তিন গরু চুরি, সন্দেহভাজন আটক, মারধর ও দলিল-চেক নেওয়ার অভিযোগ, জেল খেটে আসা আসামিদের প্রশ্ন, “আমরা যদি অপরাধীই হই, তাহলে সিসিটিভি ও প্রমাণ দিয়ে তা যাচাই করা হোক”
গরু চুরির মামলা ঘিরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৬৬৩ বার পড়া হয়েছে

৯ সেপ্টেম্বর গরু চুরি, হওয়ার পর ১.৩০ মিনিটে আটক করে নেওয়া হয় গরুর মালিকদের। ১০ সেপ্টেম্বর তারপর মামলা ও জেলহাজত; ইমরান ও জাহাঙ্গীরের নাম মামলায় কেন, তাঁদের ভূমিকার প্রমাণই বা কী ? গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার জাঝর এলাকায় তিনটি গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় এখন দেখা দিয়েছে বহু প্রশ্ন। একটি রাতের গরু চুরির অভিযোগ থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবে সন্দেহভাজন শনাক্ত, একজনকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া, আটক, মারধর ও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ, জমির দলিল ও ব্যাংকের সাদা চেক নেওয়ার অভিযোগ, এরপর মামলা, গ্রেপ্তার ও জেলহাজত।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটে এলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিটি অংশ কি যথাযথভাবে প্রমাণ-ভিত্তিকভাবে যাচাই করা হয়েছিল ? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, গরু চুরির পর স্থানীয়ভাবে মালিকপক্ষ পুলিশকে ফোন করে সহযোগিতা চেয়েছিল কি না, করে থাকলে পুলিশ কখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল এবং কেন বিলম্ব হলো ? জেল খেটে আসা আসামিদের বক্তব্যে এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, তাঁরা সকালে পুলিশকে ফোন করেছিলেন; কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী বা নেতাদের কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে কিছুটা এড়িয়ে যায়, এমনটাই তাঁদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরিস্থিতির পর ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই মামলার আসামি হয়ে জেল খাটতে হয়। এটি একটি অভিযোগ, এর সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের।


৯ সেপ্টেম্বর রাত, তিনটি গরু কোথায় গেল ? পারুল বেগমের এজাহারে বলা হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় তিনি তাঁর গোয়ালঘরে তিনটি গরুকে খাবার দিয়ে তালাবদ্ধ করেন। পরে ভোররাতে গরুর শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান, বসতঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। জানালা দিয়ে তাকিয়ে কয়েকজনকে গোয়ালঘরের তালা কেটে গরু একটি পিকআপে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও তাঁদের কাছে রয়েছে।
তাহলে প্রথম প্রশ্নটি খুবই সরল, সিসিটিভি ফুটেজে আসলে কাদের দেখা গেছে ? চুরি থেকে সন্দেহ, তারপর মানিককে নিয়ে যাওয়া, গরু চুরির পর স্থানীয়ভাবে চোর শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়। হাবিবুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর কয়েকজনের কাছে একজনকে পরিচিত কারও মতো মনে হয় এবং মোঃ মানিকের নাম ওঠে। এরপর মানিককে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
মৌসুমী আক্তারের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তাঁর স্বামী মানিককে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে আটকে রেখে মারধর ও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।
এখানে তদন্তের প্রশ্ন, মানিককে কে নিয়ে গেলেন ? কেন নিয়ে গেলেন ? কোথায় নিয়ে গেলেন ? কারা সেখানে ছিলেন ? সিসিটিভিতে তাঁদের উপস্থিতি পাওয়া যায় কি না ? “সকালে পুলিশকে ফোন করেছিলাম”, জেল খেটে আসা আসামিদের দাবি, জেল খেটে জামিনে বের হওয়া সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্যে নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় তাঁরা পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নেয় বা এড়িয়ে যায়। তাঁদের দাবি, স্থানীয় কিছু নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়।
জেল খেটে আসা ব্যক্তিদের কেউ কেউ বলেন, “আমরা যদি সত্যিই অপরাধী হয়ে থাকি, তাহলে তদন্ত করে প্রমাণ করুন। কিন্তু পুলিশকে খবর দেওয়ার পরও যদি ঘটনাস্থলে যথাসময়ে না আসা হয়, পরে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদেরই জেলে যেতে হয়, তাহলে প্রশ্ন তো থাকবেই।” তাঁদের আরও বক্তব্য, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গরু চুরির তদন্তের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগের মামলা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এখানে পুলিশের কাছে অনুসন্ধানী প্রশ্ন হলো, সকালে পুলিশকে ফোন করা হয়েছিল কি না ? ফোন করা হয়ে থাকলে কে করেছিলেন ? কোন নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল ? কলটি কখন করা হয়েছিল ? পুলিশের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ? ঘটনাস্থলে পুলিশ কখন পৌঁছেছিল ? কোনো কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে বিলম্ব করলে তার কারণ কী ছিল ?
