ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এরশাদনগরের তরুণদের স্বপ্নের বাতিঘর কর্মমুখী শিক্ষায় না ফিরলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশ: তারেক রহমান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৭ হাজারের বেশি হাজি, সৌদিতে মৃত্যু ৪৮ বাংলাদেশির সরকারে যোগ দেওয়ার মূল্য এতটা কঠিন হবে ভাবিনি: ফারুকী পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা মহানগর বাসযোগ্য মনে হয় না, নিশ্বাস নেওয়ার অবস্থা নেই: মির্জা ফখরুল রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে আশা রামিশার বাবার জনসমুদ্রের ঢেউয়ে জিয়ার স্মৃতি, দোয়ার অশ্রুতে ভেজা টঙ্গী-গাজীপুর হজ্বের পবিত্রতা থেকে মানবতার সেবায় নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

একটি মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন, একটি জনপদের আশা, একটি জাতির ভবিষ্যৎ

এরশাদনগরের তরুণদের স্বপ্নের বাতিঘর

md younus
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১৭০৩ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর ব্লক, এরশাদনগর। জনবহুল, শ্রমজীবী ও অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত এই এলাকায় নীরবে-নিভৃতে গড়ে উঠেছে একটি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান “বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র”। এটি শুধুমাত্র একটি জিমনেসিয়াম নয়, এটি শত শত তরুণ-তরুণীর জীবন বদলে দেওয়ার একটি সংগ্রামী প্রতিষ্ঠান। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে হতাশা বদলে যায় আশায়, বেকারত্ব বদলে যায় কর্মসংস্থানে, আর পথহারা তরুণ খুঁজে পায় জীবনের সঠিক দিশা।
প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় অনুশীলন। সকালে ছেলেরা, বিকেলে মেয়েরা এবং সন্ধ্যার পর সাবেক ও বর্তমান প্রশিক্ষণার্থীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যায়। এই কেন্দ্রের অনেক প্রশিক্ষণার্থী আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও সুশৃঙ্খল বাহিনীতে কর্মরত। তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি এরশাদনগরের গর্ব, গাজীপুরের গর্ব এবং বাংলাদেশের গর্ব।

