ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প সৌদির আরও বিনিয়োগ চান তারেক রহমান, আগ্রহ সৌরবিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি খাতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, স্বপদে পুনর্বহাল মনোয়ার হোসেন খোকন মিয়া মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারে এক চিকিৎসকের পথচলা টঙ্গীতে প্রতিবন্ধী মোকলেস নিখোঁজ: মেলেনি সন্ধান, মায়ের আকুল আর্তি—‘ছেলেকে শুধু একবার ফিরিয়ে দিন’ ইজতেমাকে ঘিরে এরশাদনগরে দাওয়াতি তৎপরতা জোরদার তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশ, বললেন মার্কিন বিশেষ দূত একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের

ধর্মনিরপেক্ষতার পুনরাগমন ঘটতে দেওয়া হবে না: মামুনুল হক

md younus
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২১৪১ বার পড়া হয়েছে




বাংলাদেশে আর কোনোদিন ধর্মনিরপেক্ষতার পুনরাগমন ঘটতে দেওয়া হবে না—রোববার (২৭ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জে এক বিশাল গণসমাবেশে এমন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
সিরাজগঞ্জ শহরের মাসুমপুর খেলার মাঠে জেলা শাখার আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, “আগস্টে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ উৎখাতের সংগ্রাম। যারা এখনো ভারতীয় ‘পচা মাল’ ধর্মনিরপেক্ষতার স্বপ্ন দেখেন, তাদের সীমান্ত পেরিয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানাই। শাহজালালের বাংলাদেশে আর কোনোদিন ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরবে না।”
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষণ, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে ভারত থেকে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ আমদানি করেছিলেন।
বর্তমানে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগকে তিনি ‘আশাজাগানিয়া পরিবর্তনের সূচনা’ বলে উল্লেখ করেন। তবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কারের নামে বহুত্ববাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির উদ্দেশ্যে কড়া সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যুক্ত করে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস সংবিধানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ বিএনপির ভেতর বড় বড় ‘কঞ্চি’ গজিয়েছে। যদি আওয়ামী রাজনীতির প্রতি পিরিত থাকে, তবে সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগ দিন। নয়তো তৌহিদি জনতা নিজেদের ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ৫টি গণহত্যার অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন, “প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা যাবে না। তাদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে হবে।”
এছাড়া সকল রাজনৈতিক দলকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী অভিন্ন মত গড়ে তুলতে আহ্বান জানান মামুনুল হক। বিএনপি ও জামায়াতকে উদ্দেশ করে সতর্ক করেন, “নিজস্ব স্বার্থে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করা হলে জনগণ বাধ্য হবে তাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে।”
সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সীমিত সমর্থন জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, “ইসলাম ও কোরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবেন। নারী বিষয়ক কমিশনের কিছু প্রস্তাবনায় দেশের আলেম সমাজ স্তম্ভিত হয়েছে। এমন ধৃষ্টতা অতীতে আওয়ামী লীগও দেখাতে সাহস করেনি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আব্দুর রউফ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মুফতি আহমাদুল্লাহ সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হুসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা ও কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ধর্মনিরপেক্ষতার পুনরাগমন ঘটতে দেওয়া হবে না: মামুনুল হক

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশে আর কোনোদিন ধর্মনিরপেক্ষতার পুনরাগমন ঘটতে দেওয়া হবে না—রোববার (২৭ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জে এক বিশাল গণসমাবেশে এমন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
সিরাজগঞ্জ শহরের মাসুমপুর খেলার মাঠে জেলা শাখার আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, “আগস্টে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ উৎখাতের সংগ্রাম। যারা এখনো ভারতীয় ‘পচা মাল’ ধর্মনিরপেক্ষতার স্বপ্ন দেখেন, তাদের সীমান্ত পেরিয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানাই। শাহজালালের বাংলাদেশে আর কোনোদিন ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরবে না।”
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষণ, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে ভারত থেকে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ আমদানি করেছিলেন।
বর্তমানে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগকে তিনি ‘আশাজাগানিয়া পরিবর্তনের সূচনা’ বলে উল্লেখ করেন। তবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কারের নামে বহুত্ববাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির উদ্দেশ্যে কড়া সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যুক্ত করে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস সংবিধানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ বিএনপির ভেতর বড় বড় ‘কঞ্চি’ গজিয়েছে। যদি আওয়ামী রাজনীতির প্রতি পিরিত থাকে, তবে সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগ দিন। নয়তো তৌহিদি জনতা নিজেদের ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ৫টি গণহত্যার অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন, “প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা যাবে না। তাদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে হবে।”
এছাড়া সকল রাজনৈতিক দলকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী অভিন্ন মত গড়ে তুলতে আহ্বান জানান মামুনুল হক। বিএনপি ও জামায়াতকে উদ্দেশ করে সতর্ক করেন, “নিজস্ব স্বার্থে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করা হলে জনগণ বাধ্য হবে তাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে।”
সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সীমিত সমর্থন জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, “ইসলাম ও কোরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবেন। নারী বিষয়ক কমিশনের কিছু প্রস্তাবনায় দেশের আলেম সমাজ স্তম্ভিত হয়েছে। এমন ধৃষ্টতা অতীতে আওয়ামী লীগও দেখাতে সাহস করেনি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আব্দুর রউফ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মুফতি আহমাদুল্লাহ সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হুসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা ও কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।