ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুরআনের আলো, আদব-আখলাক, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা

কেবল হিফজ নয় মানুষ গড়ার এক আলোকিত কারখানা

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৮২ বার পড়া হয়েছে




“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন।”
একটি শিশুর হাতে যখন প্রথম কুরআন শরিফ তুলে দেওয়া হয়, তখন শুধু কয়েকটি পৃষ্ঠা মুখস্থ করার যাত্রা শুরু হয় না, শুরু হয় একটি জীবন গড়ার পথচলা। সেই পথচলায় প্রয়োজন একজন দক্ষ উস্তাদ, সচেতন অভিভাবক, নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা ও ধৈর্য। টঙ্গীর ইসলামপুর (দত্তপাড়া) এলাকার মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা-দর্শনের মূল কথা, শুধু হাফেজ তৈরি নয়; কুরআনের আলোয় আলোকিত, উত্তম চরিত্রবান, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ তৈরি করা।
হিফজের সঙ্গে জীবন গড়ার শিক্ষা, মাদরাসায় বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদব-আখলাক, ইসলামী মূল্যবোধ, নামাজের গুরুত্ব, পিতা-মাতার প্রতি সম্মান, সততা, আমানতদারিতা, পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ একটি শিশু কুরআন মুখস্থ করবে, এটি যেমন আনন্দের; তেমনি তার আচরণে যদি কুরআনের শিক্ষা ফুটে ওঠে, সেটিই শিক্ষার বড় সাফল্য। প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার তাই, “কুরআনের হাফেজের পাশাপাশি আদর্শ মানুষ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
উস্তাদ পথপ্রদর্শক, অভিভাবক সহযোগী, হিফজ বিভাগের শিক্ষা পরিচালনায় উস্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন শিক্ষার্থীকে কতটুকু সবক দেওয়া হবে, তার আমুখতা ও সাবিনা কীভাবে ঠিক রাখা হবে এবং তার দুর্বলতা অনুযায়ী কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ উস্তাদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে সন্তানের শারীরিক অবস্থা, মানসিক চাপ কিংবা পারিবারিক কোনো সমস্যার বিষয়ে অভিভাবকের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই এখানে সম্পর্কটি হওয়া উচিত, উস্তাদ—পথপ্রদর্শক, অভিভাবক—সহযোগী, শিক্ষার্থী—আমানত। পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের মাধ্যমে এই তিন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলেই একজন শিক্ষার্থী সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, সন্তানের কান্না, আবদার কিংবা সাময়িক মন খারাপের কারণে অপ্রয়োজনে চলমান ক্লাস থেকে তাকে নিয়ে আসা তার পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে শিশুর মনে এমন ধারণাও তৈরি হতে পারে, আবদার বা কান্না করলেই নিয়ম পরিবর্তন করা যায়। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলমান ক্লাসে বিঘ্ন না ঘটিয়ে নির্ধারিত ছুটির সময়কে পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ে-শাদি বা অন্যান্য আয়োজনের জন্য ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্তানের সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করাও সবসময় তার জন্য কল্যাণকর নয়। ধৈর্য, অপেক্ষা, সংযম ও কষ্ট সহ্য করার শিক্ষা তার ভবিষ্যৎ জীবনকে দৃঢ় করতে পারে।
শৃঙ্খলার মধ্যেও আনন্দ, মাদরাসা মানেই শুধু পড়াশোনা ও নিয়মের কঠোরতা নয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফুটবল প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তাদের হাসিমাখা মুখ যেন মনে করিয়ে দেয়, হিফজের আঙিনায় শৃঙ্খলার পাশাপাশি শৈশবের আনন্দও বেঁচে থাকে।
হিফজ বিভাগের মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন, হিফজের ধারাবাহিকতা, উস্তাদদের সমন্বয় এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১৮ জুলাই ২০২৬ মাদরাসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং উস্তাদ-অভিভাবকের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নতি শুধু ভবন বা অবকাঠামো দিয়ে হয় না; যোগ্য শিক্ষক, নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা, অভিভাবকের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীর আন্তরিকতাই তার মূল শক্তি।
