দত্তপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ; ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি দাবি
উদ্বোধনের আগেই ফাটল স্কুল ভবনের ছাদে, সরকারি উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ১২:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

উদ্বোধনের আগেই দত্তপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ছাদে দৃশ্যমান ফাটল। নির্মাণকাজের গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ছবিটি সংগৃহীত।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন। অথচ উদ্বোধনের আগেই সেই ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের দত্তপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের এমন অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি উন্নয়নকাজের গুণগত মান, নির্মাণ তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের অবস্থা তুলে ধরে লিখেছেন, এখনো ভবনটির উদ্বোধন হয়নি, অথচ ছাদ ফেটে গেছে। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের পর উদ্বোধনের আগেই যদি ছাদে ফাটল দেখা দেয়, তাহলে নির্মাণকাজের মান যাচাই করা হয়েছিল কীভাবে? কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কি অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণমান অনুসরণ করেছে? দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা কি নিয়মিত কাজ পরিদর্শন করেছেন? নির্মাণকাজ শেষে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মান যাচাই ছাড়াই কি ভবনটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছিল?
সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থ ব্যয় করে নির্মিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন যদি শুরুতেই ত্রুটির মুখে পড়ে, তাহলে এর দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকা উচিত নয়। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নকশা অনুসরণে ব্যত্যয়, প্রকৌশলগত ত্রুটি কিংবা যথাযথ তদারকির অভাব—কোনো কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নির্মাণকাজের কার্যাদেশ, অনুমোদিত নকশা, প্রাক্কলন, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাপ ও বিল পরিশোধের নথিও যাচাই করা দরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার জায়গা। ভবনের ছাদ বা কাঠামোগত কোনো ত্রুটি থাকলে তা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রকৌশলগত পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাই—ভবন নির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল? কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করেছে? কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? উদ্বোধনের আগেই ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ার কারণ কী? নির্মাণকাজে অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়, প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। দ্রুত একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলগত তদন্ত কমিটি গঠন করে ফাটলের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নয়। সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। দত্তপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ফাটল যেন আরেকটি অনিয়মের অভিযোগ হয়ে চাপা না পড়ে, এখনই প্রয়োজন যথাযথ তদন্ত, সত্য উদ্ঘাটন ও কার্যকর ব্যবস্থা।









