ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা

অধ্যাপক এম এ মান্নানের সাথে কারাবরণ, পরিবারের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস—তবুও থেমে নেই মানবসেবা; এলাকায় কমেছে মাদক বেচাকেনা, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা

সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বে মোঃ আব্দুল খালেক: মাদকবিরোধী অবস্থান ও কর্মসংস্থানের স্বপ্নে এগিয়ে চলা এক জনবান্ধব প্রার্থী

মোসাঃ কিবরিয়া
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল খালেক এখন শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং একজন সংগ্রামী, মানবিক ও দৃঢ়চেতা সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন, কারাবাস ও পারিবারিক কষ্ট সহ্য করেও তিনি আজ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অটল প্রতীক।
মোঃ আব্দুল খালেকের জীবন শুরু হয় একটি আদর্শিক পরিবারে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন ছিলেন সমাজের ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতীক। আমতলী কেরানির টেক জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে তিনি মসজিদ নির্মাণ ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে মোঃ আব্দুল খালেককে বহু নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দী ছিলেন এবং সেই সময় তিনি গাজীপুরের সাবেক মেয়র, সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মান্নানের সাথে একই কারাগারে বন্দী ছিলেন। প্রয়াত এই নেতাকে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তার আদর্শকে নিজের জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করেন।
শুধু তিনি নন, তার পরিবারও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। তার শ্যালক মোঃ দুলাল এবং আপন ভাই মোঃ মনির হোসেনকেও কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে মনির হোসেন দীর্ঘ কারাভোগের পর মৃত্যুবরণ করেন। যা পরিবারটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে তাদের পরিবারকে পালিয়ে পালিয়ে জীবনযাপন করতে হয়েছে। কখনো চট্টগ্রাম, কখনো শ্রীমঙ্গল, চাঁদপুর কিংবা রাজেন্দ্রপুর, বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অনেক সময় পানিবেষ্টিত এলাকায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে থাকতে হয়েছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই জীবন ছিল চরম কষ্টকর। এই কঠিন সময়ে তার সহধর্মিণী একাই সন্তানদের মানুষ করেছেন, হোস্টেলে রেখে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং পরিবারের দায়িত্ব সামলেছেন। তার এই ত্যাগকে মোঃ আব্দুল খালেক গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
বর্তমানে তিনি ৪৬নং ওয়ার্ডে নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অবস্থানে তিনি অত্যন্ত কঠোর। এলাকাবাসীর মতে, তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে এলাকায় মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ভয় পায় বলেও স্থানীয়রা জানান।
মোঃ আব্দুল খালেক নিজেও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি কখনো এই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলতে দেবো না।” তিনি বিশ্বাস করেন, বেকারত্বই অনেক অপরাধের মূল কারণ। মানুষ কাজ না পেলে, শয়তানের প্ররোচনায় খারাপ পথে যেতে বাধ্য হয়। তাই তিনি শুধু মাদকবিরোধী অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নন—বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তিনি সবচেয়ে বড় সমাধান হিসেবে দেখেন।
বর্তমানে তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০০ শ্রমিক কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তিনি ৪৬নং ওয়ার্ডে একটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা গার্মেন্টস স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যাতে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তবে উপযুক্ত জায়গার অভাবে এখনো সেই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সুযোগ পেলে নিজ উদ্যোগেই একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন, যেখানে এলাকার বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কোরবানির ঈদে গরিবদের মাঝে মাংস বিতরণ, ঈদুল ফিতরে কাপড় ও খাদ্যসামগ্রী প্রদানসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। রাজনৈতিকভাবে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত। দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো সংকটে তিনি পাশে দাঁড়ান এবং এলাকায় একটি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
ত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শ, মাদকবিরোধী অবস্থান ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন। সব মিলিয়ে মোঃ আব্দুল খালেক আজ ৪৬নং ওয়ার্ডবাসীর কাছে এক আস্থার নাম। ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ-কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি যে পথচলা শুরু করেছেন, তা আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অধ্যাপক এম এ মান্নানের সাথে কারাবরণ, পরিবারের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস—তবুও থেমে নেই মানবসেবা; এলাকায় কমেছে মাদক বেচাকেনা, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা

সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বে মোঃ আব্দুল খালেক: মাদকবিরোধী অবস্থান ও কর্মসংস্থানের স্বপ্নে এগিয়ে চলা এক জনবান্ধব প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল খালেক এখন শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং একজন সংগ্রামী, মানবিক ও দৃঢ়চেতা সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন, কারাবাস ও পারিবারিক কষ্ট সহ্য করেও তিনি আজ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অটল প্রতীক।
মোঃ আব্দুল খালেকের জীবন শুরু হয় একটি আদর্শিক পরিবারে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন ছিলেন সমাজের ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতীক। আমতলী কেরানির টেক জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে তিনি মসজিদ নির্মাণ ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে মোঃ আব্দুল খালেককে বহু নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দী ছিলেন এবং সেই সময় তিনি গাজীপুরের সাবেক মেয়র, সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মান্নানের সাথে একই কারাগারে বন্দী ছিলেন। প্রয়াত এই নেতাকে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তার আদর্শকে নিজের জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করেন।
শুধু তিনি নন, তার পরিবারও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। তার শ্যালক মোঃ দুলাল এবং আপন ভাই মোঃ মনির হোসেনকেও কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে মনির হোসেন দীর্ঘ কারাভোগের পর মৃত্যুবরণ করেন। যা পরিবারটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে তাদের পরিবারকে পালিয়ে পালিয়ে জীবনযাপন করতে হয়েছে। কখনো চট্টগ্রাম, কখনো শ্রীমঙ্গল, চাঁদপুর কিংবা রাজেন্দ্রপুর, বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অনেক সময় পানিবেষ্টিত এলাকায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে থাকতে হয়েছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই জীবন ছিল চরম কষ্টকর। এই কঠিন সময়ে তার সহধর্মিণী একাই সন্তানদের মানুষ করেছেন, হোস্টেলে রেখে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং পরিবারের দায়িত্ব সামলেছেন। তার এই ত্যাগকে মোঃ আব্দুল খালেক গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
বর্তমানে তিনি ৪৬নং ওয়ার্ডে নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অবস্থানে তিনি অত্যন্ত কঠোর। এলাকাবাসীর মতে, তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে এলাকায় মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ভয় পায় বলেও স্থানীয়রা জানান।
মোঃ আব্দুল খালেক নিজেও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি কখনো এই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলতে দেবো না।” তিনি বিশ্বাস করেন, বেকারত্বই অনেক অপরাধের মূল কারণ। মানুষ কাজ না পেলে, শয়তানের প্ররোচনায় খারাপ পথে যেতে বাধ্য হয়। তাই তিনি শুধু মাদকবিরোধী অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নন—বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তিনি সবচেয়ে বড় সমাধান হিসেবে দেখেন।
বর্তমানে তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০০ শ্রমিক কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তিনি ৪৬নং ওয়ার্ডে একটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা গার্মেন্টস স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যাতে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তবে উপযুক্ত জায়গার অভাবে এখনো সেই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সুযোগ পেলে নিজ উদ্যোগেই একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন, যেখানে এলাকার বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কোরবানির ঈদে গরিবদের মাঝে মাংস বিতরণ, ঈদুল ফিতরে কাপড় ও খাদ্যসামগ্রী প্রদানসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। রাজনৈতিকভাবে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত। দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো সংকটে তিনি পাশে দাঁড়ান এবং এলাকায় একটি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
ত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শ, মাদকবিরোধী অবস্থান ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন। সব মিলিয়ে মোঃ আব্দুল খালেক আজ ৪৬নং ওয়ার্ডবাসীর কাছে এক আস্থার নাম। ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ-কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি যে পথচলা শুরু করেছেন, তা আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।