কল রেকর্ড, থানার ডায়েরি, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করলে এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা সম্ভব।
“আমরা কেন জেল খাটলাম ?” আসামিদের প্রশ্ন, জামিনে বের হয়ে আসা ব্যক্তিদের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে একটি প্রশ্ন, “আমরা কেন জেল খাটলাম ?” তাঁদের দাবি, তাঁরা যদি মারধর, আটক, দলিল ও চেক নেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত না থাকেন, তাহলে তদন্তের শুরুতেই প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। তাঁরা আরও দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষা করা হলে কে কোথায় ছিলেন, তা অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। তবে এসব বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট আসামিদের দাবি। এর সত্যতা তদন্তেই নির্ধারিত হওয়ার কথা। ইমরান ও জাহাঙ্গীরের নাম কেন ? ঘটনার আরেকটি বড় প্রশ্ন মামলায় ইমরান হোসেন ও মোঃ জাহাঙ্গীর মামুনের নাম আসা নিয়ে।
জাহাঙ্গীর মামুন পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন, গরু চুরির খবর পেয়ে তিনি তাঁর ভাতিজা ইমরান হোসেনের সঙ্গে হাবিবুল্লাহর বাড়িতে যান। পরে মানিকের বাড়িতে গিয়ে গরু চুরির বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তাঁর দাবি, মানিককে মারধর, আটকে রাখা কিংবা জমির দলিল ও ব্যাংকের সাদা চেক নেওয়ার সময় তিনি বা তাঁর ভাতিজা সেখানে ছিলেন না।
তাহলে প্রশ্ন, ইমরান হোসেন ও জাহাঙ্গীর মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের নির্দিষ্ট ভিত্তি কী ? তাঁরা কি ঘটনাস্থলে ছিলেন ? থাকলে কতক্ষণ ছিলেন ? সিসিটিভিতে তাঁদের উপস্থিতি আছে কি ? কোনো প্রত্যক্ষদর্শী তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা বলেছেন কি ? মোবাইল কল বা অন্য কোনো প্রমাণ তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কী বলে ? এসব যাচাই না করে শুধু নাম থাকার ভিত্তিতে তাঁদের ভূমিকা নির্ধারণ করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ থাকলে সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
দলিল ও সাদা চেক, কার হাতে গেল ? মামলার সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো জমির দলিল ও ব্যাংকের সাদা চেক নেওয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, মানিকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে না পারায় দলিল ও দুটি সাদা চেক নেওয়া হয়। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে দেখতে হবে, দলিলটি কার ?
চেক কার ব্যাংক হিসাবের ? চেকের স্বাক্ষর ছিল কি ? চেকগুলো বর্তমানে কোথায় ? দলিল বা চেকের কোনো লিখিত হস্তান্তর হয়েছে কি ? কোনো স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি ? ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন ? এগুলো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত। সিসিটিভি নীরব সাক্ষী, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ? ঘটনার দুই পক্ষের বক্তব্যেই সিসিটিভির কথা এসেছে। এক পক্ষ বলছে, গরু চুরির ফুটেজ রয়েছে। অন্য পক্ষ বলছে, তাঁদের বাড়ির সিসিটিভিতেও পরবর্তী ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকতে পারে।
তাই প্রশ্ন একটাই, ফুটেজগুলো কি নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করা হয়েছে ? মূল ডিভিআর/এনভিআর জব্দ করা হয়েছে কি ? ফুটেজের মূল কপি পরীক্ষা করা হয়েছে কি ?