একজন মুক্তিযোদ্ধার নিরলস সংগ্রাম ও ক্রীড়া গড়ার অদম্য প্রত্যয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান স্বাধীনতার চেতনা বুকে ধারণ করে আজও দেশের যুবসমাজকে গড়ে তোলার কাজে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীনে ভারোত্তোলন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি করেছেন, যারা পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনের পর বয়সজনিত কারণে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। তবে তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে সম্মানীভিত্তিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অবসরের পরও তিনি থেমে যাননি; বরং নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার মহৎ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। প্রতিদিনের মতো এখনো তিনি মাঠে থাকেন, তরুণদের পাশে থাকেন, তাদের উৎসাহ দেন, স্বপ্ন দেখান এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন। নিজের সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
আবেগঘন কণ্ঠে মজিবুর রহমান বলেন, “আজ আমি দেশ-বিদেশে যে সম্মান ও পরিচিতি অর্জন করেছি, তার পেছনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবদান সবচেয়ে বেশি। এই প্রতিষ্ঠানই আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সাহস ও শক্তি দিয়েছে। আমি আজীবন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।”
সহযোগিতার হাত যিনি বাড়িয়েছেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধিকাংশ ভারোত্তোলন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ উপকরণ এসেছে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহযোগিতায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ইউয়ং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ইকুইপমেন্ট, ভারোত্তোলন সামগ্রী ও প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রদান করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেন,
“আমাদের এই ক্লাবের যেসব যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী রয়েছে, তার অধিকাংশই বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অবদান। বিশেষ করে মহিউদ্দিন আহমেদ সাহেবের সহযোগিতা ছাড়া এই কার্যক্রম এতদিন সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন।”
তবুও রয়ে গেছে অপূর্ণতা। অসংখ্য সাফল্যের গল্প তৈরি হলেও কেন্দ্রটির বাস্তবতা এখনো কষ্টের। সীমিত অবকাঠামো, পুরোনো যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধার অভাব এবং আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়েই চলছে এই স্বপ্নযাত্রা।
বর্তমানে প্রয়োজন,
● আন্তর্জাতিক মানের ভারোত্তোলন সরঞ্জাম
● আধুনিক ব্যায়াম ও প্রশিক্ষণ উপকরণ
● প্রশস্ত ও আধুনিক জিমনেসিয়াম ভবন
● নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক সুবিধা
● প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য পুষ্টি ও চিকিৎসা সহায়তা
● নিরাপদ ও স্থায়ী প্রশিক্ষণ অবকাঠামো
একটি সাহায্য বদলে দিতে পারে শত শত জীবন। আজ যদি গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, দেশের শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন, তাহলে এই কেন্দ্রটি শুধু গাজীপুর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। আজ যে কিশোরটি একটি পুরোনো ডাম্বেল হাতে নিয়ে অনুশীলন করছে, সুযোগ পেলে সেই হয়তো আগামী দিনে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক আসরে স্বর্ণপদক জিতবে। আজ যে মেয়েটি সীমিত সুযোগে অনুশীলন করছে, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে সেই হয়তো একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে আনবে।
গাজীপুরের প্রশাসনের প্রতি বিনীত আবেদন, গাজীপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন। একবার এসে দেখুন এরশাদনগরের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। দেখুন কীভাবে সীমাহীন অভাবের মধ্যেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের একটি সহযোগিতা, একটি অনুদান, কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা একটি উন্নত প্রশিক্ষণ ভবন হয়তো বদলে দিতে পারে শত শত তরুণ-তরুণীর জীবন।
একটি স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমানের আজীবনের স্বপ্ন এরশাদনগরের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের ভারোত্তোলন একাডেমিতে রূপান্তর করা। যেখানে দরিদ্র ও মেধাবী ছেলে-মেয়েরা বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের জীবন বদলে দিতে পারবে এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, “যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে দেশ আরও শক্তিশালী হবে, সমাজ হবে আরও সুন্দর, আর বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”
মানবতার প্রতি শেষ আবেদন। আজ এই সংবাদটির মাধ্যমে দেশের সকল ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কাছে বিনীত আহ্বান এরশাদনগরের এই স্বপ্নযাত্রার অংশ হোন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার আজীবনের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসুন।
একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে সহযোগিতা মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করা নয়; বরং একটি প্রজন্মকে আলোর পথে এগিয়ে নেওয়া, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া নক্ষত্র তৈরির কাজে অংশ নেওয়া।
যারা এই মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, এরশাদনগরের হাজারো তরুণ-তরুণী, তাদের পরিবার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আজীবন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
একটি সহযোগিতা বদলে দিতে পারে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি সমাজ এমনকি একটি জাতির ভবিষ্যৎও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একটি মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন, একটি জনপদের আশা, একটি জাতির ভবিষ্যৎ

এরশাদনগরের তরুণদের স্বপ্নের বাতিঘর

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর ব্লক, এরশাদনগর। জনবহুল, শ্রমজীবী ও অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত এই এলাকায় নীরবে-নিভৃতে গড়ে উঠেছে একটি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান “বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র”। এটি শুধুমাত্র একটি জিমনেসিয়াম নয়, এটি শত শত তরুণ-তরুণীর জীবন বদলে দেওয়ার একটি সংগ্রামী প্রতিষ্ঠান। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে হতাশা বদলে যায় আশায়, বেকারত্ব বদলে যায় কর্মসংস্থানে, আর পথহারা তরুণ খুঁজে পায় জীবনের সঠিক দিশা।
প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় অনুশীলন। সকালে ছেলেরা, বিকেলে মেয়েরা এবং সন্ধ্যার পর সাবেক ও বর্তমান প্রশিক্ষণার্থীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যায়। এই কেন্দ্রের অনেক প্রশিক্ষণার্থী আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও সুশৃঙ্খল বাহিনীতে কর্মরত। তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি এরশাদনগরের গর্ব, গাজীপুরের গর্ব এবং বাংলাদেশের গর্ব।

