চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস ও নাওজোড়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন; শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

শিল্পাঞ্চলখ্যাত গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস ও নাওজোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন তাঁরা। এ সময় গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বক্তব্য ও দাবিদাওয়া শোনেন এবং ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আমরা একমত। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি এবং এ-সংক্রান্ত আইনগত উদ্যোগও সংসদে নেওয়া হয়েছে। তাই কোনো উসকানি বা ষড়যন্ত্রে পা না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা, নৈরাজ্য কিংবা নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী মহলের একটি অংশ শ্রমিকদের আবেগ ও আন্দোলনকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
এ সময় শওকত হোসেন সরকার বলেন, সরকার শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে সচেতন। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখাও সবার দায়িত্ব। শ্রমিকদের পাশে সরকার ছিল, আছে এবং থাকবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নয়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, মতবিনিময় এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন মন্ডল নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শ্রমিকদের পাশে থেকে তাঁদের কথা শোনেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান। তাঁর নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কার্যক্রমে অংশ নেন।
সার্বিকভাবে নেতৃবৃন্দের এ তৎপরতায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি ও নাশকতার আশঙ্কা মোকাবিলায় রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁদের প্রত্যাশা, শ্রমিক, মালিক, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত সহযোগিতায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ অটুট থাকবে।














