ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শ্রদ্ধাঞ্জলি: এম এ মান্নান – এক সংগ্রামী প্রাণের শেষ গল্প

md younus
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২১৩২ বার পড়া হয়েছে




ছোট্ট একটি গ্রাম। মাটির গন্ধে ভরা সরল এক জীবন। সেখানেই জন্ম নেন এম এ মান্নান।
ছেলেবেলা থেকেই তার চোখে ছিল অদম্য স্বপ্ন—নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, দুর্বলদের পাশে থাকা যেন তার রক্তে মিশে ছিল।
কিশোর বয়সেই তিনি দেখেছিলেন অন্যায়ের থাবা কীভাবে নিরীহ মানুষের জীবনকে ভেঙে দেয়। সেইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুলের বারান্দায়, শিক্ষক-বন্ধুদের সাহচর্যে। সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি সবসময় সৎ থাকতেন, অন্যায়কে ডেকে বলতেন — ‍‍”না, আমি তোমার কাছে মাথা নত করবো না।”
কঠিন সময় আসে জীবনে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সব দিক থেকেই তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবুও মান্নান স্যার কখনো থামেননি। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তার জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। যারা কান্না পেত, মান্নান স্যার তাদের হাসাতেন; যারা হতাশ হতেন, তিনি তাদের আশা জাগাতেন।
তার জীবনের একটি ঘটনা আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে—
এক শীতার্ত রাতে গ্রামের এক বিধবা মা তার শিশুকে আগুনের পাশে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ঠাণ্ডায় কাঁপছিল ছোট্ট জীবনটি। খবর পেয়ে এম এ মান্নান স্যার নিজ হাতে তাদের জন্য কম্বল আর খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন। কারো কাছে সহায়তা চেয়ে নয়, নিজের সঞ্চয় ভেঙে। সেই মায়ের চোখের জল আর ছোট্ট শিশুটির হাসি আজো সেই গ্রামের বাতাসে বেঁচে আছে।
এম এ মান্নান স্যার কখনো ক্ষমতার লোভে পা বাড়াননি। তার কাছে মানুষের ভালোবাসাই ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি বিশ্বাস করতেন—”মানুষের ভালোবাসা অর্জন করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।”
শেষ জীবনে বার্ধক্য ও অসুস্থতা যখন শরীরকে জীর্ণ করে ফেলছিল, তখনো মান্নান স্যার মসজিদে হেঁটে যেতেন, শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। তিনি বারবার বলতেন:
“জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”
আজ, এম এ মান্নান স্যারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার সেই মহান জীবনকাহিনী স্মরণ করি। আমরা প্রার্থনা করি—
হে মহান আল্লাহ! এম এ মান্নানস্যারকে তুমি জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করো। তার জীবন যেন সবার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

সরকার শাহনুর ইসলাম রনি সরকার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সহকারে এই লেখা উৎসর্গ করা হলো এম এ মান্নান স্যারের চিরস্মরণীয় জীবনের প্রতি।
তার স্বপ্ন, তার সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।
ইননালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শ্রদ্ধাঞ্জলি: এম এ মান্নান – এক সংগ্রামী প্রাণের শেষ গল্প

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

ছোট্ট একটি গ্রাম। মাটির গন্ধে ভরা সরল এক জীবন। সেখানেই জন্ম নেন এম এ মান্নান।
ছেলেবেলা থেকেই তার চোখে ছিল অদম্য স্বপ্ন—নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, দুর্বলদের পাশে থাকা যেন তার রক্তে মিশে ছিল।
কিশোর বয়সেই তিনি দেখেছিলেন অন্যায়ের থাবা কীভাবে নিরীহ মানুষের জীবনকে ভেঙে দেয়। সেইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুলের বারান্দায়, শিক্ষক-বন্ধুদের সাহচর্যে। সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি সবসময় সৎ থাকতেন, অন্যায়কে ডেকে বলতেন — ‍‍”না, আমি তোমার কাছে মাথা নত করবো না।”
কঠিন সময় আসে জীবনে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সব দিক থেকেই তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবুও মান্নান স্যার কখনো থামেননি। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তার জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। যারা কান্না পেত, মান্নান স্যার তাদের হাসাতেন; যারা হতাশ হতেন, তিনি তাদের আশা জাগাতেন।
তার জীবনের একটি ঘটনা আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে—
এক শীতার্ত রাতে গ্রামের এক বিধবা মা তার শিশুকে আগুনের পাশে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ঠাণ্ডায় কাঁপছিল ছোট্ট জীবনটি। খবর পেয়ে এম এ মান্নান স্যার নিজ হাতে তাদের জন্য কম্বল আর খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন। কারো কাছে সহায়তা চেয়ে নয়, নিজের সঞ্চয় ভেঙে। সেই মায়ের চোখের জল আর ছোট্ট শিশুটির হাসি আজো সেই গ্রামের বাতাসে বেঁচে আছে।
এম এ মান্নান স্যার কখনো ক্ষমতার লোভে পা বাড়াননি। তার কাছে মানুষের ভালোবাসাই ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি বিশ্বাস করতেন—”মানুষের ভালোবাসা অর্জন করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।”
শেষ জীবনে বার্ধক্য ও অসুস্থতা যখন শরীরকে জীর্ণ করে ফেলছিল, তখনো মান্নান স্যার মসজিদে হেঁটে যেতেন, শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। তিনি বারবার বলতেন:
“জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”
আজ, এম এ মান্নান স্যারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার সেই মহান জীবনকাহিনী স্মরণ করি। আমরা প্রার্থনা করি—
হে মহান আল্লাহ! এম এ মান্নানস্যারকে তুমি জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করো। তার জীবন যেন সবার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

সরকার শাহনুর ইসলাম রনি সরকার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সহকারে এই লেখা উৎসর্গ করা হলো এম এ মান্নান স্যারের চিরস্মরণীয় জীবনের প্রতি।
তার স্বপ্ন, তার সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।
ইননালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।