চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, ধর্মীয় ও মানবিক উদ্যোগে গাজীপুরের ৫১নং ওয়ার্ডে ডা. মো. সজীব খানের বহুমাত্রিক সামাজিক সম্পৃক্ততার গল্প
মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারে এক চিকিৎসকের পথচলা
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৮০ বার পড়া হয়েছে

কিছু মানুষের পরিচয় তাঁদের পদবি দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে তৈরি হয়। কেউ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের শরীরের ব্যথা কমান, কেউ শিক্ষক হয়ে জ্ঞানের আলো ছড়ান, আবার কেউ সমাজের প্রয়োজনকে নিজের দায়িত্ব মনে করে নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ান। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডা. মো. সজীব খান এম.বিবি.এস, সেএমইউ পিজিটি(মেডিসিন)–এর জীবনপথকে অনেকেই এই তৃতীয় পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর পরিবার থেকেও মানবসেবা, অতিথিপরায়ণতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা তিনি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠজনেরা উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, সমাজসেবার এই ধারা কোনো একদিনে শুরু হয়নি; বরং বহু বছর ধরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মূল্যবোধের অংশ হিসেবেই গড়ে উঠেছে।
মানবসেবা একটি পারিবারিক উত্তরাধিকার। ডা. মো. সজীব খানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তাঁর প্রয়াত পিতা মরহুম মো. সেলিম খান স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই তাঁকে শেখানো হয়েছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অতিথিকে সম্মান করা, প্রতিবেশীর কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করা এবং সমাজের কল্যাণে যতটুকু সম্ভব অবদান রাখা। এই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চিকিৎসা পেশার সঙ্গে মিশে যায়। ফলে চিকিৎসা তাঁর পেশা হলেও, মানুষের পাশে থাকা হয়ে ওঠে তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।
চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ। স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন সময়ে তিনি বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণের উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসহায়তায় ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার ঘটনাও এলাকাবাসী উল্লেখ করেন।
বন্যা, মৌসুমি দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসচেতনতা, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বানও তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।
রমজান ও ঈদে সামাজিক সহমর্মিতা। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে তিনি এলাকাবাসীর মধ্যে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচিসহ রমজান ক্যালেন্ডার বিতরণ করেন। একই সঙ্গে রোজাদারদের সুবিধার্থে ধর্মীয় সময়সূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে পোশাক, সেমাই, খাদ্যসামগ্রী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপহার বিতরণেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মতে, এসব উদ্যোগ নির্বাচনী সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ।
শিক্ষা ও মেধার বিকাশে সহযোগিতা। এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ, পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সহায়তা, মেধাবীদের সম্মাননা এবং শিক্ষা-উৎসাহমূলক কার্যক্রমেও তাঁর অংশগ্রহণ দেখা যায়।
তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সামাজিক সম্প্রীতি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, হা-ডু-ডুসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে আয়োজকেরা জানান। তাঁর বক্তব্যে একাধিকবার উঠে এসেছে সুস্থ সমাজ গঠনে খেলাধুলা, শৃঙ্খলা এবং মাদকবিরোধী সচেতনতার গুরুত্ব।
পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ওয়ার্ডের প্রত্যাশা। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, অবৈধ ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগে অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, ড্রেনেজ, পানি নিষ্কাশন, রাস্তার আলোকায়ন এবং মশক নিয়ন্ত্রণের মতো নাগরিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
মানুষের আস্থার মূল্য। যেকোনো সমাজে একজন মানুষের কাজের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত করেন সেই সমাজের মানুষই। ডা. মো. সজীব খানের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। কেউ তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে চেনেন, কেউ সমাজসেবক হিসেবে, আবার কেউ একজন সহজপ্রাপ্য প্রতিবেশী হিসেবে স্মরণ করেন। একজন স্থানীয় প্রবীণের ভাষায়, “মানুষের পাশে দাঁড়ানো যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে সেটাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে।”
একটি সমাজের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, ক্রীড়া, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক সহমর্মিতাও সেই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্থানীয়দের বর্ণনায় ডা. মো. সজীব খানের বিভিন্ন উদ্যোগ সেই ক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত সমাজ ও সময়ই নির্ধারণ করবে।










