ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা

শ্রদ্ধাঞ্জলি: এম এ মান্নান – এক সংগ্রামী প্রাণের শেষ গল্প

মোসাঃ কিবরিয়া
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮৩৯ বার পড়া হয়েছে

ছোট্ট একটি গ্রাম। মাটির গন্ধে ভরা সরল এক জীবন। সেখানেই জন্ম নেন এম এ মান্নান।
ছেলেবেলা থেকেই তার চোখে ছিল অদম্য স্বপ্ন—নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, দুর্বলদের পাশে থাকা যেন তার রক্তে মিশে ছিল।
কিশোর বয়সেই তিনি দেখেছিলেন অন্যায়ের থাবা কীভাবে নিরীহ মানুষের জীবনকে ভেঙে দেয়। সেইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুলের বারান্দায়, শিক্ষক-বন্ধুদের সাহচর্যে। সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি সবসময় সৎ থাকতেন, অন্যায়কে ডেকে বলতেন — ‍‍”না, আমি তোমার কাছে মাথা নত করবো না।”
কঠিন সময় আসে জীবনে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সব দিক থেকেই তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবুও মান্নান স্যার কখনো থামেননি। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তার জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। যারা কান্না পেত, মান্নান স্যার তাদের হাসাতেন; যারা হতাশ হতেন, তিনি তাদের আশা জাগাতেন।
তার জীবনের একটি ঘটনা আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে—
এক শীতার্ত রাতে গ্রামের এক বিধবা মা তার শিশুকে আগুনের পাশে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ঠাণ্ডায় কাঁপছিল ছোট্ট জীবনটি। খবর পেয়ে এম এ মান্নান স্যার নিজ হাতে তাদের জন্য কম্বল আর খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন। কারো কাছে সহায়তা চেয়ে নয়, নিজের সঞ্চয় ভেঙে। সেই মায়ের চোখের জল আর ছোট্ট শিশুটির হাসি আজো সেই গ্রামের বাতাসে বেঁচে আছে।
এম এ মান্নান স্যার কখনো ক্ষমতার লোভে পা বাড়াননি। তার কাছে মানুষের ভালোবাসাই ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি বিশ্বাস করতেন—”মানুষের ভালোবাসা অর্জন করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।”
শেষ জীবনে বার্ধক্য ও অসুস্থতা যখন শরীরকে জীর্ণ করে ফেলছিল, তখনো মান্নান স্যার মসজিদে হেঁটে যেতেন, শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। তিনি বারবার বলতেন:
“জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”
আজ, এম এ মান্নান স্যারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার সেই মহান জীবনকাহিনী স্মরণ করি। আমরা প্রার্থনা করি—
হে মহান আল্লাহ! এম এ মান্নানস্যারকে তুমি জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করো। তার জীবন যেন সবার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

সরকার শাহনুর ইসলাম রনি সরকার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সহকারে এই লেখা উৎসর্গ করা হলো এম এ মান্নান স্যারের চিরস্মরণীয় জীবনের প্রতি।
তার স্বপ্ন, তার সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।
ইননালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শ্রদ্ধাঞ্জলি: এম এ মান্নান – এক সংগ্রামী প্রাণের শেষ গল্প

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

ছোট্ট একটি গ্রাম। মাটির গন্ধে ভরা সরল এক জীবন। সেখানেই জন্ম নেন এম এ মান্নান।
ছেলেবেলা থেকেই তার চোখে ছিল অদম্য স্বপ্ন—নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, দুর্বলদের পাশে থাকা যেন তার রক্তে মিশে ছিল।
কিশোর বয়সেই তিনি দেখেছিলেন অন্যায়ের থাবা কীভাবে নিরীহ মানুষের জীবনকে ভেঙে দেয়। সেইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুলের বারান্দায়, শিক্ষক-বন্ধুদের সাহচর্যে। সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি সবসময় সৎ থাকতেন, অন্যায়কে ডেকে বলতেন — ‍‍”না, আমি তোমার কাছে মাথা নত করবো না।”
কঠিন সময় আসে জীবনে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সব দিক থেকেই তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবুও মান্নান স্যার কখনো থামেননি। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তার জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। যারা কান্না পেত, মান্নান স্যার তাদের হাসাতেন; যারা হতাশ হতেন, তিনি তাদের আশা জাগাতেন।
তার জীবনের একটি ঘটনা আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে—
এক শীতার্ত রাতে গ্রামের এক বিধবা মা তার শিশুকে আগুনের পাশে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ঠাণ্ডায় কাঁপছিল ছোট্ট জীবনটি। খবর পেয়ে এম এ মান্নান স্যার নিজ হাতে তাদের জন্য কম্বল আর খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন। কারো কাছে সহায়তা চেয়ে নয়, নিজের সঞ্চয় ভেঙে। সেই মায়ের চোখের জল আর ছোট্ট শিশুটির হাসি আজো সেই গ্রামের বাতাসে বেঁচে আছে।
এম এ মান্নান স্যার কখনো ক্ষমতার লোভে পা বাড়াননি। তার কাছে মানুষের ভালোবাসাই ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি বিশ্বাস করতেন—”মানুষের ভালোবাসা অর্জন করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।”
শেষ জীবনে বার্ধক্য ও অসুস্থতা যখন শরীরকে জীর্ণ করে ফেলছিল, তখনো মান্নান স্যার মসজিদে হেঁটে যেতেন, শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। তিনি বারবার বলতেন:
“জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”
আজ, এম এ মান্নান স্যারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার সেই মহান জীবনকাহিনী স্মরণ করি। আমরা প্রার্থনা করি—
হে মহান আল্লাহ! এম এ মান্নানস্যারকে তুমি জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করো। তার জীবন যেন সবার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

সরকার শাহনুর ইসলাম রনি সরকার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সহকারে এই লেখা উৎসর্গ করা হলো এম এ মান্নান স্যারের চিরস্মরণীয় জীবনের প্রতি।
তার স্বপ্ন, তার সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।
ইননালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।