ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা

দেশে বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক/সংবাদ আলোচনা
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮৩৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা। গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে মোট ৮৩৬ নারী ও কন্যাশিশু। তার মধ্যে ২৬০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর মার্চে পৃথকভাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মোট ৩৯৪ জন আর শুধু মার্চেই ৪৪২ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে গত মার্চে ২৪৮ কন্যাশিশু এবং ১৯৪ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ১২৫ শিশুসহ ১৬৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ শিশুসহ ৩৬ জন। দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে আর দু’জন ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে। তাছাড়া ৫৫ শিশুসহ ৭০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শিশুসহ ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে তিন শিশুসহ ১১ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। চার শিশু ও এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে । জানুয়ারি মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০৫ নারী ও কন্যাশিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৩ শিশুসহ ৪৯ জন। তার মধ্যে ১৪ শিশুসহ ২০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুসহ দু’জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া দু’জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের মার্চে শিশু ও নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকার অভাব, বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে। দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যে হারে বেড়ে চলেছে, তা জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধর্ষণ বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বেড়েছে। মার্চে ১৩২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৭টি। মার্চে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১৭টি, যেটি পরের মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫টিতে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে ঘটেছিল ১৯টি, আর মার্চে ৬১টি।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশে নারীর প্রতি বিদ্বেষ আরো বেড়েছে। নারীকে অপমান করা, প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনা ঘটছে। দেশে মব সহিংসতা বেড়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে অপরাধীর শাস্তি দাবি করছি। আর আইন যেমন যথাযথ হওয়া দরকার, তেমনি ভুক্তভোগীর বিচার প্রক্রিয়ার বাধাগুলোও দূর করা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশে বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

দেশে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা। গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে মোট ৮৩৬ নারী ও কন্যাশিশু। তার মধ্যে ২৬০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর মার্চে পৃথকভাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মোট ৩৯৪ জন আর শুধু মার্চেই ৪৪২ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে গত মার্চে ২৪৮ কন্যাশিশু এবং ১৯৪ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ১২৫ শিশুসহ ১৬৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ শিশুসহ ৩৬ জন। দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে আর দু’জন ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে। তাছাড়া ৫৫ শিশুসহ ৭০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শিশুসহ ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে তিন শিশুসহ ১১ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। চার শিশু ও এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে । জানুয়ারি মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০৫ নারী ও কন্যাশিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৩ শিশুসহ ৪৯ জন। তার মধ্যে ১৪ শিশুসহ ২০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুসহ দু’জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া দু’জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের মার্চে শিশু ও নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকার অভাব, বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে। দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যে হারে বেড়ে চলেছে, তা জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধর্ষণ বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বেড়েছে। মার্চে ১৩২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৭টি। মার্চে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১৭টি, যেটি পরের মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫টিতে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে ঘটেছিল ১৯টি, আর মার্চে ৬১টি।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশে নারীর প্রতি বিদ্বেষ আরো বেড়েছে। নারীকে অপমান করা, প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনা ঘটছে। দেশে মব সহিংসতা বেড়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে অপরাধীর শাস্তি দাবি করছি। আর আইন যেমন যথাযথ হওয়া দরকার, তেমনি ভুক্তভোগীর বিচার প্রক্রিয়ার বাধাগুলোও দূর করা দরকার।