ভিডিওর সময় ও তারিখ সঠিক কি না যাচাই করা হয়েছে কি ? গরু নিয়ে যাওয়া পিকআপের গতিপথ অনুসন্ধান করা হয়েছে কি ? মানিককে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময়ের কোনো ফুটেজ আছে কি ? তাঁকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেই এলাকার কোনো ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে কি ? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের প্রতি প্রশ্ন, আইনের চোখে সবাই সমান, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তবে প্রশ্ন মানেই অভিযোগ প্রমাণিত নয়। যদি সত্যিই সকালে পুলিশকে ফোন করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই কলের তথ্য ও থানার নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যদি পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে বিলম্ব করে থাকে, তার কারণও জানা প্রয়োজন। আর যদি স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের কারণে পুলিশ দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে, এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। একইভাবে, যদি পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে এবং অভিযোগ অনুযায়ী প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, সেটিও তদন্তের নথি ও পুলিশের বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
জেল খাটা মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়, এই ঘটনার একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন, কেউ গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে গেছেন বা আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেই তিনি চূড়ান্তভাবে অপরাধী প্রমাণিত হন না। আবার জামিনে বের হয়ে কেউ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় না। চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে তদন্ত, প্রমাণ এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তাই এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য কাউকে অপরাধী বানানো নয়; বরং যেসব প্রশ্ন স্থানীয় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রমাণের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক, এটাই প্রত্যাশা। জাঝরের ঘটনায় এখন সবচেয়ে জরুরি ১০ প্রশ্ন,
১. ৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনটি গরু কারা চুরি করেছে ?
২. গরু চুরির সিসিটিভি ফুটেজে কাদের দেখা গেছে ?
৩. মানিককে কেন সন্দেহ করা হলো ?
৪. ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তাঁকে কারা নিয়ে গেল ?
৫. তাঁকে কোথায় এবং কতক্ষণ আটক রাখা হয়েছিল ?
৬. মারধরের অভিযোগের পক্ষে চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রমাণ কী ?
৭. জমির দলিল ও সাদা চেক কার হাতে গেছে ?
৮. ইমরান হোসেন ও জাহাঙ্গীর মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী ?
৯. সকালে পুলিশকে ফোন করা হয়ে থাকলে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে যেতে বিলম্বের কারণ কী ?
১০. পুরো ঘটনার সিসিটিভি, কল রেকর্ড, সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি ও অন্যান্য আলামত পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে কি ?
সত্যের জন্য তদন্ত, প্রতিশোধের জন্য নয়, জাঝরের এই ঘটনা এখন একটি স্থানীয় মামলার চেয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে, অপরাধী যে-ই হোক, সে কি আইনের আওতায় আসবে ? আর নির্দোষ কেউ যদি মামলায় জড়িয়ে থাকেন, তিনি কি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়মুক্তি পাবেন ?
দৈনিক সংবাদ আলোচনা মনে করে, একটি মামলার প্রকৃত সাফল্য শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা নয়। প্রকৃত সাফল্য হলো, অপরাধীকে শনাক্ত করা, নির্দোষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটন করা। সিসিটিভি যদি সত্যের সাক্ষী হয়, সিসিটিভি কথা বলুক। কল রেকর্ড যদি সত্যের সাক্ষী হয়, কল রেকর্ড কথা বলুক। দলিল-চেক যদি সত্যের সাক্ষী হয়, নথি কথা বলুক। চিকিৎসা নথি যদি সত্যের সাক্ষী হয়, চিকিৎসা নথি কথা বলুক। সাক্ষীরা যদি সত্য জানেন, আইনের সামনে সত্য তুলে ধরুন। কারও প্রভাব নয়, কারও পরিচয় নয়, কারও রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান নয়, এই ঘটনায় শেষ কথা বলুক প্রমাণ।
দৈনিক সংবাদ আলোচনা-এর প্রশ্ন একটাই, “৯ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাঝরে আসলে কী ঘটেছিল ?” এই প্রশ্নের উত্তর যেন অনুমান দিয়ে নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে পাওয়া যায়।


