২১ বছরের কুরআনের খেদমত, হিফজ বিভাগের খেদমতের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা, এ যেন একটি নীরব সাধনার গল্প। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে পথচলা, ভুল সংশোধন, সবক শোনা, আমুখতা ও সাবিনা ঠিক রাখা, কখনো কঠোর হওয়া, কখনো ভালোবাসা দিয়ে উৎসাহ দেওয়া, সব মিলিয়ে কুরআনের খেদমতের এই যাত্রা আজও অব্যাহত। এই দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততায় কাছের-দূরের অনেক বন্ধু, প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে আগের মতো দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ সম্ভব হয় না। তবুও লক্ষ্য একটাই,
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কুরআনের খেদমত করে যাওয়া। তাই সকলের কাছে একটাই আবেদন, দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আজীবন কুরআনের খেদমত করার তাওফিক দান করেন।
ইসলামী শিক্ষায় মানবিকতার গুরুত্ব, কুরবানির মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলা হয়েছে। প্রদত্ত বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো কাজে বাধ্য করা উচিত নয়; অংশগ্রহণ হবে স্বেচ্ছায়। শিক্ষার্থীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ঈদের আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দান-অনুদানও স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল শিক্ষা, দ্বীনি শিক্ষা শুধু নিয়ম শেখায় না; মানুষের প্রতি মমতা, সম্মান ও দায়িত্ববোধও শেখায়। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তার শিক্ষার্থীর চরিত্রে, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার স্বপ্ন শুধু কতজন শিক্ষার্থী কুরআন মুখস্থ করল, সেখানে সীমাবদ্ধ নয়। স্বপ্ন হলো এমন প্রজন্ম তৈরি করা, যারা হবে, কুরআনের ধারক, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বশীল, উস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, মানবিক ও সংযমী, সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর। অভিভাবকদের অভিজ্ঞতার মধ্যেও উঠে আসে এমন প্রত্যাশা, সন্তান শুধু হিফজ করবে না, তার চরিত্রও সুন্দর হবে; শিক্ষকরা তাকে নিজের সন্তানের মতো দেখবেন এবং সে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন শিখবে।
আজকের সিদ্ধান্ত, আগামী দিনের পরিচয়, প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন, সন্তান ভালো মানুষ হোক। তার জীবনে দ্বীনের আলো থাকুক, চরিত্র সুন্দর হোক, সমাজের জন্য কল্যাণকর হোক। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি শিশুর শৈশবের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা সেই পথচলার একটি সহযাত্রী হতে চায়, যেখানে কুরআন মুখস্থের পাশাপাশি শেখানো হবে জীবনকে সুন্দর করার শিক্ষা।
ভর্তি চলছে, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। ঠিকানা: হাসান লেন, ইসলামপুর (দত্তপাড়া), টঙ্গী, গাজীপুর। ভর্তির জন্য যোগাযোগ: 📞 ০১৯১৪-০৩১০৪১ “কেবল হিফজ নয়, কুরআনের আলোয় আদর্শ মানুষ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।”
আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের কুরআনের হাফেজ, নেককার, উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও মানবিক মানুষ হিসেবে কবুল করুন। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার সকল উস্তাদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের কুরআনের খেদমত কবুল করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুরআনের আলো, আদব-আখলাক, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা

