ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসো হে বৈশাখ—ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার এক অনন্য মহাকাব্যিক আয়োজন নীরবতার আড়ালে এক মহাকাব্য: মানবতার আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন মানবতার আলোকবর্তিকা, সেবার প্রতীক এক প্রিয় মানুষ ঐতিহ্যের গর্বে, নতুন দিনের প্রত্যয়ে—শুভ পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে! আন্দোলন শুরু, সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে: জামায়াত আমির তৃণমূলের আস্থার প্রতীক গাজী মহাসীন : পহেলা বৈশাখে ঐক্য, মানবিকতা ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার রূপকার স্বপ্ন এখন বাস্তব: প্রতিশ্রুতির পথে নতুন যাত্রা

রমজানের শিক্ষা ও আল-কুরআনের আইন বাস্তবায়নের আহ্বান ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীরের টঙ্গীতে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নারী-পুরুষ মিলিয়ে আড়াই হাজার মানুষের ঢল

“আল্লাহু আকবার—সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর”

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গীঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / ৭৯০ বার পড়া হয়েছে

“আল্লাহু আকবার—সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়। এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেই মানবজাতির প্রকৃত মুক্তি, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে।” এমন জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বিধান ও পবিত্র **আল-কুরআনের আইন অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হলেই মানুষের জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের তৈরি অন্যায় আইন নয়, বরং আল্লাহ প্রদত্ত কুরআনের বিধানই মানবজাতির প্রকৃত মুক্তির পথ দেখায়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে “রমজানের গুরুত্ব, আল-কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য এবং তা বাস্তবায়নের উপায়” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬), ১৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি, গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী সমাজ টঙ্গী থানা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বানে প্রধান আলোচক হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, রমজান মাসেই মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করেছেন। তাই এই মাস শুধু রোজা রাখার মাস নয়; বরং কুরআন বোঝার, কুরআনের শিক্ষা গ্রহণের এবং সেই শিক্ষা সমাজে বাস্তবায়নের মাস।
তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো কুরআন তেলাওয়াত করা, কুরআনের শিক্ষা অর্জন করা এবং অন্যদেরকে ইসলামের পথে আহ্বান করা। মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষকে নামাজ, রোজা, কুরআন ও সুন্নাহর পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তাকওয়া অর্জনের অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমতা বা শক্তির কাছে মাথা নত না করা। লোভ, ক্ষমতার লালসা ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে আত্মসমর্পণ করলে একজন মানুষ কখনোই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী হতে পারে না। প্রকৃত ইসলামী নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকা উচিত যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে।
সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে বলেন, বর্তমানে সমাজে অনেক নেতা-মন্ত্রী নিজেদের তৈরি করা আইন দিয়ে সমাজ পরিচালনা করছেন। কিন্তু মানুষের মাঝে কুরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। অথচ মানুষকে কুরআনের দিকে ফিরিয়ে আনা, ইসলামী জীবনব্যবস্থার দিকে আহ্বান করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই প্রকৃত নেতৃত্বের কাজ।
বক্তারা বলেন, ইসলামী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি দেশব্যাপী কাজ করছে। সত্য ও ন্যায়ের কথা বলার কারণে সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে কারাবরণও করতে হয়েছে। তবুও তারা ইসলামের দাওয়াত প্রচার থেকে পিছপা হননি। নামাজ, রোজা ও তাকওয়ার পথে চলার আহ্বান। অনুষ্ঠানে বক্তারা মুসলমানদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, রোজার গুরুত্ব উপলব্ধি, কুরআন তেলাওয়াত এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা অনুসরণের আহ্বান জানান।
তারা বলেন, মানুষ যদি কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনা করে, তাহলে সমাজে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ পাপ থেকে দূরে থাকবে, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার পথে চলবে। এতে একটি শান্তিপূর্ণ, কল্যাণমুখী ও আল্লাহভীরু সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিরোজ মিয়া, দায়িত্বশীল পশ্চিম থানা টঙ্গী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেলিম মোল্লা, ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল–৩। এতে আরও বক্তব্য রাখেন, মোঃ ইউসুফ আলী মোল্লা, সোয়ায়মান কবির (দায়িত্বশীল ময়মনসিংহ বিভাগ), মোঃ নূর উদ্দিন (দায়িত্বশীল সিলেট বিভাগ), মুফতি মিজান (গাজীপুর মহানগর সহকারী দায়িত্বশীল), প্রফেসর ড. আবু হানিফ খান (কুমিল্লা কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি), টঙ্গী পূর্ব থানা দায়িত্বশীল আলী আজম আরজু, ফয়সাল আহম্মেদ (দায়িত্বশীল শরীয়তপুর ও সাবেক সেনা সদস্য), মোঃ হাফিজুর রহমান (রাজশাহী), মোঃ খোরশেদসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামু। তিনি তার বক্তব্যে ইসলামের ইতিহাস থেকে নমরুদের কাহিনি, হযরত ওমর (রা.), হযরত আবু বকর (রা.)-সহ ইসলামের মহান খলিফাদের জীবনাদর্শ তুলে ধরে মানুষকে ইসলামের পথে চলার আহ্বান জানান।
রাত জেগে প্রস্তুতি, ইফতারে আনন্দ। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠান সফল করতে কর্মীরা আগের রাতেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। সেহরি ও ফজরের নামাজ শেষে তারা রান্না ও ইফতার প্রস্তুতির কাজে অংশ নেন। ইফতারের জন্য বিশেষ খাদ্য প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়, যাতে দুই থেকে তিনজনের একটি পরিবার একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারে। এসব প্যাকেট পেয়ে এলাকার অনেক মানুষ আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
নারী-পুরুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ। সকাল ১০টার মধ্যে মহিলাদের জন্য পৃথক ইসলামী আলোচনা ও দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, যেখানে প্রায় দেড় হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন। পরে বিকেলে পুরুষদের জন্য মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দোয়া ও ইফতারের মাধ্যমে সমাপ্তিতে, অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, কুরআনের শিক্ষা ও ইসলামের দাওয়াত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সমাজে সত্য, ন্যায়, তাকওয়া ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রমজানের শিক্ষা ও আল-কুরআনের আইন বাস্তবায়নের আহ্বান ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীরের টঙ্গীতে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নারী-পুরুষ মিলিয়ে আড়াই হাজার মানুষের ঢল

