ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা

একজন বাবার মুখে জীবন দর্শন

“ছেলেকে আদর্শ বাবার ১৬টি উপদেশ: হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল”

মোসাঃ কিবরিয়া
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮৩৮ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার হিফজ মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ কারী মাইনুদ্দিন তার ছেলেকে উদ্দেশ করে যে উপদেশগুলো দিয়েছেন, তা শুধু তার পরিবারের জন্য নয়—সমাজের প্রতিটি তরুণের জন্য একটি নৈতিক শিক্ষা হয়ে উঠেছে।
শ্রম ও সম্মানের পাঠ
তিনি লিখেছেন,
> “জুতা রং করতে দিলে আগে নিজে মুছে দেখো। কাউকে ‘কামলা’, ‘বুয়া’ বলে ছোট করোনা।”
এই বাক্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রত্যেক পেশারই সম্মান আছে।
ব্যক্তিত্বের গঠনে নম্রতা ও মানবিকতা
ছোট পদ, কম শিক্ষা বা সাধারণ পোশাক—কোনো কিছু দিয়েই মানুষকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন,
> “অন্যের ঘাড়ে পা দিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় উপরে উঠো।”
পরিবারের ভারসাম্য ও নারীর প্রতি সম্মান
একজন মুসলিম পিতা হিসেবে তিনি ছেলেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—
> “মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না।”
এই উপদেশ আমাদের ঘরোয়া শান্তির মূল চাবিকাঠি।
সাধারণ কথার মধ্যেই গভীর জ্ঞান
তিনি ছেলেকে শিখিয়েছেন—
> “কারও বাসায় খেতে গেলে আগে নিজের বাসায় একটু খেয়ে যেও।
অন্যের খাবার নিয়ে সমালোচনা করোনা।
কখনো বড় হতে নয়, মানুষ হতে চেষ্টা করো।”
আল্লাহর উপর ভরসা ও ন্যায়ের প্রতি দৃঢ়তা
সবশেষে তিনি ছেলেকে মনে করিয়ে দেন—
> “সবসময় ভদ্র ও নম্র থেকো, তবে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ কোরো না।
এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।”
প্রতিষ্ঠান পরিচিতি:
এই অনন্য উপদেশদাতা—হাফেজ কারী মাইনুদ্দিন—মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক।
ঠিকানা: ১১২/১, হাসান লেন, ইসলামপুর, দত্তপাড়া ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে, টঙ্গী, গাজীপুর।
উপসংহার:
এই লেখাটি শুধু একজন বাবার সন্তানের প্রতি আবেগ নয়—বরং সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার জীবন্ত পাঠ। একুশ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে এইরকম উপদেশপত্র নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একজন বাবার মুখে জীবন দর্শন

“ছেলেকে আদর্শ বাবার ১৬টি উপদেশ: হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল”

আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার হিফজ মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ কারী মাইনুদ্দিন তার ছেলেকে উদ্দেশ করে যে উপদেশগুলো দিয়েছেন, তা শুধু তার পরিবারের জন্য নয়—সমাজের প্রতিটি তরুণের জন্য একটি নৈতিক শিক্ষা হয়ে উঠেছে।
শ্রম ও সম্মানের পাঠ
তিনি লিখেছেন,
> “জুতা রং করতে দিলে আগে নিজে মুছে দেখো। কাউকে ‘কামলা’, ‘বুয়া’ বলে ছোট করোনা।”
এই বাক্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রত্যেক পেশারই সম্মান আছে।
ব্যক্তিত্বের গঠনে নম্রতা ও মানবিকতা
ছোট পদ, কম শিক্ষা বা সাধারণ পোশাক—কোনো কিছু দিয়েই মানুষকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন,
> “অন্যের ঘাড়ে পা দিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় উপরে উঠো।”
পরিবারের ভারসাম্য ও নারীর প্রতি সম্মান
একজন মুসলিম পিতা হিসেবে তিনি ছেলেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—
> “মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না।”
এই উপদেশ আমাদের ঘরোয়া শান্তির মূল চাবিকাঠি।
সাধারণ কথার মধ্যেই গভীর জ্ঞান
তিনি ছেলেকে শিখিয়েছেন—
> “কারও বাসায় খেতে গেলে আগে নিজের বাসায় একটু খেয়ে যেও।
অন্যের খাবার নিয়ে সমালোচনা করোনা।
কখনো বড় হতে নয়, মানুষ হতে চেষ্টা করো।”
আল্লাহর উপর ভরসা ও ন্যায়ের প্রতি দৃঢ়তা
সবশেষে তিনি ছেলেকে মনে করিয়ে দেন—
> “সবসময় ভদ্র ও নম্র থেকো, তবে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ কোরো না।
এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।”
প্রতিষ্ঠান পরিচিতি:
এই অনন্য উপদেশদাতা—হাফেজ কারী মাইনুদ্দিন—মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক।
ঠিকানা: ১১২/১, হাসান লেন, ইসলামপুর, দত্তপাড়া ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে, টঙ্গী, গাজীপুর।
উপসংহার:
এই লেখাটি শুধু একজন বাবার সন্তানের প্রতি আবেগ নয়—বরং সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার জীবন্ত পাঠ। একুশ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে এইরকম উপদেশপত্র নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।