ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়া সংসদের আয়োজনে ‘জিয়া এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংগঠনিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাসুদ রানা বিএনপির র‌্যলিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে কাজী হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে যুবদলের বিশাল শোডাউন ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে শেখ মোঃ সুমনের নেতৃত্বে যুবদলের বিশাল শোডাউন ৭ নভেম্বর উপলক্ষে শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি বেনজির রহমান পিন্টুর শ্রদ্ধা নিবেদন নেতৃত্বের সৌন্দর্য পদমর্যাদায় নয়, কর্মীদের ভালোবাসায় ৭ নভেম্বরের র‍্যালিতে নাজমুল হোসেন মন্ডল শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত কামাল উদ্দিন খাইলকুর বাদশাহ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির

md younus
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০১৭ বার পড়া হয়েছে




ছবি, সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যের শুরুতে একটি ছোট গল্প দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। গল্পে তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এক বিচারক একটি হত্যা মামলার রায় দিতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলছিলেন। পরে জানা গেল, পেছন থেকে দড়ি টানার সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে।’ এই গল্পের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন যে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? জাতি বুঝে।
সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, একসময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোস্ত হালাল, কিন্তু শুরুটা ঝোলটা তার হারাম। আমরা এটা এবিষয়ে পার্লামেন্টে বলেছি, কিন্তু আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ সুযোগ পাই না পাই আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি, কারণ জনগণ আমাদেরকে তো তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে সেখানে পাঠিয়েছে।
তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জুলাই নাই আমরাও নাই। জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ।
গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য আবার জীবন দিতে হলে দেব, ইনশাআল্লাহ।’
নিজেদের সংসদে ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে, স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেব, নেবই না, যেটা না নিয়ে পারবো না সেইটা নেব, বাধ্য হবো যেটাতে। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না। আমরা এখনও নীতিতে অটল আছি।
‘এই গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। প্রায় ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ শহীদের বাড়িতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি সজ্ঞানে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে এই শহীদদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তারা কি কৌটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কৌটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ, ছাত্র সমাজ। তারা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তারা গুনে ধরা রাজনীতির হালের জন্য জীবন দিতে রাস্তায় নামেনি’-উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে, শহীদদের রক্তের সাথে তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘আপনারা শুধু পাশে থাকবেন, দেশবাসী। এই আন্দোলন আমার জন্যে, আপনাদের জন্য, সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কারো গোলাম বানাতে চাই না এবং কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে চলবে জাতির উপর ফ্যাসিজম হিসেবে তাও আমরা বরদাস্ত করব না।
ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতির এই দুষ্টচক্র ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সংসদের এক-তৃতীয়াংশ সময় একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় ব্যয় হোক, এটা তারা আর দেখতে বা শুনতে চান না। তিনি বলেন, ‘প্রশংসা হবে জনগণের, সংসদের ভিতরে কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে, সেখানে বসে খোলামেলা সমাধান বের হয়ে আসতে হবে। এইটাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো কিছুর চর্চা হোক সংগঠনের, সংসদের ভিতরে আমরা এটা চাই না।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখন সংসদে দেখতে পাচ্ছি। ওই সংসদে দাঁড়িয়ে আজকে যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যেভাবে কথা বলা হতো, আজকে দুই একজন আমাদেরকে লক্ষ্য করে সেই রকম কথা বলা শুরু করেছে। আমরা তাদেরকে বলি, জিব্বা সংযত করুন। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেই প্রজন্ম, যেই দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারো চক্রাঙ্গানির পরোয়া করে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ছবি, সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যের শুরুতে একটি ছোট গল্প দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। গল্পে তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এক বিচারক একটি হত্যা মামলার রায় দিতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলছিলেন। পরে জানা গেল, পেছন থেকে দড়ি টানার সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে।’ এই গল্পের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন যে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? জাতি বুঝে।
সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, একসময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোস্ত হালাল, কিন্তু শুরুটা ঝোলটা তার হারাম। আমরা এটা এবিষয়ে পার্লামেন্টে বলেছি, কিন্তু আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ সুযোগ পাই না পাই আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি, কারণ জনগণ আমাদেরকে তো তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে সেখানে পাঠিয়েছে।
তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জুলাই নাই আমরাও নাই। জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ।
গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য আবার জীবন দিতে হলে দেব, ইনশাআল্লাহ।’
নিজেদের সংসদে ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে, স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেব, নেবই না, যেটা না নিয়ে পারবো না সেইটা নেব, বাধ্য হবো যেটাতে। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না। আমরা এখনও নীতিতে অটল আছি।
‘এই গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। প্রায় ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ শহীদের বাড়িতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি সজ্ঞানে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে এই শহীদদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তারা কি কৌটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কৌটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ, ছাত্র সমাজ। তারা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তারা গুনে ধরা রাজনীতির হালের জন্য জীবন দিতে রাস্তায় নামেনি’-উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে, শহীদদের রক্তের সাথে তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘আপনারা শুধু পাশে থাকবেন, দেশবাসী। এই আন্দোলন আমার জন্যে, আপনাদের জন্য, সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কারো গোলাম বানাতে চাই না এবং কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে চলবে জাতির উপর ফ্যাসিজম হিসেবে তাও আমরা বরদাস্ত করব না।
ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতির এই দুষ্টচক্র ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সংসদের এক-তৃতীয়াংশ সময় একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় ব্যয় হোক, এটা তারা আর দেখতে বা শুনতে চান না। তিনি বলেন, ‘প্রশংসা হবে জনগণের, সংসদের ভিতরে কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে, সেখানে বসে খোলামেলা সমাধান বের হয়ে আসতে হবে। এইটাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো কিছুর চর্চা হোক সংগঠনের, সংসদের ভিতরে আমরা এটা চাই না।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখন সংসদে দেখতে পাচ্ছি। ওই সংসদে দাঁড়িয়ে আজকে যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যেভাবে কথা বলা হতো, আজকে দুই একজন আমাদেরকে লক্ষ্য করে সেই রকম কথা বলা শুরু করেছে। আমরা তাদেরকে বলি, জিব্বা সংযত করুন। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেই প্রজন্ম, যেই দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারো চক্রাঙ্গানির পরোয়া করে না।