ন্যায্য মূল্যে চাল–ডাল পৌঁছে দিতে নিরলস সংগ্রাম; সততা, মানবিকতা ও দয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এরশাদনগরের জনপ্রিয় ওএমএস ডিলার মিরাজ মিয়া
ওএমএস কার্যক্রমে গরিব মানুষের মুখে হাসির আলো এরশাদনগরের ডিলার মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া—“মানুষের সেবা আমার ইবাদত”
- আপডেট সময় : ১২:০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৯৭৪ বার পড়া হয়েছে

বাজারের ওঠানামা যখন দরিদ্র মানুষের ধৈর্য ও সংকটকে পরীক্ষা করে, তখন সরকারের ওএমএস (Open Market Sale) উদ্যোগ হয়ে ওঠে মানুষের ভরসা ও নিরাপত্তার সলিল উৎস। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিতে ভিড় জমান ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে; কেউ আসে ক্ষুধা নিবারণে, কেউ আসে সংসারের চাকা সচল রাখতে। কিন্তু সকল কেন্দ্রেই যে সমান মানবিকতা বা শৃঙ্খলা পাওয়া যায় এমন নয়।

এরশাদনগরে একটি কেন্দ্র রয়েছে—যা শুধু পণ্য বিতরণের স্থান নয়, বরং মানবসেবার উজ্জ্বল প্রতীক। আর সেই কেন্দ্রের প্রাণ মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, যার সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও দয়া মানুষের মনে নতুন বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
“গরিবদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো” এটাই তাঁর অঙ্গীকার। বৃদ্ধ শ্রমিক, বিধবা, দিনমজুর, রিকশাচালক সকলেই একই কথা বলেন: “মিরাজ ভাই না থাকলে এ কেন্দ্র আগের মতো চলত না।” সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আচরণে আছে মমতা, কথাবার্তায় আছে ভরসা, আর কাজে আছে দৃঢ়তা। তিনি মনে করেন, “গরিব মানুষের প্রাপ্য জিনিসে কোনো প্রকার খেয়াল খুশি চলতে পারে না; আল্লাহর কাছে জবাবদিহি আছে।” এ কারণেই বিতরণে নেই অনিয়ম, নেই পক্ষপাত, নেই ভিড়ের বিশৃঙ্খলা।
ওএমএস ডিলার না, যেন একজন অভিভাবক। অনেকেই বলেন, মিরাজ মিয়া একজন ডিলার নন; তিনি যেন এলাকার মানুষের অভিভাবক। তাঁর কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য :-
লাইন দীর্ঘ হলেও শৃঙ্খলা অটুট, নারী ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার, পণ্য কমে গেলে মানুষকে আগে থেকেই জানানো, অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, প্রতিদিন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করা, মানুষকে স্বাভাবিক সম্মানে আচরণ করা।
একজন বৃদ্ধা বলেন, “মিরাজ ভাই নিজ হাতে ব্যাগ ধরে দেন। তাঁর মতো মানুষ পাওয়া ভাগ্যের কথা।”
সমাজে অনেকেই ক্ষমতা ও সুযোগ পেলে তা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেন। কিন্তু মিরাজ মিয়ার অবস্থান ঠিক উল্টো। তিনি বারবার বলেন, “যার হাতে ক্ষমতা থাকে, তারই পরীক্ষা বেশি। আমি চেষ্টা করি যেন কেউ আমার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
এই বক্তব্যেই তাঁর জীবনের দর্শন স্পষ্ট, ‘মানুষকে সাহায্য করা মানে নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করা।’ ওএমএস কেন্দ্রকে তিনি দেখেন দায়িত্ব হিসেবে নয় বরং দানের একটি মাধ্যম হিসেবে, যেখানে প্রতিটি পণ্যের বিতরণে আছে মানবিকতার সুগন্ধ।
দর্শন, দয়া ও দায়িত্ব, তিনের অনন্য সমন্বয়, ধর্মীয় গ্রন্থে বলা হয়েছে, “যে মানুষের উপকার করে সে আল্লাহর প্রিয়।” মিরাজ মিয়ার কাজ যেন এই বাণীর জীবন্ত উদাহরণ। তিনি বলেন,
“গরিব মানুষের দোয়া সবচেয়ে শক্তিশালী। এই দোয়াই আমাকে চালিয়ে নেয়।” আর তাই তিনি মানুষের মুখের হাসিকে নিজের সফলতা মনে করেন।
ওএমএস কার্যক্রম: শুধু চাল–ডাল নয়, আশা, আলোর হাতছানি। এরশাদনগরের শত শত পরিবার প্রতিদিন এই কেন্দ্র থেকে ঘরে নিয়ে যায় শুধু খাবার নয়; শান্তি, নিশ্চয়তা এবং মানুষের প্রতি নতুন আস্থা। রিকশাচালক থেকে শুরু করে দর্জি, গৃহকর্মী, নৈশপ্রহরী, সকলের কাছে এই কেন্দ্র যেন আশ্রয়ের নাম।
একজন দিনমজুর বলেন, “যদি প্রতিটি ডিলার মিরাজ ভাইয়ের মতো হতো, তাহলে গরিব মানুষ আরও ভালোভাবে বাঁচতে পারত।” সমাপনী: মানুষের পাশে যারা থাকে, ইতিহাস তাদেরই মনে রাখে। এ সমাজে এমন মানুষ খুব বেশি নেই, যারা ক্ষমতা থাকার পরও তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেন। মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি ওএমএস কার্যক্রমকে শুধু সরকারি প্রকল্প হিসেবে নয়, মানবতার কাজ হিসেবে দেখেন।
তিনি প্রমাণ করেছেন, “মানুষের সেবা করলে মানুষের দোয়া মেলে, আর সেই দোয়াই পৃথিবীকে সুন্দর করে।” এরশাদনগরের দরিদ্র মানুষের মুখে যে হাসি ফুটেছে, তার পেছনে মিরাজ মিয়ার নীরব ত্যাগ, সততা ও মানবিকতা আগামী অনেক বছর ধরে এলাকার মানুষের মনে আলো ছড়িয়ে যাবে।











