ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা নববর্ষে টঙ্গীতে জনসমাগমের ঢল: তারেক রহমানকে বরণে ঐক্যের ডাক—পান্তা-ইলিশে গণউৎসব

মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থা

প্রতিনিধির নামঃ মোঃ ইউনুস আলি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৯০৩ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে মিয়ানমারের ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর, আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় হাজারের বেশি।

বিবিসি’র বার্মিজ সার্ভিস জানিয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট জোর দিয়ে বলছে যে যেকোনও সহায়তা যেন স্বাধীনভাবে ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

মিয়ানমারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মান্দালয়’র ঐতিহাসিক অনেক ভবন এই ভূমিকম্পে মাটিতে মিশে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে সেি ধ্বংসস্তুপ ঘেঁটে দেখছেন।

২০২১ সাল থেকে মিয়ানমার শাসন করা সামরিক জান্তা দেশটির সাগাইং, মান্দালয়, মাগওয়ে, বাগো, ইস্টার শান রাজ্য এবং নেপিডো অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটির দুই বড় শহর, মান্দালয় ও ইয়াংগুনের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের নেপিডো'র সড়কে ফাটল ধরেছে

মিয়ানমারের ইয়াংগুনের বাসিন্দা সো লুইন বলেন, তিনি বহুদিন পর ভূমিকম্প টের পেলেন। ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে, এ নিয়ে তারা সবাই চিন্তিত।

এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, দেশটির একটি ৩৭ সদস্যের রেসকিউ মেডিকেল টিম মিয়ানমারকে সহায়তার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান অভিযান চালাতে যাচ্ছে।

মান্দালয়’র একজন উদ্ধারকর্মী বিবিসি বার্মিজ সার্ভিসকে জানিয়েছেন যে মিয়ানমারের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের “অধিকাংশ ভবন ধসে পড়েছে।”

“উদ্ধার কাজ শুরু করার সময় মান্দালয়’র দৃশ্য ছিল ভয়াবহ,” তিনি বলেন। তিনি ওই সময়ের বর্ণনা করে বলছিলেন যে মানুষ “রাস্তার মধ্যে দৌড়াচ্ছিলো, চিৎকার করছিলো এবং কাঁদছিলো।”

তিনি জানান, জেনারেল হসপিটাল এখন প্রায় পূর্ণ এবং অনেক রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত।

এই উদ্ধারকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতালটিও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিন গড়িয়ে যখন রাত হলো,

“মানুষ তাদের বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছিলো না। তারা এতটা ভয় পেয়েছিল। কেউ কেউ রাস্তায় বসে ছিল… ঘুমোতে পারছিল না।

তারা তাদের পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের চোখের সামনে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখে আতঙ্কিত,” বলছিলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থা

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে মিয়ানমারের ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর, আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় হাজারের বেশি।

বিবিসি’র বার্মিজ সার্ভিস জানিয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট জোর দিয়ে বলছে যে যেকোনও সহায়তা যেন স্বাধীনভাবে ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

মিয়ানমারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মান্দালয়’র ঐতিহাসিক অনেক ভবন এই ভূমিকম্পে মাটিতে মিশে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে সেি ধ্বংসস্তুপ ঘেঁটে দেখছেন।

২০২১ সাল থেকে মিয়ানমার শাসন করা সামরিক জান্তা দেশটির সাগাইং, মান্দালয়, মাগওয়ে, বাগো, ইস্টার শান রাজ্য এবং নেপিডো অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটির দুই বড় শহর, মান্দালয় ও ইয়াংগুনের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের নেপিডো'র সড়কে ফাটল ধরেছে

মিয়ানমারের ইয়াংগুনের বাসিন্দা সো লুইন বলেন, তিনি বহুদিন পর ভূমিকম্প টের পেলেন। ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে, এ নিয়ে তারা সবাই চিন্তিত।

এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, দেশটির একটি ৩৭ সদস্যের রেসকিউ মেডিকেল টিম মিয়ানমারকে সহায়তার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান অভিযান চালাতে যাচ্ছে।

মান্দালয়’র একজন উদ্ধারকর্মী বিবিসি বার্মিজ সার্ভিসকে জানিয়েছেন যে মিয়ানমারের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের “অধিকাংশ ভবন ধসে পড়েছে।”

“উদ্ধার কাজ শুরু করার সময় মান্দালয়’র দৃশ্য ছিল ভয়াবহ,” তিনি বলেন। তিনি ওই সময়ের বর্ণনা করে বলছিলেন যে মানুষ “রাস্তার মধ্যে দৌড়াচ্ছিলো, চিৎকার করছিলো এবং কাঁদছিলো।”

তিনি জানান, জেনারেল হসপিটাল এখন প্রায় পূর্ণ এবং অনেক রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত।

এই উদ্ধারকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতালটিও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিন গড়িয়ে যখন রাত হলো,

“মানুষ তাদের বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছিলো না। তারা এতটা ভয় পেয়েছিল। কেউ কেউ রাস্তায় বসে ছিল… ঘুমোতে পারছিল না।

তারা তাদের পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের চোখের সামনে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখে আতঙ্কিত,” বলছিলেন তিনি।