সভাপতি আবু সাকের, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খান, বিজয়-পরাজয় ভুলে ঐক্যের অঙ্গীকার
জল্পনা-কল্পনার অবসান, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন মিলগেট মাছিমপুর কো-অপারেটিভ মার্কেটে নতুন নেতৃত্বের অভিষেক
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন শেষে ফুলের মালায় নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান ব্যবসায়ীরা, মিলগেট মাছিমপুর কো-অপারেটিভ মার্কেটে জয়-পরাজয় ভুলে ঐক্যের বার্তা।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা জল্পনা-কল্পনা ও নির্বাচনী উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেট মাছিমপুর কো-অপারেটিভ মার্কেট সোসাইটি লিমিটেডের নির্বাচন-২০২৬। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণাকে ঘিরে মার্কেট এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। ব্যবসায়ী, সমিতির সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় বহুল প্রত্যাশিত এ নির্বাচন। নির্বাচনে সভাপতি পদে মোঃ আবু সাকের এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ সাইফুল ইসলাম খান নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পরপরই মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সদস্যরা নবনির্বাচিতদের ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে মার্কেটের ভেতরে আনন্দ মিছিল, ফুল ছিটানো ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা।
১৮ পদে নির্বাচন, দুইজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, মোট ১৮টি পদের বিপরীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। অন্য পদগুলোতে প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি পদে মোঃ আবু সাকের ২৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জহিরুল আমিন পেয়েছেন ১০৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ সাইফুল ইসলাম খান ২৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১২৭ ভোট। নির্বাচন কমিটির ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি পদে মোঃ মোস্তফা এবং কোষাধ্যক্ষ পদে হাজী জসিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া যুগ্ম-সম্পাদক পদে সুলতান আহমেদ ২০৯ ভোট, সদস্য পদে আনিসুল হক পলাশ ২৭২ ভোট, আব্দুল্লাহ আল মামুন ২৭৯ ভোট, ওমর ফারুক ২৩০ ভোট, হাজী তোফাজ্জল হোসেন ২৬০ ভোট, মোঃ নূর নবী পারভেজ ২২৪ ভোট, মোঃ শাহজাহান ২৭৬ ভোট এবং সৈয়দ মোঃ শাহীন ২২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন ঘিরে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ, ভোটগ্রহণ চলাকালে মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় থানার পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল। পাশাপাশি টঙ্গীর দুই থানার বিএনপির সভাপতি, বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী নির্বাচন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মার্কেট এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও প্রার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ।
জয়-পরাজয়ের পরও একই পরিবারের সদস্য, ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন মুহূর্তেই পরিণত হয় পারস্পরিক সৌহার্দ্যে। বিজয়ী প্রার্থীরা পরাজিত প্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিজয়ী-পরাজিতের বিভাজন ভুলে সবাইকে নিয়ে মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিজয়ী প্রার্থীরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তারা বলেন, “আমাদের জন্য আপনারা অনেক খেটেছেন, আমরাও আপনাদের জন্য খাটব। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকব। যারা নির্বাচিত হতে পারেননি, তারাও আমাদেরই মানুষ। এই মার্কেটের প্রতিটি ব্যবসায়ীর ব্যবসা আছে, স্বার্থ আছে, সবাইকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।” এই বক্তব্যের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। একে অপরকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং আনন্দঘন পরিবেশে মার্কেটের বিভিন্ন অংশে মিছিল করেন। বিজয়ী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ফুল ছিটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করা হয়।
‘ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখের পাশে থাকব’ নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, এ মার্কেটের সঙ্গে তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর পিতা ১৯৬৭ সালে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এই মার্কেটের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন করব না। ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে সামনে রেখে কাজ করব। আমাদের ব্যবসা, আমাদের সুখ-দুঃখ, সবকিছু মিলিয়েই আমরা একটি ব্যবসায়ী পরিবার। সবাই যেন ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির দিকে আমরা গুরুত্ব দেব। ইনশাআল্লাহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হয়েছে। এখন সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত মার্কেটের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণ। ‘আমরা ভাই-বন্ধুর মতো ঐক্যবদ্ধ থাকব’ নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ আবু সাকের বলেন, “আমাদের এই মার্কেটে সবাই ভাই-বন্ধুর মতো, পিতা-ছেলের মতো। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকব। আমরা কারও কোনো ক্ষতি হতে দেব না। আমরা সবার পাশে থাকব।” তিনি বলেন, মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সদস্যদের মধ্যে যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব রয়েছে, তা আরও শক্তিশালী করাই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মার্কেটের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
১৯৬৭ থেকে ঐতিহ্যের পথচলা, ১৯৬৭ সালে এই মার্কেট কমিটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মিলগেট মাছিমপুর কো-অপারেটিভ মার্কেট টঙ্গীর ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্যবসায়ী ও পরিবারের জীবিকার সঙ্গে এই মার্কেটের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ঐতিহ্যের এই মার্কেটে নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। তাদের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, মার্কেটের উন্নয়ন এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
নির্বাচনের পর নতুন প্রত্যয়ের বার্তা, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে ওঠে ঐক্যের বার্তা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ভোটের মাঠে; কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর সবাই একই মার্কেটের, একই ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য, এমন বার্তাই উঠে আসে নবনির্বাচিত নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ীদের কথায়। পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে মিলগেট মাছিমপুর কো-অপারেটিভ মার্কেট আরও সুসংগঠিত, ব্যবসাবান্ধব ও ঐক্যবদ্ধ পরিবেশে এগিয়ে যাবে। দৈনিক সংবাদ আলোচনা পরিবারের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচিত সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


















