ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাই কোর্টের রায় স্থগিত, আপিল শুনানি ১৬ জুন

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ১৫৮৪ বার পড়া হয়েছে

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাই কোর্টের রায় কার্যকর হবে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিদ্যমান কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় এবং অধস্তন আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা জোরদারের কথা বলা হয়।
হাই কোর্টের রায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সচিবালয় কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি এবং শৃঙ্খলাজনিত বিষয়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব এর অধীনে ন্যস্ত হয়।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার এ কাঠামো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর সচিবালয় তার আইনগত ভিত্তি হারায়। এর ফলে বিচার বিভাগসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায়। পরবর্তী সময়ে বিলুপ্ত সচিবালয়ের অধীনে কর্মরত ১৫ জন জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মকর্তাকেও আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত এবং হাই কোর্টের রায়কে ঘিরে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, অন্যদিকে সচিবালয়ের কার্যক্রম বহাল রাখার দাবিতে পৃথক আইনি উদ্যোগও নেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়ার মধ্যেই আপিল বিভাগ আপাতত হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রেখে মূল আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন দিন ধার্য করেছে।
বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি নতুন নয়। ১৯৯৫ সালে দায়ের হওয়া মাসদার হোসেন মামলার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে চলমান এই আইনি লড়াইকেও সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাই কোর্টের রায় স্থগিত, আপিল শুনানি ১৬ জুন

আপডেট সময় : ১০:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাই কোর্টের রায় কার্যকর হবে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিদ্যমান কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় এবং অধস্তন আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা জোরদারের কথা বলা হয়।
হাই কোর্টের রায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সচিবালয় কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি এবং শৃঙ্খলাজনিত বিষয়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব এর অধীনে ন্যস্ত হয়।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার এ কাঠামো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর সচিবালয় তার আইনগত ভিত্তি হারায়। এর ফলে বিচার বিভাগসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায়। পরবর্তী সময়ে বিলুপ্ত সচিবালয়ের অধীনে কর্মরত ১৫ জন জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মকর্তাকেও আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত এবং হাই কোর্টের রায়কে ঘিরে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, অন্যদিকে সচিবালয়ের কার্যক্রম বহাল রাখার দাবিতে পৃথক আইনি উদ্যোগও নেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়ার মধ্যেই আপিল বিভাগ আপাতত হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রেখে মূল আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন দিন ধার্য করেছে।
বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি নতুন নয়। ১৯৯৫ সালে দায়ের হওয়া মাসদার হোসেন মামলার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে চলমান এই আইনি লড়াইকেও সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।