সারিবদ্ধ লাল ক্যাপে যুবদলের পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই মাঠে আকবর হোসেন ফারুক, টানা সাত দিনের কর্মসূচিতেও রাজপথে থাকার ঘোষণা
টঙ্গীর রাজপথে শৃঙ্খলার মিছিল
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮০ বার পড়া হয়েছে


মাথায় একই ক্যাপ, সারিবদ্ধ পদচারণা আকবর হোসেন ফারুকের নেতৃত্বে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল। -সংবাদ আলোচনা।
রাজনীতির রাজপথে কখনো মিছিল শুধু মিছিল থাকে না, তা হয়ে ওঠে সংগঠনের উপস্থিতি, কর্মীদের ঐক্য এবং নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রকাশ। গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গীতে এমনই এক সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মসূচির দৃশ্য দেখা গেল শনিবার বিকেলে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও অগ্নিসন্ত্রাসের অভিযোগের প্রতিবাদ এবং রাজপথে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনির নির্দেশনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আকবর হোসেন ফারুক। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
মিছিলের আগেই মাঠে নেতা, বিস্মিত কর্মীরা, বিকেল ৩টায় টঙ্গী বাজারের আশরাফ সেতু এলাকা থেকে মিছিলের সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচির নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে উপস্থিত হন আকবর হোসেন ফারুক। একজন শীর্ষ সংগঠক হিসেবে মিছিল শুরুর আগেই মাঠে উপস্থিত হয়ে কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় বাড়তি উৎসাহ। অনেক কর্মী তাকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, স্লোগান ও মিছিলে আকবর হোসেন ফারুককে শুরুতেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এ পর্যন্ত রাজপথে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি প্রথম সারিতে থেকে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। এবারের কর্মসূচিতেও তার আগাম উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
মাথায় একই ক্যাপ, পদচারণায় একই ছন্দ, মিছিলটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস। অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মাথায় ছিল একই ধরনের ক্যাপ। সারিবদ্ধভাবে তারা রাজপথে এগিয়ে যান। সামনে নেতৃত্ব, পেছনে কর্মীদের সুসংগঠিত সারি, পুরো মিছিলজুড়ে ছিল পরিকল্পিত পদচারণার দৃশ্য। টঙ্গীর ব্যস্ততম সড়কে এমন সুশৃঙ্খল মিছিল পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহনের যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে মিছিলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কারও কারও কাছে এটি বড় কোনো দলীয় আয়োজন বা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মতো দৃশ্য বলে মনে হয়েছে। মিছিল চলাকালে যানবাহন ও রিকশা চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি বলে আয়োজকরা জানান। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সারিবদ্ধভাবে চলার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।


মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন ফারুক।

আশরাফ সেতু থেকে কলেজ রোড, শেষ মেইলগেটে, আশরাফ সেতু থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি টঙ্গী বাজার হয়ে ময়মনসিংহ রোড ও কলেজ রোডের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে। এরপর মিছিলটি মেইলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পথের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ, দোকানদার, পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা কৌতূহলী দৃষ্টিতে মিছিলটি প্রত্যক্ষ করেন। একের পর এক সারিতে নেতাকর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য পুরো পথজুড়ে আলাদা আবহ তৈরি করে। টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকা থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যোগ দেন। কেউ এসেছেন ওয়ার্ড থেকে, কেউ থানা পর্যায় থেকে; আবার কেউ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন।
সাত দিনের কর্মসূচিতে রাজপথে থাকার প্রত্যয়, মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আকবর হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু সভা-মঞ্চের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজনে মানুষের পাশে থেকে রাজপথেও থাকতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের সবসময় রোডে থাকতে হবে, এলাকায় এলাকায় থাকতে হবে। যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি কেউ করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষিত টানা সাত দিনের কর্মসূচিতেও রাজপথে সক্রিয় থাকার প্রস্তুতি রয়েছে আকবর হোসেন ফারুকের। কর্মসূচির প্রতিটি পর্যায়ে তিনি নিজে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং নিজ নিজ এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি।
‘যেখানেই কর্মসূচি, সেখানেই উপস্থিতি’, আকবর হোসেন ফারুকের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে তার একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কর্মসূচির ডাক এলে তিনি শুধু নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে থাকছেন না; নিজেই মাঠে এসে কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, রাজপথের বিভিন্ন মিছিল, স্লোগান ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি শুরুতেই উপস্থিত থাকার চেষ্টা করছেন। সামনে আরও সাত দিনের কর্মসূচি থাকায় তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছেন।
কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, নেতৃত্বকে ঘিরে উৎসাহ, মিছিলজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকার কর্মীরা একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কেউ স্লোগানে নেতৃত্ব দেন, কেউ সারিবদ্ধতা ঠিক রাখেন, কেউ আবার পেছনের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের অনেকের বক্তব্যে উঠে আসে দলের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার প্রত্যয়ের কথা। তাদের মতে, নেতৃত্ব যখন কর্মীদের সঙ্গে রাজপথে থাকে, তখন কর্মীদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ ও উৎসাহ বাড়ে। এবারের মিছিলেও সেই আবহ দেখা গেছে বলে তারা জানান।
রাজপথে শৃঙ্খলার বার্তা, টঙ্গী বাজার থেকে মেইলগেট পর্যন্ত মিছিলটির সবচেয়ে দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য ছিল শৃঙ্খলা। মাথায় একই ক্যাপ, সারিবদ্ধ পদচারণা, নির্দিষ্ট রুটে অগ্রসর হওয়া এবং কর্মসূচি শেষে বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্তি, সব মিলিয়ে আয়োজকরা এটিকে একটি সাংগঠনিক কর্মসূচির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও মিছিলের সময় গুরুত্ব পেয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। দিনের আলো ফুরিয়ে আসার আগেই মেইলগেট এলাকায় মিছিলের সমাপ্তি ঘটে। এরপর আকবর হোসেন ফারুক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সংগঠিতভাবে থাকার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
টঙ্গীর ব্যস্ত রাজপথে সেই বিকেলের দৃশ্য যেন বলে গেল, রাজনৈতিক কর্মসূচির শক্তি শুধু মানুষের সংখ্যায় নয়, সংগঠন, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের উপস্থিতি এবং কর্মীদের পারস্পরিক ঐক্যেও দৃশ্যমান হতে পারে। আর সামনে টানা সাত দিনের কর্মসূচিকে ঘিরে এখন টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকায় যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে সক্রিয়তার প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।


















