হযরত ওমর (রা.)-এর জনসেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত, কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব, রাতের আঁধারেও অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়
পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন
- আপডেট সময় : ১২:২১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি শুধু ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির পরিচয় নয়; মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য ব্যয় করাই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়। এমন মানবিক চিন্তা ও সেবার প্রত্যয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কাজী হুমায়ূন কবির। তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভাষ্য, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের অর্থবিত্ত নিয়ে প্রচার-প্রদর্শন করেন না। সাদাসিধে জীবনযাপন, বিনয়ী আচরণ এবং মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতার মানসিকতাই তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও জনসেবার আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কর্মীর আগে, নিজের পরে, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েও তাঁর মধ্যে পদ-পদবির অহংকার নেই বলে জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে নিজের আগে কর্মীদের আপ্যায়ন, প্রয়োজন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি দেখভাল করার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, কর্মীরাই সংগঠনের প্রাণ; তাঁদের সম্মান ও ভালোবাসা ছাড়া সংগঠন শক্তিশালী হতে পারে না। টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
রাতের আঁধারেও অসহায় মানুষের খোঁজে, কাজী হুমায়ূন কবিরের মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হলো অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেওয়া। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কোনো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়লে, কেউ অসুস্থ হলে কিংবা জরুরি সহযোগিতার প্রয়োজন হলে রাতের বেলাতেও নিজে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কখনো একা গিয়েও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করেন। ঈদসামগ্রী বিতরণ, যাকাত-ফিতরা, চিকিৎসা ও বিপদগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর কাছে মানবসেবা প্রচারের বিষয় নয়, বরং দায়িত্ববোধের অংশ।
সবুজ ও স্বনির্ভর ওয়ার্ড গড়ার উদ্যোগ. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিনা মূল্যে গাছের চারা বিতরণ, নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। পাশাপাশি পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে মাছ চাষে মানুষকে উৎসাহিত করতে বিনা মূল্যে মাছের পোনা উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য, পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের পুষ্টি, আয় ও স্বনির্ভরতার সুযোগ সৃষ্টি করা।
মাদকমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ জনপদের প্রত্যয়, মাদকমুক্ত ৫০ নম্বর ওয়ার্ড গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা, সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। গাজীপুরা স্পোর্টিং ক্লাবের মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট সিজন-৩-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেন। এ ছাড়া সড়কবাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা, পরিচ্ছন্নতা, মশা নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা-ড্রেন সংস্কার, শিক্ষাসহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কাজী হুমায়ূন কবিরের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে নয়টিরও বেশি মামলা হয়েছিল এবং দুটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় আত্মগোপনেও থাকতে হয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময়ে স্ত্রী লিজা পারভীন সন্তানদের নিয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন। দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে হাজী আদিয়াত কবির লন্ডনে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন এবং ছোট মেয়ে কাজী ফাতিহা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা, মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, শিক্ষাবান্ধব, কর্মমুখী ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করা। ভবিষ্যতে একটি উন্মুক্ত সেবাকেন্দ্র গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
কাজী হুমায়ূন কবিরের বক্তব্য, “আমার প্রথম শর্ত হলো, সর্বদা সত্য কথা বলা। আমি আশ্বাসে বিশ্বাসী নই, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”
মানুষের ভালোবাসাই নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন। পদ নয়, সেবা; অহংকার নয়, বিনয়; প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ এই দর্শনকে সামনে রেখে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কাজী হুমায়ূন কবির।