কেবল হিফজ নয় মানুষ গড়ার এক আলোকিত কারখানা

আপডেট সময় : ১০:৪০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন।”
একটি শিশুর হাতে যখন প্রথম কুরআন শরিফ তুলে দেওয়া হয়, তখন শুধু কয়েকটি পৃষ্ঠা মুখস্থ করার যাত্রা শুরু হয় না, শুরু হয় একটি জীবন গড়ার পথচলা। সেই পথচলায় প্রয়োজন একজন দক্ষ উস্তাদ, সচেতন অভিভাবক, নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা ও ধৈর্য। টঙ্গীর ইসলামপুর (দত্তপাড়া) এলাকার মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা-দর্শনের মূল কথা, শুধু হাফেজ তৈরি নয়; কুরআনের আলোয় আলোকিত, উত্তম চরিত্রবান, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ তৈরি করা।
হিফজের সঙ্গে জীবন গড়ার শিক্ষা, মাদরাসায় বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদব-আখলাক, ইসলামী মূল্যবোধ, নামাজের গুরুত্ব, পিতা-মাতার প্রতি সম্মান, সততা, আমানতদারিতা, পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ একটি শিশু কুরআন মুখস্থ করবে, এটি যেমন আনন্দের; তেমনি তার আচরণে যদি কুরআনের শিক্ষা ফুটে ওঠে, সেটিই শিক্ষার বড় সাফল্য। প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার তাই, “কুরআনের হাফেজের পাশাপাশি আদর্শ মানুষ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
উস্তাদ পথপ্রদর্শক, অভিভাবক সহযোগী, হিফজ বিভাগের শিক্ষা পরিচালনায় উস্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন শিক্ষার্থীকে কতটুকু সবক দেওয়া হবে, তার আমুখতা ও সাবিনা কীভাবে ঠিক রাখা হবে এবং তার দুর্বলতা অনুযায়ী কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ উস্তাদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে সন্তানের শারীরিক অবস্থা, মানসিক চাপ কিংবা পারিবারিক কোনো সমস্যার বিষয়ে অভিভাবকের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই এখানে সম্পর্কটি হওয়া উচিত, উস্তাদ—পথপ্রদর্শক, অভিভাবক—সহযোগী, শিক্ষার্থী—আমানত। পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের মাধ্যমে এই তিন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলেই একজন শিক্ষার্থী সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, সন্তানের কান্না, আবদার কিংবা সাময়িক মন খারাপের কারণে অপ্রয়োজনে চলমান ক্লাস থেকে তাকে নিয়ে আসা তার পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে শিশুর মনে এমন ধারণাও তৈরি হতে পারে, আবদার বা কান্না করলেই নিয়ম পরিবর্তন করা যায়। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলমান ক্লাসে বিঘ্ন না ঘটিয়ে নির্ধারিত ছুটির সময়কে পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ে-শাদি বা অন্যান্য আয়োজনের জন্য ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্তানের সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করাও সবসময় তার জন্য কল্যাণকর নয়। ধৈর্য, অপেক্ষা, সংযম ও কষ্ট সহ্য করার শিক্ষা তার ভবিষ্যৎ জীবনকে দৃঢ় করতে পারে।
শৃঙ্খলার মধ্যেও আনন্দ, মাদরাসা মানেই শুধু পড়াশোনা ও নিয়মের কঠোরতা নয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফুটবল প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তাদের হাসিমাখা মুখ যেন মনে করিয়ে দেয়, হিফজের আঙিনায় শৃঙ্খলার পাশাপাশি শৈশবের আনন্দও বেঁচে থাকে।
হিফজ বিভাগের মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন, হিফজের ধারাবাহিকতা, উস্তাদদের সমন্বয় এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১৮ জুলাই ২০২৬ মাদরাসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং উস্তাদ-অভিভাবকের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নতি শুধু ভবন বা অবকাঠামো দিয়ে হয় না; যোগ্য শিক্ষক, নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা, অভিভাবকের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীর আন্তরিকতাই তার মূল শক্তি।
২১ বছরের কুরআনের খেদমত, হিফজ বিভাগের খেদমতের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা, এ যেন একটি নীরব সাধনার গল্প। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে পথচলা, ভুল সংশোধন, সবক শোনা, আমুখতা ও সাবিনা ঠিক রাখা, কখনো কঠোর হওয়া, কখনো ভালোবাসা দিয়ে উৎসাহ দেওয়া, সব মিলিয়ে কুরআনের খেদমতের এই যাত্রা আজও অব্যাহত। এই দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততায় কাছের-দূরের অনেক বন্ধু, প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে আগের মতো দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ সম্ভব হয় না। তবুও লক্ষ্য একটাই,
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কুরআনের খেদমত করে যাওয়া। তাই সকলের কাছে একটাই আবেদন, দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আজীবন কুরআনের খেদমত করার তাওফিক দান করেন।
ইসলামী শিক্ষায় মানবিকতার গুরুত্ব, কুরবানির মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলা হয়েছে। প্রদত্ত বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো কাজে বাধ্য করা উচিত নয়; অংশগ্রহণ হবে স্বেচ্ছায়। শিক্ষার্থীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ঈদের আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দান-অনুদানও স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল শিক্ষা, দ্বীনি শিক্ষা শুধু নিয়ম শেখায় না; মানুষের প্রতি মমতা, সম্মান ও দায়িত্ববোধও শেখায়। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তার শিক্ষার্থীর চরিত্রে, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার স্বপ্ন শুধু কতজন শিক্ষার্থী কুরআন মুখস্থ করল, সেখানে সীমাবদ্ধ নয়। স্বপ্ন হলো এমন প্রজন্ম তৈরি করা, যারা হবে, কুরআনের ধারক, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বশীল, উস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, মানবিক ও সংযমী, সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর। অভিভাবকদের অভিজ্ঞতার মধ্যেও উঠে আসে এমন প্রত্যাশা, সন্তান শুধু হিফজ করবে না, তার চরিত্রও সুন্দর হবে; শিক্ষকরা তাকে নিজের সন্তানের মতো দেখবেন এবং সে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন শিখবে।
আজকের সিদ্ধান্ত, আগামী দিনের পরিচয়, প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন, সন্তান ভালো মানুষ হোক। তার জীবনে দ্বীনের আলো থাকুক, চরিত্র সুন্দর হোক, সমাজের জন্য কল্যাণকর হোক। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি শিশুর শৈশবের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা সেই পথচলার একটি সহযাত্রী হতে চায়, যেখানে কুরআন মুখস্থের পাশাপাশি শেখানো হবে জীবনকে সুন্দর করার শিক্ষা।
ভর্তি চলছে, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। ঠিকানা: হাসান লেন, ইসলামপুর (দত্তপাড়া), টঙ্গী, গাজীপুর। ভর্তির জন্য যোগাযোগ: 📞 ০১৯১৪-০৩১০৪১ “কেবল হিফজ নয়, কুরআনের আলোয় আদর্শ মানুষ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।”
আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের কুরআনের হাফেজ, নেককার, উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও মানবিক মানুষ হিসেবে কবুল করুন। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার সকল উস্তাদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের কুরআনের খেদমত কবুল করুন। আমিন।