মোছাম্মদ বুলবুলির জীবন সংগ্রাম, আন্দোলন ও বিএনপির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক জীবন্ত ইতিহাস
ত্যাগী রাজপথের সাহসী নারী
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / ১৬০৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর ৪৯নং ওয়ার্ডের ৩নং ব্লকের পরিচিত মুখ মোছাম্মদ বুলবুলি। একজন সাহসী, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী, যিনি নিজের জীবনের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে বছরের পর বছর বিএনপি ও মহিলা দলের রাজনীতির সাথে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্বামী মোঃ ইসমাইল, তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে তাঁর পুরো পরিবারই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি এরশাদনগর ৪৯নং ওয়ার্ড মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন ত্যাগী কর্মী, যিনি কখনো পদ-পদবী, অর্থ বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাজনীতি করেননি।

নিজের ফল ও কাঁচামালের ব্যবসা থেকে যা আয় করেছেন, তার বড় অংশ ব্যয় করেছেন দলের জন্য। অনেক সময় নিজের সংসারের চেয়ে দলের কর্মসূচিকে বড় করে দেখেছেন। এমনও দিন গেছে বাসা থেকে না খেয়ে, বোরকা পরে মিটিং-মিছিলে গেছেন। ব্যবসার মালামাল নষ্ট হয়েছে, তবুও তিনি ছুটে গেছেন দলের ডাকে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের এক সাহসী সৈনিক। গাজীপুর চৌরাস্তা, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। টঙ্গীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় পুলিশের গুলিতেও আহত হয়েছিলেন। জীবন বাঁচাতে একটি ফার্নিচারের দোকানে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাঁকে।

শুধু তাই নয় ঢাকায় বিএনপির যত বড় বড় মিটিং-মিছিল হয়েছে, প্রায় সবখানেই তিনি উপস্থিত থেকেছেন। এমনকি জুলাই পাঁচ তারিখের আন্দোলনের দিন কঠোর চেকপোস্ট ও বাধা উপেক্ষা করে ট্রেনে করে ঢাকায় পৌঁছে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। কারণ তাঁর কাছে দল মানে ভালোবাসা, আদর্শ ও আত্মত্যাগ।
শীতের কনকনে রাতে, ভোরবেলা কিংবা গভীর রাতে মিটিং শেষে রাত তিনটায় বাসায় ফিরেছেন তিনি। নিজের টাকায় ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা ভাড়া করে নিজে এসেছেন, আবার দলের নেতাকর্মীদেরও নিয়ে এসেছেন। কোন অসহায় মহিলা নেত্রী বা কর্মী বিপদে পড়লে তাকেও সহায়তা করেছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে ৫-৬ বছর কারাভোগ করেছেন। আরেক ছেলে মোহাম্মদ বিল্লাল জীবিকার তাগিদে বাসের কন্টাকদারি করেন। ছোট ছেলে এখনো বেকার। বড় মেয়ে কবুল রানী সংসারের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। মেজ মেয়ে মোসাম্মৎ রেহানা স্নাতক শেষ করে বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন এবং ছোট মেয়ে মোসাম্মদ শারমিন বর্তমানে অনার্সে অধ্যয়নরত।

মোছাম্মদ বুলবুলির আজ একটাই কষ্ট, দুর্দিনে যারা রাজপথে ছিলেন, আজ দল শক্তিশালী হওয়ার পর তাঁদের অনেককেই ভুলে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “যখন কেউ ছিল না, তখন আমরা ছিলাম। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষ ডেকে এনেছি, মিটিং-মিছিলে লোক গুছিয়ে দিয়েছি। আজ বড় বড় নেতারা নতুনদের চিনেন, কিন্তু দুর্দিনের কর্মীদের খোঁজ নেন না। তবুও বিএনপি আমার হৃদয়ে, বিএনপি বেঁচে থাকলে আমরাও বেঁচে থাকবো।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গাজীপুরে মাননীয় নেতা তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আগমন নিয়ে খবর শুনলেও তাঁকে অনেক সময় জানানো হয় না। কার্ড না থাকলে অনেক কর্মী যেতে পারেন না। অথচ তাঁর মতো ত্যাগী কর্মীদেরও তো অধিকার আছে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার, সালাম জানানোর।
তাঁর বিনীত আবেদন, বিএনপি ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যেন দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন। মোছাম্মদ বুলবুলির মতো নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের ভুলে না গিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্মান ও গুরুত্বের সাথে পাশে রাখেন।
মোছাম্মদ বুলবুলি শুধুই একজন কর্মী নন, তিনি রাজপথের ইতিহাস, সংগ্রামের প্রতীক এবং বিএনপির দুর্দিনের এক জীবন্ত মহাকাব্য।











