আহতের মধ্যে একজন মাদ্রাসাছাত্র, গরিব রিকশাচালকের পরিবারের অসহায়তা চরমে
গাজীপুরে বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ পাঁচজন আহত
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
- / ৮৮৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুরের কাজী মার্কেট সংলগ্ন রেলগেট এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি পাথরবোঝাই ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী ও এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ মানিক ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৬), ভাতিজা মো. আলিফ আহমেদ (১২), ভাগ্নি সেতু (১৫) এবং সঙ্গী নুর আলম সরকারের শাশুড়ি কল্পনা বেগম (৪৫)। দুর্ঘটনার পরপরই তাদের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত শিশু আলিফকে পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার বাদী মানিক ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে তারা একটি অটোরিকশায় ছিলেন। কাজী মার্কেট রেলগেট এলাকায় যানজটে আটকে গেলে চালক রিকশাটি রেখে পানি খেতে যান। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ড্রাম ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৫৭৪৭) অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক সুজন মিয়া (৫০) পালিয়ে যায়। তবে খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মেহেদী হাসান পিপিএম (বিপি-৭০৯৬৬১০৬৩৬৯) এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়। পরে তাকে চালান প্রদান করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আহত শিশু মো. আলিফ আহমেদ গাজীপুর মহানগরের বাড়িয়ালী, চান্দনা এলাকার হোসেন আলী মুন্সী নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র। তার বাবা মোহাম্মদ রাজিব একজন দরিদ্র ভ্যানচালক। শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, রেলগেট এলাকায় প্রায়ই যানজট ও বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তারা ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, গাজীপুর জজ কোর্ট থেকে মামলাটি অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত ও দুর্বল হতে পারে। তারা দাবি জানান, ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে যেন মামলাটি গাজীপুরেই নিষ্পত্তি করা হয়।
একইসঙ্গে তারা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মো. আলিফ আহমেদের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য সরকার ও সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।



















