কিছু মানুষ রাজনীতি করেন ক্ষমতার জন্য, কিছু মানুষ রাজনীতি করেন পরিচিতির জন্য, আবার কিছু মানুষ রাজনীতিকে বেছে নেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে। সময়ের পরিক্রমায় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন খুব অল্প কয়েকজন। কারণ নেতৃত্ব পদ দিয়ে নয়, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়। টঙ্গীর রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন এমনই এক পরিচিত নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি নিজেকে শুধু একজন সংগঠক হিসেবে নয়, বরং কর্মীদের আপনজন, সাধারণ মানুষের সহযাত্রী এবং সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
রাজনীতির পথে দীর্ঘ যাত্রা। রাজনীতি কোনো একদিনের অর্জন নয়। এর পেছনে থাকে বছরের পর বছর পরিশ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এক অবিরাম প্রয়াস। সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের রাজনৈতিক জীবনও তেমনই এক ধারাবাহিক পথচলার গল্প। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে করতে তিনি ধীরে ধীরে একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর বিশ্বাস, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার সাধারণ কর্মীদের মধ্যে নিহিত। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সবসময় চেষ্টা করেন কর্মীদের মূল্যায়ন করতে, তাঁদের সুখ-দুঃখের খবর রাখতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে।
মানুষের পাশে থাকার দর্শন। রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন নেতার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় মানুষের প্রয়োজনে তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দোয়া মাহফিল আয়োজন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁকে দেখা যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভাষায়, “মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।”
শহীদ জিয়ার আদর্শ ও সাংগঠনিক চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং দেশপ্রেমের মূল্যবোধকে ধারণ করার চেষ্টা করেন বলে নেতা-কর্মীরা মনে করেন। শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন সেই সাংগঠনিক চেতনারই প্রতিফলন। এ ধরনের আয়োজনে শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষ, এতিম শিশু, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
কক্সবাজারে এক স্মরণীয় মহামিলন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারে আয়োজিত বিএনপি পরিবারের মিলনমেলা ছিল সংগঠনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় আয়োজন। প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সফর ছিল আনন্দ, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সাংগঠনিক ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ।
সমুদ্রের গর্জন, মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য এবং কক্সবাজারের মনোমুগ্ধকর পরিবেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন মতবিনিময় সভা, সাংগঠনিক আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও এমন পারিবারিক পরিবেশে একত্রিত হওয়ার সুযোগ খুব কম আসে। ফলে সফরটি শুধু আনন্দ ভ্রমণ নয়, বরং ছিল হৃদয়ের বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক উপলক্ষ।
ঐক্যের শক্তি, সংগঠনের ভিত্তি। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার কর্মীরা। যে সংগঠনের কর্মীরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহযোগিতাপরায়ণ এবং ঐক্যবদ্ধ, সেই সংগঠনই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে। কক্সবাজারের এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই মনে করেন, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের এই উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অনেক পুরোনো সহযোদ্ধার সঙ্গে পুনর্মিলন হয়েছে, নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সাংগঠনিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন। দেশের উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। এই বিশ্বাস থেকেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। কক্সবাজার সফরের বিভিন্ন আলোচনায়ও উঠে আসে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সংগঠকের পরিচয়। নেতৃত্ব কেবল বক্তব্যে নয়, কর্মে প্রকাশ পায়। কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মূল্যায়ন করা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখা এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার যে প্রচেষ্টা সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাঁর সহকর্মীরা মনে করেন, তা তাঁকে একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত করেছে। তাঁর নেতৃত্বের মূল দর্শন হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করেন ঐক্য, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানুষের কল্যাণ।
জীবনের প্রতিটি পথচলায় কিছু মানুষ স্মৃতি হয়ে থাকেন, আর কিছু মানুষ অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। রাজনীতি, সমাজসেবা, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের সমন্বয়ে সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের পথচলা তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। কক্সবাজারের সেই মহামিলনের মতোই তাঁর স্বপ্নও যেন এক বৃহৎ পরিবারের স্বপ্ন যেখানে থাকবে ঐক্য, সম্প্রীতি, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা। কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস মনে রাখে সেই মানুষদের, যারা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছেন; আর মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার সবচেয়ে বড় পথ হলো সেবা, সততা, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com