“আল্লাহু আকবার—সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর”

আপডেট সময় : ০১:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

“আল্লাহু আকবার—সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়। এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেই মানবজাতির প্রকৃত মুক্তি, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে।” এমন জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বিধান ও পবিত্র **আল-কুরআনের আইন অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হলেই মানুষের জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের তৈরি অন্যায় আইন নয়, বরং আল্লাহ প্রদত্ত কুরআনের বিধানই মানবজাতির প্রকৃত মুক্তির পথ দেখায়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে “রমজানের গুরুত্ব, আল-কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য এবং তা বাস্তবায়নের উপায়” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬), ১৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি, গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী সমাজ টঙ্গী থানা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বানে প্রধান আলোচক হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, রমজান মাসেই মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করেছেন। তাই এই মাস শুধু রোজা রাখার মাস নয়; বরং কুরআন বোঝার, কুরআনের শিক্ষা গ্রহণের এবং সেই শিক্ষা সমাজে বাস্তবায়নের মাস।
তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো কুরআন তেলাওয়াত করা, কুরআনের শিক্ষা অর্জন করা এবং অন্যদেরকে ইসলামের পথে আহ্বান করা। মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষকে নামাজ, রোজা, কুরআন ও সুন্নাহর পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তাকওয়া অর্জনের অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমতা বা শক্তির কাছে মাথা নত না করা। লোভ, ক্ষমতার লালসা ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে আত্মসমর্পণ করলে একজন মানুষ কখনোই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী হতে পারে না। প্রকৃত ইসলামী নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকা উচিত যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে।
সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে বলেন, বর্তমানে সমাজে অনেক নেতা-মন্ত্রী নিজেদের তৈরি করা আইন দিয়ে সমাজ পরিচালনা করছেন। কিন্তু মানুষের মাঝে কুরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। অথচ মানুষকে কুরআনের দিকে ফিরিয়ে আনা, ইসলামী জীবনব্যবস্থার দিকে আহ্বান করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই প্রকৃত নেতৃত্বের কাজ।
বক্তারা বলেন, ইসলামী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি দেশব্যাপী কাজ করছে। সত্য ও ন্যায়ের কথা বলার কারণে সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে কারাবরণও করতে হয়েছে। তবুও তারা ইসলামের দাওয়াত প্রচার থেকে পিছপা হননি। নামাজ, রোজা ও তাকওয়ার পথে চলার আহ্বান। অনুষ্ঠানে বক্তারা মুসলমানদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, রোজার গুরুত্ব উপলব্ধি, কুরআন তেলাওয়াত এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা অনুসরণের আহ্বান জানান।
তারা বলেন, মানুষ যদি কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনা করে, তাহলে সমাজে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ পাপ থেকে দূরে থাকবে, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার পথে চলবে। এতে একটি শান্তিপূর্ণ, কল্যাণমুখী ও আল্লাহভীরু সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিরোজ মিয়া, দায়িত্বশীল পশ্চিম থানা টঙ্গী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেলিম মোল্লা, ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল–৩। এতে আরও বক্তব্য রাখেন, মোঃ ইউসুফ আলী মোল্লা, সোয়ায়মান কবির (দায়িত্বশীল ময়মনসিংহ বিভাগ), মোঃ নূর উদ্দিন (দায়িত্বশীল সিলেট বিভাগ), মুফতি মিজান (গাজীপুর মহানগর সহকারী দায়িত্বশীল), প্রফেসর ড. আবু হানিফ খান (কুমিল্লা কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি), টঙ্গী পূর্ব থানা দায়িত্বশীল আলী আজম আরজু, ফয়সাল আহম্মেদ (দায়িত্বশীল শরীয়তপুর ও সাবেক সেনা সদস্য), মোঃ হাফিজুর রহমান (রাজশাহী), মোঃ খোরশেদসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামু। তিনি তার বক্তব্যে ইসলামের ইতিহাস থেকে নমরুদের কাহিনি, হযরত ওমর (রা.), হযরত আবু বকর (রা.)-সহ ইসলামের মহান খলিফাদের জীবনাদর্শ তুলে ধরে মানুষকে ইসলামের পথে চলার আহ্বান জানান।
রাত জেগে প্রস্তুতি, ইফতারে আনন্দ। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠান সফল করতে কর্মীরা আগের রাতেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। সেহরি ও ফজরের নামাজ শেষে তারা রান্না ও ইফতার প্রস্তুতির কাজে অংশ নেন। ইফতারের জন্য বিশেষ খাদ্য প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়, যাতে দুই থেকে তিনজনের একটি পরিবার একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারে। এসব প্যাকেট পেয়ে এলাকার অনেক মানুষ আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
নারী-পুরুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ। সকাল ১০টার মধ্যে মহিলাদের জন্য পৃথক ইসলামী আলোচনা ও দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, যেখানে প্রায় দেড় হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন। পরে বিকেলে পুরুষদের জন্য মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দোয়া ও ইফতারের মাধ্যমে সমাপ্তিতে, অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, কুরআনের শিক্ষা ও ইসলামের দাওয়াত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সমাজে সত্য, ন্যায়, তাকওয়া ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।