একজন মুক্তিযোদ্ধার নিরলস সংগ্রাম ও ক্রীড়া গড়ার অদম্য প্রত্যয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান স্বাধীনতার চেতনা বুকে ধারণ করে আজও দেশের যুবসমাজকে গড়ে তোলার কাজে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীনে ভারোত্তোলন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি করেছেন, যারা পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনের পর বয়সজনিত কারণে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। তবে তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে সম্মানীভিত্তিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অবসরের পরও তিনি থেমে যাননি; বরং নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার মহৎ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। প্রতিদিনের মতো এখনো তিনি মাঠে থাকেন, তরুণদের পাশে থাকেন, তাদের উৎসাহ দেন, স্বপ্ন দেখান এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন। নিজের সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
আবেগঘন কণ্ঠে মজিবুর রহমান বলেন, “আজ আমি দেশ-বিদেশে যে সম্মান ও পরিচিতি অর্জন করেছি, তার পেছনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবদান সবচেয়ে বেশি। এই প্রতিষ্ঠানই আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সাহস ও শক্তি দিয়েছে। আমি আজীবন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।”
সহযোগিতার হাত যিনি বাড়িয়েছেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধিকাংশ ভারোত্তোলন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ উপকরণ এসেছে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহযোগিতায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ইউয়ং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ইকুইপমেন্ট, ভারোত্তোলন সামগ্রী ও প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রদান করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেন,
“আমাদের এই ক্লাবের যেসব যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী রয়েছে, তার অধিকাংশই বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অবদান। বিশেষ করে মহিউদ্দিন আহমেদ সাহেবের সহযোগিতা ছাড়া এই কার্যক্রম এতদিন সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন।”
তবুও রয়ে গেছে অপূর্ণতা। অসংখ্য সাফল্যের গল্প তৈরি হলেও কেন্দ্রটির বাস্তবতা এখনো কষ্টের। সীমিত অবকাঠামো, পুরোনো যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধার অভাব এবং আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়েই চলছে এই স্বপ্নযাত্রা।
বর্তমানে প্রয়োজন,
● আন্তর্জাতিক মানের ভারোত্তোলন সরঞ্জাম
● আধুনিক ব্যায়াম ও প্রশিক্ষণ উপকরণ
● প্রশস্ত ও আধুনিক জিমনেসিয়াম ভবন
● নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক সুবিধা
● প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য পুষ্টি ও চিকিৎসা সহায়তা
● নিরাপদ ও স্থায়ী প্রশিক্ষণ অবকাঠামো
একটি সাহায্য বদলে দিতে পারে শত শত জীবন। আজ যদি গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, দেশের শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন, তাহলে এই কেন্দ্রটি শুধু গাজীপুর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। আজ যে কিশোরটি একটি পুরোনো ডাম্বেল হাতে নিয়ে অনুশীলন করছে, সুযোগ পেলে সেই হয়তো আগামী দিনে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক আসরে স্বর্ণপদক জিতবে। আজ যে মেয়েটি সীমিত সুযোগে অনুশীলন করছে, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে সেই হয়তো একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে আনবে।
গাজীপুরের প্রশাসনের প্রতি বিনীত আবেদন, গাজীপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন। একবার এসে দেখুন এরশাদনগরের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। দেখুন কীভাবে সীমাহীন অভাবের মধ্যেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের একটি সহযোগিতা, একটি অনুদান, কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা একটি উন্নত প্রশিক্ষণ ভবন হয়তো বদলে দিতে পারে শত শত তরুণ-তরুণীর জীবন।
একটি স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমানের আজীবনের স্বপ্ন এরশাদনগরের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের ভারোত্তোলন একাডেমিতে রূপান্তর করা। যেখানে দরিদ্র ও মেধাবী ছেলে-মেয়েরা বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের জীবন বদলে দিতে পারবে এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, “যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে দেশ আরও শক্তিশালী হবে, সমাজ হবে আরও সুন্দর, আর বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”
মানবতার প্রতি শেষ আবেদন। আজ এই সংবাদটির মাধ্যমে দেশের সকল ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কাছে বিনীত আহ্বান এরশাদনগরের এই স্বপ্নযাত্রার অংশ হোন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার আজীবনের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসুন।
একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে সহযোগিতা মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করা নয়; বরং একটি প্রজন্মকে আলোর পথে এগিয়ে নেওয়া, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া নক্ষত্র তৈরির কাজে অংশ নেওয়া।
যারা এই মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, এরশাদনগরের হাজারো তরুণ-তরুণী, তাদের পরিবার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আজীবন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
একটি সহযোগিতা বদলে দিতে পারে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি সমাজ এমনকি একটি জাতির ভবিষ্যৎও।