক-জনতা মিলে দেশমাতৃকার মুক্তির মশাল জ্বালিয়েছিল। সেই চেতনার উত্তরাধিকার আজ টঙ্গীর রাস্তায় নবজাগরণের রূপে ফিরে এসেছে।

অতীতের গৌরব, বর্তমানের জাগরণ, বিকেল ৪টা নাগাদ টঙ্গীর কলেজগেট চেয়ারম্যানবাড়ি প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকে হাজারো মানুষ। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে একত্রিত হয় সালাউদ্দিন সরকারের টঙ্গীস্থ বাসভবনে, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় জনস্রোতে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক জুড়ে দেখা যায় মানুষ, পতাকা, ব্যানার আর ঢোলের সমবেত শব্দে গর্জে ওঠা টঙ্গী শহর। কেউ ঘোড়ার গাড়িতে, কেউ ট্রাকে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউবা পতাকা হাতে পায়ে হেঁটে – সবাই এক লক্ষ্য, এক প্রতিজ্ঞায় একত্রিত: গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের পুনর্জাগরণ।
স্থানীয়দের মতে, গত ৫১ বছরে টঙ্গী-গাজীপুর অঞ্চলে এত বিশাল জনসমাবেশ আর কখনও দেখা যায়নি। সন্ধ্যা নামার আগেই টঙ্গীর আকাশে ভেসে উঠেছিল “জিয়া তারেক জিয়া”, “খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ”, “ধানের শীষের জয় হোক” এই ধ্বনিতে মুখর এক আবেগঘন পরিবেশ।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আলহাজ্ব সালাউদ্দিন সরকার বলেন, “৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই দিন জাতি দেশপ্রেম, ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। আজও আমাদের সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করে এসেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের গুরুত্ব।”
তার বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিই আজ জাতির মুক্তির রূপরেখা। “এই দফাগুলো শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়,” তিনি বলেন, “এগুলো হচ্ছে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র, সুশাসন ও মানুষের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার।”
জনতার ঢল, উল্লাস ও দেশপ্রেমের উৎসব, মিছিলজুড়ে ছিল রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, নীল-সাদা বেলুন ও খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি। তরুণ-যুবকদের উচ্ছ্বাস, নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রবীণদের গর্ব-সব মিলিয়ে পুরো টঙ্গী যেন এক নবযাত্রার মঞ্চে পরিণত হয়। সঙ্গীতের তালে, ঢোলের শব্দে, পতাকার দোলায় টঙ্গীর প্রতিটি অলিগলি প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বানে। র্যালিটি কলেজগেট থেকে টঙ্গী বাজার, মিলগেট, প্রেসক্লাব, চেরাগআলী হয়ে আবার কলেজগেটে এসে শেষ হয়। সমাপ্তির সময় আকাশে ফুটে ওঠে আতশবাজি, আর জনগণের মুখে ধ্বনিত হয়। “দেশ বাঁচাতে চাই ঐক্য, গণতন্ত্র আনতে চাই সালাউদ্দিন সরকারকে ধানের শীষে।”
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সালাউদ্দিন সরকার বলেন, “আমি বিশ্বাস করি বিএনপি আমাকে গাজীপুর-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার মূল শক্তি।”
তিনি টঙ্গীবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান, “আসুন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার করি—
দেশকে ফিরিয়ে দিই স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনায়, জিয়ার আদর্শে।”
৭ নভেম্বর শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, এটি ভবিষ্যতের আহ্বান। যেমন একদা সৈনিক-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল জাতির অস্তিত্ব রক্ষায়, আজ সেই আহ্বান আবার এসেছে— গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। টঙ্গীর এই বিশাল জনজোয়ার প্রমাণ করেছে, বিএনপির শেকড় এখনও জনগণের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। এ যেন এক নবজাগরণের অগ্নিশপথ, এক নতুন প্রভাতের সূচনা।











