বিএনপির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিবাদ, ভাইরাল হলো কারণ দর্শানোর নোটিশ
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
- / ২০২৫ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক কাজী মো. হুমায়ুন কবিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এ নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন কাজী হুমায়ুন কবির। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে জড়িয়ে পড়ে তাঁদেরকে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করেছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামীপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। এতে করে দলীয় ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বিশেষভাবে নোটিশে বলা হয়, হুমায়ুন কবির “বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র” গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি দিলশান আরা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যা “সংগঠনবিরোধী, ষড়যন্ত্রমূলক এবং দলবিরোধী” বলে দাবি করেছে থানা বিএনপি।
নোটিশ প্রেরক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বেপারী, দপ্তর সম্পাদক, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি লিখিত নোটিশে হুমায়ুন কবিরকে তিন দিনের মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, তার বিরুদ্ধে দলীয় বিধি মোতাবেক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া নোটিশ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া, বিতর্কটি আরও জটিল হয় যখন কারণ দর্শানোর নোটিশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে নোটিশ ভাইরাল হয়ে গেলে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। দলের ভেতর অনেকেই এটিকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয় ফাঁস করে দলকে অসম্মানিত করার চক্রান্ত’ হিসেবে দেখছেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এভাবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের নোটিশ ভাইরাল হওয়া একধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদি কেউ দোষী হয়, তাহলে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বহিষ্কারের সুপারিশ আসতে পারে? বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এসেছে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা স্থায়ী বহিষ্কারের প্রক্রিয়া বিবেচনা করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই ঘটনা শুধুমাত্র টঙ্গী বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রতিফলন নয়, এটি একটি বৃহত্তর ইঙ্গিত—যেখানে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলার অভাব, পারস্পরিক আস্থা সংকট এবং ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা হ্রাস পাচ্ছে।”





















