ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে টঙ্গীর রাজপথে বিএনপির বিক্ষোভ মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপই হবে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভিত্তি- সোহেল চৌধুরী ময়লা দেখলেই থেমে যান, হাতে তুলে নেন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব টঙ্গীর রাজপথে সুমন-টিপুর নেতৃত্বে যুবদলের বিক্ষোভ ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালালো হুতিরা গরু চুরির অভিযোগ থেকে পাল্টা মামলা সারের জন্য ফুঁসে উঠছে কৃষক সরকারি হাসপাতালে বিকল অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি কালিয়াকৈরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম, সম্মতি ভারতের

গণভোট-সনদ জনগণ বোঝে না, সব সংকটই নাটক: মির্জা ফখরুল

md younus
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২৩৬ বার পড়া হয়েছে




ঠাকুরগাঁওয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে চলমান সব সংকট ‘তৈরি করা নাটক’। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের নয়, তাই জনগণের কষ্টও তারা বোঝে না।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে যত সংকট দেখছেন—সবই তৈরি করা নাটক। জনগণ এসব বোঝে না, তারা শুধু ভোট দিতে চায়। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এই অধিকারই জনগণ চায়।”
গণভোট ও সনদ ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গণভোট হতে হবে নির্বাচনের দিনেই। গণভোট-সনদ আমরা বুঝলেও জনগণ বোঝে না। এগুলো বোঝে শিক্ষিত মানুষ। কিছু লোক বিদেশ থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা পরিবর্তনের পক্ষে, কিন্তু যে পরিবর্তনে একমত নই, তা নির্বাচিত সংসদে বিতর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত হোক।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “সব সংস্কারে আমরা রাজি, কিন্তু যা মানি না, সেটাও সংসদে গিয়ে পাস হয়ে যায়—এটাই এখনকার বাস্তবতা।” তিনি দাবি করেন, “বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন ও অনির্বাচিত হওয়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা তারা বুঝতে পারে না।”
কৃষকের দুরবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বর্তমানে আলু, বেগুন, করলাসহ সব ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকের প্রতিটি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্য দামে সার ও উপকরণ, আর পরিবারগুলো নিত্যপণ্য পেতে পারে।”
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা আপনারা চেনেন, সেটিও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে বেছে নিতে হবে। এটা আমার শেষ নির্বাচন, এরপর আর শক্তি থাকবে না। আমার শেষ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণহত্যাকারীদের পরাজয়ের নির্বাচন। আমরা ১৫ বছর ধরে ভোট দিতে পারিনি, এবারের নির্বাচনই আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সুযোগ।”
সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল হামিদ, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গণভোট-সনদ জনগণ বোঝে না, সব সংকটই নাটক: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৮:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে চলমান সব সংকট ‘তৈরি করা নাটক’। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের নয়, তাই জনগণের কষ্টও তারা বোঝে না।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে যত সংকট দেখছেন—সবই তৈরি করা নাটক। জনগণ এসব বোঝে না, তারা শুধু ভোট দিতে চায়। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এই অধিকারই জনগণ চায়।”
গণভোট ও সনদ ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গণভোট হতে হবে নির্বাচনের দিনেই। গণভোট-সনদ আমরা বুঝলেও জনগণ বোঝে না। এগুলো বোঝে শিক্ষিত মানুষ। কিছু লোক বিদেশ থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা পরিবর্তনের পক্ষে, কিন্তু যে পরিবর্তনে একমত নই, তা নির্বাচিত সংসদে বিতর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত হোক।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “সব সংস্কারে আমরা রাজি, কিন্তু যা মানি না, সেটাও সংসদে গিয়ে পাস হয়ে যায়—এটাই এখনকার বাস্তবতা।” তিনি দাবি করেন, “বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন ও অনির্বাচিত হওয়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা তারা বুঝতে পারে না।”
কৃষকের দুরবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বর্তমানে আলু, বেগুন, করলাসহ সব ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকের প্রতিটি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্য দামে সার ও উপকরণ, আর পরিবারগুলো নিত্যপণ্য পেতে পারে।”
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা আপনারা চেনেন, সেটিও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে বেছে নিতে হবে। এটা আমার শেষ নির্বাচন, এরপর আর শক্তি থাকবে না। আমার শেষ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণহত্যাকারীদের পরাজয়ের নির্বাচন। আমরা ১৫ বছর ধরে ভোট দিতে পারিনি, এবারের নির্বাচনই আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সুযোগ।”
সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল হামিদ, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।