ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন মানুষের পাশে থাকা, সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে হাজী আব্দুল জব্বার সরকার ফল বিক্রির সামান্য আয়, তবুও দলের কর্মসূচিতে নিজের উপার্জন ব্যয় মাদকবিরোধী অবস্থানে আপসহীন আবুল হোসেন খলিফা, মামলা নিয়ে প্রশ্ন রাজনীতিতে আদর্শ, জীবনে কুরআনের আলো হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের স্বপ্ন মানুষ গড়ার মন্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খোকন

খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ

md younus
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৮৯ বার পড়া হয়েছে




জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সম্পন্ন হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। এই জানাজায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। উপস্থিতির দিক থেকে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা শেষ হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্র ছড়িয়ে পড়ে বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরেবাংলা নগর, কলেজগেট, আসাদগেট ও শাহবাগের দিকেও। ভবনের ছাদ, ওভারব্রিজ এবং উঁচু জায়গা যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই মানুষ দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড়ের কারণে অনেকে সময়মতো জানাজাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
অনেকের মতে, নিকট অতীতে এমন বিশাল জানাজা দেশবাসী দেখেনি। শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসেও কোনো মুসলিম নারীর জানাজায় এত বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ বিরল ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানাজার আগে খালেদা জিয়ার মরদেহ সকাল সাড়ে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। লাল সবুজের পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি সেখানে প্রবেশের সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে নীরবতা। জানাজাস্থলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে দেওয়া তার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা উপস্থিত মানুষের আবেগ আরও গভীর করে তোলে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর তারেক রহমানের কাছে ভারতের পক্ষ থেকে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন বলে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মাও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন।
জানাজা ও দাফন ঘিরে মঙ্গলবার রাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জানাজার পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার কার্যক্রম শুরু হয়। দাফনকাজ নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সম্পন্ন হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। এই জানাজায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। উপস্থিতির দিক থেকে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা শেষ হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্র ছড়িয়ে পড়ে বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরেবাংলা নগর, কলেজগেট, আসাদগেট ও শাহবাগের দিকেও। ভবনের ছাদ, ওভারব্রিজ এবং উঁচু জায়গা যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই মানুষ দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড়ের কারণে অনেকে সময়মতো জানাজাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
অনেকের মতে, নিকট অতীতে এমন বিশাল জানাজা দেশবাসী দেখেনি। শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসেও কোনো মুসলিম নারীর জানাজায় এত বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ বিরল ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানাজার আগে খালেদা জিয়ার মরদেহ সকাল সাড়ে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। লাল সবুজের পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি সেখানে প্রবেশের সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে নীরবতা। জানাজাস্থলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে দেওয়া তার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা উপস্থিত মানুষের আবেগ আরও গভীর করে তোলে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর তারেক রহমানের কাছে ভারতের পক্ষ থেকে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন বলে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মাও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন।
জানাজা ও দাফন ঘিরে মঙ্গলবার রাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জানাজার পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার কার্যক্রম শুরু হয়। দাফনকাজ নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়।