ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা

নির্দোষ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গর্জে উঠছে গাজীপুরবাসী

মোসাঃ কিবরিয়া
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৯২৫ বার পড়া হয়েছে

“আমি আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করিনি। যদি করতাম, তাহলে কখনোই তোমাদের বলতাম না আমাকে মুক্ত করার জন্য চেষ্টা করতে। আমি মাথা পেতে সাজা গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি ন্যায়বিচার পাইনি”—এভাবেই নিজের নিরপরাধ হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন একুশ বছরের অধিক সময় ধরে কারাবন্দি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার।
গাজীপুরের নয়নের মনি, জননন্দিত নেতা, এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই বীর সন্তান দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে কারাভোগ করছেন বলে দাবি করছেন তার পরিবার ও গাজীপুরের সাধারণ মানুষ।
নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে, সরকার শাহানূর ইসলাম রনি তার বাবার মুক্তির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। এই স্ট্যাটাসের পরেই গাজীপুরের হাজারো মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে ঝড় তোলেন। মন্তব্যের ঘরে উপচে পড়া ভালোবাসা ও প্রতিবাদে প্রমাণ মেলে—এই নেতা গাজীপুরবাসীর হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত।


হান্নান আহমেদ লিখেছেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার কাকা সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”
আরেকজন লিখেছেন, “আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে জুলুম দিয়ে পরীক্ষা করেন। ইনশাআল্লাহ, এই নির্দোষ মানুষটাকে মুক্তি দিবেন।”
মাদ্রাসাতুল ইসলাম-এর পক্ষ থেকেও দোয়া করা হয়, “হে আল্লাহ, প্রিয় মানুষটাকে মুক্তির ফয়সালা করে দিন।”
নিলয় বিন আহমেদ মন্তব্য করেন, “আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নুরুল ইসলাম সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই—এটাই চূড়ান্ত সত্য। জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন তিনি।”
আরেকজন সাহসী মন্তব্য করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সাজানো মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আজ যখন নতুন সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করছে, তখন এই নির্দোষ নেতার মুক্তি সময়ের দাবি।”
তিনবারের বেশি “জেলের তালা ভাঙ্গবো, নুরুল ইসলাম সরকারকে আনবো”—এই স্লোগান দিয়ে পোস্ট ভাইরাল হয়।
একজন সরাসরি লেখেন, “একুশ বছর ধরে একজন নিরপরাধ মানুষ কনডেম সেলে বন্দি, এটা শুধু পরিবার নয়, জাতির জন্যও লজ্জার।”
শুধু গাজীপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দোয়া, প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি উঠে আসছে। কেউ লিখেছেন, “গাজীপুরের নেতারা ব্যর্থ হয়েছে”, আবার কেউ বলেছেন, “গাজীপুরের জনপ্রিয়তা আজ তার শত্রুতে পরিণত হয়েছে।”


সবার একটাই দাবি—বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
বর্তমান সরকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের নতুন করে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এমন এক সময়ে একজন নিরপরাধ বীর মুক্তিযোদ্ধার মুক্তি শুধু মানবিক দাবি নয়, জাতীয় মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নির্দোষ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গর্জে উঠছে গাজীপুরবাসী

আপডেট সময় : ১১:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

“আমি আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করিনি। যদি করতাম, তাহলে কখনোই তোমাদের বলতাম না আমাকে মুক্ত করার জন্য চেষ্টা করতে। আমি মাথা পেতে সাজা গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি ন্যায়বিচার পাইনি”—এভাবেই নিজের নিরপরাধ হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন একুশ বছরের অধিক সময় ধরে কারাবন্দি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার।
গাজীপুরের নয়নের মনি, জননন্দিত নেতা, এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই বীর সন্তান দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে কারাভোগ করছেন বলে দাবি করছেন তার পরিবার ও গাজীপুরের সাধারণ মানুষ।
নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে, সরকার শাহানূর ইসলাম রনি তার বাবার মুক্তির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। এই স্ট্যাটাসের পরেই গাজীপুরের হাজারো মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে ঝড় তোলেন। মন্তব্যের ঘরে উপচে পড়া ভালোবাসা ও প্রতিবাদে প্রমাণ মেলে—এই নেতা গাজীপুরবাসীর হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত।


হান্নান আহমেদ লিখেছেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার কাকা সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”
আরেকজন লিখেছেন, “আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে জুলুম দিয়ে পরীক্ষা করেন। ইনশাআল্লাহ, এই নির্দোষ মানুষটাকে মুক্তি দিবেন।”
মাদ্রাসাতুল ইসলাম-এর পক্ষ থেকেও দোয়া করা হয়, “হে আল্লাহ, প্রিয় মানুষটাকে মুক্তির ফয়সালা করে দিন।”
নিলয় বিন আহমেদ মন্তব্য করেন, “আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নুরুল ইসলাম সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই—এটাই চূড়ান্ত সত্য। জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন তিনি।”
আরেকজন সাহসী মন্তব্য করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সাজানো মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আজ যখন নতুন সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করছে, তখন এই নির্দোষ নেতার মুক্তি সময়ের দাবি।”
তিনবারের বেশি “জেলের তালা ভাঙ্গবো, নুরুল ইসলাম সরকারকে আনবো”—এই স্লোগান দিয়ে পোস্ট ভাইরাল হয়।
একজন সরাসরি লেখেন, “একুশ বছর ধরে একজন নিরপরাধ মানুষ কনডেম সেলে বন্দি, এটা শুধু পরিবার নয়, জাতির জন্যও লজ্জার।”
শুধু গাজীপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দোয়া, প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি উঠে আসছে। কেউ লিখেছেন, “গাজীপুরের নেতারা ব্যর্থ হয়েছে”, আবার কেউ বলেছেন, “গাজীপুরের জনপ্রিয়তা আজ তার শত্রুতে পরিণত হয়েছে।”


সবার একটাই দাবি—বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
বর্তমান সরকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের নতুন করে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এমন এক সময়ে একজন নিরপরাধ বীর মুক্তিযোদ্ধার মুক্তি শুধু মানবিক দাবি নয়, জাতীয় মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।