ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, কোনাবাড়িতে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য এক-দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী মেধা, মনন ও স্বপ্নের পথে রামিসা মলিয়াত উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডে পাড়ি উদ্বোধনের আগেই ফাটল স্কুল ভবনের ছাদে, সরকারি উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উজ্জ্বল চন্দ্র বর্মনের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে নাজমুল হোসেন মন্ডল মানুষের পাশে নাজমুল হোসেন মন্ডল, উন্নয়ন ও জনসেবাই যার অঙ্গীকার টঙ্গীতে মাদরাসায় হামলার প্রতিবাদে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল বাতিল হতে যাচ্ছে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন টঙ্গীর রাজপথে যুবদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নাজমুল হোসেন মন্ডল গাজীপুর মহানগর-সদরের পর টঙ্গীতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি; তারুণ্যের ঐক্য, সাংগঠনিক তৎপরতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের চিত্র

টঙ্গীতে খোলা ড্রেনে পড়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ফারিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু

md younus
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ২৩০৯ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুরের টঙ্গীতে হোসেন মার্কেট এলাকায় খোলা ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির (২৮) মরদেহ দুইদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরা চকের কাছে তার মরদেহ ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সেটি উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক মৃত্যু নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে।
রবিবার সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে ফারিয়া টঙ্গীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পানিতে ঢাকা সড়কে পা ফসকে তিনি পাশের খোলা ড্রেনে পড়ে যান। আশপাশে উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট এবং ডুবুরি দল যুক্ত হয়ে টানা দুদিন উদ্ধার অভিযান চালায়। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কে ছিলেন ফারিয়া? চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ফারিয়া রাজধানীর মিরপুরে পরিবারসহ বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই শেষবারের মতো টঙ্গীতে গিয়েছিলেন তিনি।
নাগরিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের পাশে একটি বড় ড্রেন দীর্ঘদিন ধরেই খোলা ছিল। এলাকাবাসী ও পথচারীরা বারবার এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা আগেও একটি ঢাকনা বসিয়েছিল, তবে তা চুরি হয়ে যায়। পুনরায় ঢাকনা বসানোর বিষয়ে কেউ উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ : দুর্ঘটনার পর দিন ফারিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী মহাসড়কে সাময়িক অবরোধ সৃষ্টি করেন। তারা অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে প্রশাসনের অনুরোধে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
করণীয় ও সুপারিশ : এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকদের কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন:
১. শহরের সব খোলা ড্রেন চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকনা স্থাপন।
২. জনবহুল এবং হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি।
৩. দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. স্থানীয় সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
৫. নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থার উন্নয়ন।
সমাপ্তি
একজন প্রতিশ্রুতিশীল পেশাজীবী নারী অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন—যা হয়তো একটি ঢাকনা থাকলেই এড়ানো যেত। এই ঘটনা যেন আর কারও জীবনের ট্র্যাজেডি না হয়, সেজন্য নগর ব্যবস্থাপনায় আমাদের এখনই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টঙ্গীতে খোলা ড্রেনে পড়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ফারিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৩০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গীতে হোসেন মার্কেট এলাকায় খোলা ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির (২৮) মরদেহ দুইদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরা চকের কাছে তার মরদেহ ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সেটি উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক মৃত্যু নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে।
রবিবার সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে ফারিয়া টঙ্গীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পানিতে ঢাকা সড়কে পা ফসকে তিনি পাশের খোলা ড্রেনে পড়ে যান। আশপাশে উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট এবং ডুবুরি দল যুক্ত হয়ে টানা দুদিন উদ্ধার অভিযান চালায়। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কে ছিলেন ফারিয়া? চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ফারিয়া রাজধানীর মিরপুরে পরিবারসহ বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই শেষবারের মতো টঙ্গীতে গিয়েছিলেন তিনি।
নাগরিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের পাশে একটি বড় ড্রেন দীর্ঘদিন ধরেই খোলা ছিল। এলাকাবাসী ও পথচারীরা বারবার এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা আগেও একটি ঢাকনা বসিয়েছিল, তবে তা চুরি হয়ে যায়। পুনরায় ঢাকনা বসানোর বিষয়ে কেউ উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ : দুর্ঘটনার পর দিন ফারিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী মহাসড়কে সাময়িক অবরোধ সৃষ্টি করেন। তারা অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে প্রশাসনের অনুরোধে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
করণীয় ও সুপারিশ : এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকদের কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন:
১. শহরের সব খোলা ড্রেন চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকনা স্থাপন।
২. জনবহুল এবং হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি।
৩. দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. স্থানীয় সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
৫. নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থার উন্নয়ন।
সমাপ্তি
একজন প্রতিশ্রুতিশীল পেশাজীবী নারী অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন—যা হয়তো একটি ঢাকনা থাকলেই এড়ানো যেত। এই ঘটনা যেন আর কারও জীবনের ট্র্যাজেডি না হয়, সেজন্য নগর ব্যবস্থাপনায় আমাদের এখনই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।