ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, কোনাবাড়িতে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য এক-দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী মেধা, মনন ও স্বপ্নের পথে রামিসা মলিয়াত উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডে পাড়ি উদ্বোধনের আগেই ফাটল স্কুল ভবনের ছাদে, সরকারি উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উজ্জ্বল চন্দ্র বর্মনের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে নাজমুল হোসেন মন্ডল মানুষের পাশে নাজমুল হোসেন মন্ডল, উন্নয়ন ও জনসেবাই যার অঙ্গীকার টঙ্গীতে মাদরাসায় হামলার প্রতিবাদে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল বাতিল হতে যাচ্ছে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন টঙ্গীর রাজপথে যুবদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নাজমুল হোসেন মন্ডল গাজীপুর মহানগর-সদরের পর টঙ্গীতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি; তারুণ্যের ঐক্য, সাংগঠনিক তৎপরতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের চিত্র

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত ঘর হস্তান্তর: সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা প্রধান উপদেষ্টার

md younus
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২৩১৩ বার পড়া হয়েছে




দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এই বন্যা যে কত বড় ছিল, সেটা আমরা পুরোপুরি উপলব্ধি করেছি অনেক পরে, যখন এর রেশ কেটে গেছে।”
বুধবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁওয়ের কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রথমে আমরা ধারণাও করতে পারিনি এই দুর্যোগ কতটা গভীরভাবে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করবে। সবার আগে জীবন বাঁচাতে ত্রাণ পৌঁছানোই ছিল মূল লক্ষ্য।”
ড. ইউনূস জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণে নগদ অর্থ বিতরণের বদলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন, “সেনাবাহিনী যখন দায়িত্ব নেয়, তখনই বুঝেছিলাম, অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত অর্থের অর্ধেক খরচ করেই ঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, তাও আবার মানসম্পন্নভাবে। তিনি বলেন, “সাধারণত বরাদ্দকৃত অর্থের দ্বিগুণ দাবি করা হয়, কিন্তু এখানে তার বিপরীতটি ঘটেছে। এটি একটি আনন্দের খবর।”
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, প্রকল্পের আওতায় ২৯৮টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, আর দুটি ঘর ভূমি জটিলতার কারণে নির্মিত হয়নি, যা শিগগিরই শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
বক্তব্যের শেষভাগে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা একটি সাহসী ও স্বনির্ভর জাতি গড়তে পারব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত ঘর হস্তান্তর: সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এই বন্যা যে কত বড় ছিল, সেটা আমরা পুরোপুরি উপলব্ধি করেছি অনেক পরে, যখন এর রেশ কেটে গেছে।”
বুধবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁওয়ের কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রথমে আমরা ধারণাও করতে পারিনি এই দুর্যোগ কতটা গভীরভাবে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করবে। সবার আগে জীবন বাঁচাতে ত্রাণ পৌঁছানোই ছিল মূল লক্ষ্য।”
ড. ইউনূস জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণে নগদ অর্থ বিতরণের বদলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন, “সেনাবাহিনী যখন দায়িত্ব নেয়, তখনই বুঝেছিলাম, অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত অর্থের অর্ধেক খরচ করেই ঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, তাও আবার মানসম্পন্নভাবে। তিনি বলেন, “সাধারণত বরাদ্দকৃত অর্থের দ্বিগুণ দাবি করা হয়, কিন্তু এখানে তার বিপরীতটি ঘটেছে। এটি একটি আনন্দের খবর।”
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, প্রকল্পের আওতায় ২৯৮টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, আর দুটি ঘর ভূমি জটিলতার কারণে নির্মিত হয়নি, যা শিগগিরই শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
বক্তব্যের শেষভাগে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা একটি সাহসী ও স্বনির্ভর জাতি গড়তে পারব।”