ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন মানুষের পাশে থাকা, সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে হাজী আব্দুল জব্বার সরকার ফল বিক্রির সামান্য আয়, তবুও দলের কর্মসূচিতে নিজের উপার্জন ব্যয় মাদকবিরোধী অবস্থানে আপসহীন আবুল হোসেন খলিফা, মামলা নিয়ে প্রশ্ন রাজনীতিতে আদর্শ, জীবনে কুরআনের আলো হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের স্বপ্ন মানুষ গড়ার

১১২/১, হাসান লেন, ইসলামপুর, (দত্তপাড়া ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ দিকে) টঙ্গী, গাজীপুর, “নিশ্চয়ই আমি এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।” সূরা আল-হিজর : ৯

কুরআনের আমানত কার কাঁধে? বোর্ড পরীক্ষার কাঠগড়ায় মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার কুরআনের পাখিরা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৭৯ বার পড়া হয়েছে




এই আয়াত শুধু একটি ঘোষণা নয়, এটি একটি চলমান ঐতিহাসিক বাস্তবতা। যুগে যুগে যেসব মানুষ বুকের ভেতর কুরআন ধারণ করে, তারাই এই ঐশী সংরক্ষণের মানবিক বাহক। আজ সেই ধারাবাহিকতায় বোর্ড পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। যাদের সমাজ ভালোবেসে ডাকে কুরআনের পাখি।
মুখস্থ নয়, আমানতের বিচারে হিফজ বোর্ড পরীক্ষা কোনো সাধারণ একাডেমিক পরীক্ষা নয়। এটি স্মৃতিশক্তির নয়, আমানত বহনের যোগ্যতার বিচার। কারণ কুরআন মুখস্থ করা মানে শুধু আয়াত ধারণ করা নয়, বরং আল্লাহর বাণীকে জীবনে ধারণ করা।
রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, “কুরআনের অধিকারীদেরকে কেয়ামতের দিন বলা হব। পড়তে থাকো এবং উপরে উঠতে থাকো।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)। এই হাদিসের আলোকে বিচার করলে বোঝা যায়, এই পরীক্ষার ফল শুধু সনদে সীমাবদ্ধ নয়; এর ফল নির্ধারিত হয় আখিরাতেও।
এই গুরুদায়িত্বকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এইচ এম মাইনুদ্দিন-এর তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠান হিফজকে কেবল পাঠ্যসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাজবিদ, আদব, আমল ও তাকওয়াকে করেছে মৌলিক ভিত্তি। প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত দাওর, মুরাকাবা, শুদ্ধ কিরাআত ও চরিত্র গঠনের পাঠ স্পষ্ট করে—এখানে প্রস্তুতি মানে শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নয়; বরং আল্লাহর দরবারে জবাবদিহির প্রস্তুতি।
কুরআনের বাহক : সম্মান না কি ভার? আল্লাহ তায়ালা বলেন, “বরং এটি সম্মানিত কুরআন, সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।” (সূরা আল-বুরুজ : ২১–২২) যে কুরআন লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত, তা বুকে ধারণ করা একদিকে সম্মান, অন্যদিকে বিশাল দায়িত্ব। নবী বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআন শিখে, তারপর তা ভুলে যায়, সে বড় অপরাধ করেছে।” (আবু দাউদ)। এই হাদিসের আলোয় বিচার করলে বোঝা যায়, হিফজ পরীক্ষার আসল কাঠগড়া হলো ধারাবাহিক আমল ও হেফাজত।
বিচার এখানেও থামে না এই বিচার শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বরং শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সমাজেরও। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা আত-তাহরিম : ৬)। এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগই হচ্ছে সন্তানকে কুরআনের আলোয় গড়ে তোলা। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা এই আয়াতের দায় বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে নির্দিষ্ট দিনে। কিন্তু কুরআনের বিচারে ফল শুরু হয় পরীক্ষার আগেই চরিত্রে, আচরণে ও আমলে। রাসূলুল্লাহ বলেন, “এই কুরআন তোমার পক্ষে সাক্ষী হবে অথবা তোমার বিরুদ্ধে।” (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসই শেষ বিচারের চূড়ান্ত মানদণ্ড। বোর্ড পরীক্ষার এই সন্ধিক্ষণে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার কুরআনের পাখিরা শুধু পরীক্ষার্থী নয়, তারা উম্মাহর আমানত। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের ইলমকে নূর বানান, আমলকে কবুল করেন এবং কুরআনের খেদমতে কবুলযোগ্য বানান। এই দোয়াই সকলের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১১২/১, হাসান লেন, ইসলামপুর, (দত্তপাড়া ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ দিকে) টঙ্গী, গাজীপুর, “নিশ্চয়ই আমি এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।” সূরা আল-হিজর : ৯

কুরআনের আমানত কার কাঁধে? বোর্ড পরীক্ষার কাঠগড়ায় মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার কুরআনের পাখিরা

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

এই আয়াত শুধু একটি ঘোষণা নয়, এটি একটি চলমান ঐতিহাসিক বাস্তবতা। যুগে যুগে যেসব মানুষ বুকের ভেতর কুরআন ধারণ করে, তারাই এই ঐশী সংরক্ষণের মানবিক বাহক। আজ সেই ধারাবাহিকতায় বোর্ড পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। যাদের সমাজ ভালোবেসে ডাকে কুরআনের পাখি।
মুখস্থ নয়, আমানতের বিচারে হিফজ বোর্ড পরীক্ষা কোনো সাধারণ একাডেমিক পরীক্ষা নয়। এটি স্মৃতিশক্তির নয়, আমানত বহনের যোগ্যতার বিচার। কারণ কুরআন মুখস্থ করা মানে শুধু আয়াত ধারণ করা নয়, বরং আল্লাহর বাণীকে জীবনে ধারণ করা।
রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, “কুরআনের অধিকারীদেরকে কেয়ামতের দিন বলা হব। পড়তে থাকো এবং উপরে উঠতে থাকো।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)। এই হাদিসের আলোকে বিচার করলে বোঝা যায়, এই পরীক্ষার ফল শুধু সনদে সীমাবদ্ধ নয়; এর ফল নির্ধারিত হয় আখিরাতেও।
এই গুরুদায়িত্বকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এইচ এম মাইনুদ্দিন-এর তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠান হিফজকে কেবল পাঠ্যসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাজবিদ, আদব, আমল ও তাকওয়াকে করেছে মৌলিক ভিত্তি। প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত দাওর, মুরাকাবা, শুদ্ধ কিরাআত ও চরিত্র গঠনের পাঠ স্পষ্ট করে—এখানে প্রস্তুতি মানে শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নয়; বরং আল্লাহর দরবারে জবাবদিহির প্রস্তুতি।
কুরআনের বাহক : সম্মান না কি ভার? আল্লাহ তায়ালা বলেন, “বরং এটি সম্মানিত কুরআন, সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।” (সূরা আল-বুরুজ : ২১–২২) যে কুরআন লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত, তা বুকে ধারণ করা একদিকে সম্মান, অন্যদিকে বিশাল দায়িত্ব। নবী বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআন শিখে, তারপর তা ভুলে যায়, সে বড় অপরাধ করেছে।” (আবু দাউদ)। এই হাদিসের আলোয় বিচার করলে বোঝা যায়, হিফজ পরীক্ষার আসল কাঠগড়া হলো ধারাবাহিক আমল ও হেফাজত।
বিচার এখানেও থামে না এই বিচার শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বরং শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সমাজেরও। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা আত-তাহরিম : ৬)। এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগই হচ্ছে সন্তানকে কুরআনের আলোয় গড়ে তোলা। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা এই আয়াতের দায় বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে নির্দিষ্ট দিনে। কিন্তু কুরআনের বিচারে ফল শুরু হয় পরীক্ষার আগেই চরিত্রে, আচরণে ও আমলে। রাসূলুল্লাহ বলেন, “এই কুরআন তোমার পক্ষে সাক্ষী হবে অথবা তোমার বিরুদ্ধে।” (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসই শেষ বিচারের চূড়ান্ত মানদণ্ড। বোর্ড পরীক্ষার এই সন্ধিক্ষণে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার কুরআনের পাখিরা শুধু পরীক্ষার্থী নয়, তারা উম্মাহর আমানত। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের ইলমকে নূর বানান, আমলকে কবুল করেন এবং কুরআনের খেদমতে কবুলযোগ্য বানান। এই দোয়াই সকলের।