ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের স্পষ্ট বার্তা: ব্যক্তি অপকর্মের দায় নয় সংগঠনের মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল করেছেন সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র আল-কুরআন। এই কুরআন মানবজীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা ও উপদেশের গ্রন্থ। নিচে কুরআনের আলোকে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ তুলে ধরা হলো— তৃণমূলের শক্তি, ঐক্যের প্রতীক টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের নিরলস সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা টঙ্গীতে আইন-শৃঙ্খলার কঠোর বার্তা: ‘জার্মান বাদল’ গ্রেফতার, অপরাধ দমনে সক্রিয় টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ টঙ্গীতে খাল দখল ও জমি নিয়ে অভিযোগ: ‘ছায়াকুঞ্জ’ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক, আদালতে মামলা এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

৭২/২০২৪ ও ৮৯৩/২০২৪ মামলা বিচারাধীন; তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের

টঙ্গীতে খাল দখল ও জমি নিয়ে অভিযোগ: ‘ছায়াকুঞ্জ’ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক, আদালতে মামলা

টঙ্গী/গাজীপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৬৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় খাল দখল, জমি ভরাট এবং দলিল সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুটিয়াব্রিজ থেকে ভাকরাল ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের অংশবিশেষ ভরাট করে ‘ছায়াকুঞ্জ’ নামের একটি আবাসিক প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খালের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং মাটি ভরাটের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এই খালটি ছিল এলাকার সেচ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উৎস। বর্তমানে খালের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় তারা সেচ সংকটে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খাল সংলগ্ন কিছু জমি নিয়ে বিরোধ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং এসব জমি পরবর্তীতে আবাসিক প্লট হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভরশীল।
জমি সংক্রান্ত পৃথক ঘটনায় হাজী মোঃ নাঈম হাসান নামে এক ব্যবসায়ী গাজীপুর দায়রা জজ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছেন—৭২/২০২৪ ও ৮৯৩/২০২৪—যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার অভিযোগে জমির মালিকানা ও হস্তান্তর নিয়ে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
বিভিন্ন সূত্রে মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ও শহীদ রেজার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি খাল বা জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান করা হোক। একইসঙ্গে তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৭২/২০২৪ ও ৮৯৩/২০২৪ মামলা বিচারাধীন; তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের

টঙ্গীতে খাল দখল ও জমি নিয়ে অভিযোগ: ‘ছায়াকুঞ্জ’ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক, আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় খাল দখল, জমি ভরাট এবং দলিল সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুটিয়াব্রিজ থেকে ভাকরাল ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের অংশবিশেষ ভরাট করে ‘ছায়াকুঞ্জ’ নামের একটি আবাসিক প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খালের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং মাটি ভরাটের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এই খালটি ছিল এলাকার সেচ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উৎস। বর্তমানে খালের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় তারা সেচ সংকটে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খাল সংলগ্ন কিছু জমি নিয়ে বিরোধ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং এসব জমি পরবর্তীতে আবাসিক প্লট হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভরশীল।
জমি সংক্রান্ত পৃথক ঘটনায় হাজী মোঃ নাঈম হাসান নামে এক ব্যবসায়ী গাজীপুর দায়রা জজ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছেন—৭২/২০২৪ ও ৮৯৩/২০২৪—যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার অভিযোগে জমির মালিকানা ও হস্তান্তর নিয়ে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
বিভিন্ন সূত্রে মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ও শহীদ রেজার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি খাল বা জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান করা হোক। একইসঙ্গে তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে।