গাজীপুরের টঙ্গী এরশাদ নগরে মায়ের কান্না, প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের জন্য পুলিশের সহায়তা কামনা
“আমার নির্দোষ ছেলেকে ফিরিয়ে দিন”—মায়ের আর্তনাদে ন্যায়বিচারের আহ্বান
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
- / ৫৫৮ বার পড়া হয়েছে

মায়ের কণ্ঠে সত্যের আকুতি। গাজীপুরের টঙ্গী এরশাদ নগরের আকাশে আজ যেন এক মায়ের দীর্ঘশ্বাস ভেসে বেড়ায়। প্রতিটি রাত তার কাছে অশ্রুভেজা, প্রতিটি সকাল অপেক্ষার কবে ফিরে আসবে তার বুকের ধন, তার সন্তান। মোসাঃ লাইলী বেগম, একজন অসহায় মা। তার কণ্ঠে আজ আর অভিযোগ নেই, আছে শুধু আকুতি। তার চোখে আর স্বপ্ন নেই, আছে শুধু কান্না।
তিনি বলছেন, “আমার ছেলে মোঃ বিল্লাল হোসেন শিমুল, যাকে অনেকে ‘ভেজাল বিল্লাল’ নামে চেনে। সে নির্দোষ। তাকে অন্যায়ভাবে এই হত্যামামলায় জড়ানো হয়েছে। প্রকৃত অপরাধী এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” ঘটনার অন্তরালের অভিযোগ। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রকৃতপক্ষে ‘ট্রাক বিল্লাল’ এবং অন্যান্য কিছু বিল্লাল, যারা ফোন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, প্রকৃত অপরাধী।
“মামলার প্রথম এজাজ ভুক্তদের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও শাস্তি প্রয়োজন। আমার নির্দোষ ছেলে ফাঁস হয়েছে। এটি যেন আর কেউ ভুক্তভোগী না হয়।” একটি প্রতিশোধ, একটি ষড়যন্ত্র। আর তার শিকার একটি পরিবার।
মামলার কাগজে যা আছে, মামলা নং: টঙ্গী পশ্চিম থানার ০৭/২০২৫, ধারা: ৩০২/৩৪ (হত্যা) গ্রেফতার: ২৫/১০/২০২৫
রিমান্ড আবেদন: ৭ দিন, নিম্ন আদালতে জামিন: একাধিকবার নামঞ্জুর, উচ্চ আদালতে: অন্তর্বর্তীকালীন জামিন (Ad-interim bail) মঞ্জুর।
মায়ের মতে, “এই কাগজে সত্যের সবটা লেখা নেই।”
মায়ের আর্তনাদ।
“আইন মানি, বিচার মানি,
তবু কেন আমার বুক খালি?
যে ছেলে আমার আঁচল ধরে হাঁটতে শিখেছিল,
সে আজ লোহার শিকের আড়ালে কেন?
হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী—
আমার ছেলে খুনি নয়!
যে হাতে সে ভাত খেত,
সে হাতে কি করে রক্ত লাগে?
বিচার চাই না অন্যায় করে,
শুধু সত্যটা যেন প্রকাশ পায়—
প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হোক,
নির্দোষের হাসি ফিরে আসুক।”
আইন সংস্থা ও পুলিশকে মানবিক সহযোগিতার আহ্বান। মায়ের আর্তনাদ সকলকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ, আইন প্রণেতা সচেতন হোন। মামলার প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষ ও মানবিকভাবে পরিচালিত হোক। প্রকৃত অপরাধী ‘ট্রাক বিল্লাল’/আরো অনেক ধরণে বিল্লাল এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করুন। নির্দোষ বিল্লাল হোসেন শিমুলকে মুক্তি দিন। মামলার অন্যান্য অংশে জড়িত নির্দোষদের উপর কোনো ভুল দোষারোপ যেন না হয়। “আইন শুধু শাস্তি নয়, এটি মানবতার প্রতিফলন। ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও নির্দোষ রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ন্যায়বিচার পাওয়ার বাস্তব দিকনির্দেশনা।
১. সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন। প্রকৃত আসামি ও ফোন/যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তের তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন।
২. ধারা ১৬৪ জবানবন্দি যাচাই। স্বীকারোক্তি যাচাই। বিভ্রান্তিকর জবানবন্দি চ্যালেঞ্জ করা।
৩. উচ্চ আদালতে নিয়মিত জামিন আবেদন। পূর্বের অন্তর্বর্তী জামিন রেফারেন্স ব্যবহার।
৪. নিরপেক্ষ রিট বা ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন।
৫. সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ। প্রত্যক্ষদর্শী, মোবাইল লোকেশন, ভিডিও, কল রেকর্ড।
একটি মায়ের আহ্বান
“হে প্রশাসন, হে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হে আদালত—
আপনারাই আমার সন্তানের বিচার দেবেন।
আমি শুধু বলি—সত্যটা খুঁজে বের করুন।
প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিন,
আর আমার নির্দোষ ছেলেকে মুক্তি দিন…”
মানবতার ডাক। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক। প্রকৃত অপরাধী ও জড়িতদের শনাক্ত ও শাস্তি হোক। নির্দোষ মানুষের মুক্তি নিশ্চিত হোক। একটি মায়ের চোখের পানি বৃথা না যায়।


















