কোরবানির মাংস থেকে শুরু করে মাদকবিরোধী সচেতনতা, রাস্তা-ড্রেন সংস্কার থেকে অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এরশাদনগরে মানবতার এক পরিচিত নাম মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প
- আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / ১৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছেন, যাদের পরিচয় পদ-পদবীর চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানুষের ভালোবাসায়। তারা মানুষের সুখে হাসেন, দুঃখে কাঁদেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান। সমাজের উন্নয়ন, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যান নীরবে, নিরলসভাবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদনগরে এমনই একটি পরিচিত নাম মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে পরিচিত।
ঈদের আনন্দ পৌঁছে গেছে মানুষের ঘরে। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এ বছরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দুটি গরু কোরবানি দেন তিনি। কিন্তু কোরবানির প্রকৃত আনন্দকে তিনি সীমাবদ্ধ রাখেননি নিজের পরিবারে। অসহায় পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, এতিম, সাধারণ মানুষ ও পরিচিতজনদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কোরবানির মাংস। তিনি বিশ্বাস করেন, “মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।” এলাকার অনেকেই বলেন, কোরবানির সময় শুধু নয়, সারা বছরই তিনি মানুষের খোঁজখবর রাখেন।
ঈদের পর পরিচ্ছন্নতায়ও মাঠে। ঈদের আনন্দ শেষে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন, যাতে মানুষের ভোগান্তি কমে এবং পরিবেশ সুস্থ থাকে। ড্রেন, রাস্তা ও জনদুর্ভোগ কমাতে উদ্যোগ। এরশাদনগরের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের কারণে জলাবদ্ধতা, বৃষ্টির পানিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়া এবং চলাচলের অনুপযোগী রাস্তার খবর পেলে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। ৪ নম্বর ব্লক থেকে বেড়িবাঁধ এলাকার ভাঙা রাস্তা সংস্কারে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছেন। ইটের খোয়া ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি একা নই, এলাকার মানুষই আমার শক্তি। সবাই মিলে কাজ করলে অসম্ভবও সম্ভব হয়।”
মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ সমাজের স্বপ্ন। কামরুল ইসলাম কামুর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি হলো একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন। তিনি মনে করেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবারকে ধ্বংস করে। মাদক থেকে জন্ম নেয় অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়। তাই তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং পরিবারগুলোকে সচেতন করতে তিনি নিয়মিতভাবে কথা বলেন। তার ভাষায়, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে শিশু নিরাপদে বড় হবে, তরুণরা স্বপ্ন দেখবে, মায়েরা নিশ্চিন্তে থাকবেন এবং মানুষ শান্তিতে জীবনযাপন করবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। স্থানীয় মানুষের মতে, কোনো সমস্যা বা অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি মানুষকে আইনগত পথ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে সমাজ আরও নিরাপদ হবে। তার মতে,
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
গরিব মানুষের বিচার ও মানবিক সহায়তা। শুধু উন্নয়ন নয়, সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার ও মানবিক সহায়তার বিষয়েও তিনি সচেতন থাকার চেষ্টা করেন। অনেকেই বলেন, কেউ বিপদে পড়লে বা সমস্যায় পড়লে তার কাছে গেলে তিনি অন্তত সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমাধানের পথ খুঁজতে চেষ্টা করেন।
ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবতার শিক্ষা। সমাজে ভালো কাজ করতে গেলে সমালোচনা, বাধা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির মুখোমুখি হতে হয় এ কথা স্বীকার করেন তিনি। তবুও তিনি বিশ্বাস করেন, “মানুষকে ভালোবাসতে হবে, ক্ষমা করতে হবে এবং ভালো কাজ করে যেতে হবে।” তিনি প্রায়ই বলেন, “গাছ যত ফল দেয়, সে গাছ তত ঢিল খায়। কিন্তু তবুও গাছ ফল দেওয়া বন্ধ করে না। মানুষকেও ভালো কাজ বন্ধ করা উচিত নয়।” মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অর্জন, মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু) মনে করেন, জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ-পদবী নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া। তিনি বলেন, “মানুষের মুখের হাসি, মানুষের ভালোবাসা এবং মানুষের দোয়া এগুলোই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” আজ এরশাদনগরের অনেক মানুষ তার জন্য দোয়া করেন। তারা চান, সমাজের কল্যাণে যারা কাজ করেন, যারা মানুষের পাশে দাঁড়ান, যারা শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন আল্লাহ তাআলা যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন।
একটি সুন্দর আগামী দিনের প্রত্যাশা। এরশাদনগরের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক সম্প্রীতি, মাদকবিরোধী সচেতনতা, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গঠনের যে প্রচেষ্টা চলছে, তা আরও শক্তিশালী হোক এটাই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক একটি নিরাপদ, সুন্দর, মানবিক ও উন্নত এরশাদনগর যেখানে থাকবে না মাদক, সন্ত্রাস, ছিনতাই কিংবা সামাজিক অবক্ষয়; থাকবে শুধু উন্নয়ন, সম্প্রীতি, মানবতা এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।

















