ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা নববর্ষে টঙ্গীতে জনসমাগমের ঢল: তারেক রহমানকে বরণে ঐক্যের ডাক—পান্তা-ইলিশে গণউৎসব

ইরানে অভিযানের শেষ ধাপ, ২ থেকে ৩ সপ্তাহেই ‘কাজ শেষ’ হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর পুরো অভিযান শেষ করতে সময় লাগতে পারে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) প্রচারিত হয়। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন প্রায় কাছাকাছি। গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য জয় এনে দিয়েছে।”
এই অভিযান শুরু হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না।
ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি ২০১৫ সাল থেকেই বলে আসছি, ইরানকে কখনো পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “ইরানের নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।”
এই বক্তব্যে তিনি অতীতের ঘটনাও টেনে আনেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সেই চুক্তি থেকে সরে না এলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে পড়ত। উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে তেহরান ইউরেনিয়াম মজুত কমাতে রাজি হয়েছিল এবং বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে ট্রাম্প প্রশাসন।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি দাবি করা হলেও অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজার এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইরানে অভিযানের শেষ ধাপ, ২ থেকে ৩ সপ্তাহেই ‘কাজ শেষ’ হবে: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর পুরো অভিযান শেষ করতে সময় লাগতে পারে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) প্রচারিত হয়। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন প্রায় কাছাকাছি। গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য জয় এনে দিয়েছে।”
এই অভিযান শুরু হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না।
ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি ২০১৫ সাল থেকেই বলে আসছি, ইরানকে কখনো পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “ইরানের নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।”
এই বক্তব্যে তিনি অতীতের ঘটনাও টেনে আনেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সেই চুক্তি থেকে সরে না এলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে পড়ত। উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে তেহরান ইউরেনিয়াম মজুত কমাতে রাজি হয়েছিল এবং বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে ট্রাম্প প্রশাসন।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি দাবি করা হলেও অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজার এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে।