সাবহেডলাইন: "১৯৮৮ থেকে ২০২৫—শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মিলন, স্মৃতি ও গৌরবের
প্রধান হেডলাইন: “মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পূর্ণমিলনী: শতবর্ষের ঐতিহ্য ও স্মৃতির মিলন”
- আপডেট সময় : ০২:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৪০৬ বার পড়া হয়েছে

মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: শতবর্ষের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও প্রজন্ম গড়ার প্রতীক

মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুর টঙ্গীর বুকে অবস্থিত, ১৯৮৮ সালে স্থাপিত হয়ে আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং প্রজন্ম গড়ার এক অনন্য বাতিঘর। ২৯ আগস্ট ২০২৫, শুক্রবার বিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আবেগঘন পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারবর্গ। অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, যা করেন মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক (২০০৩ ব্যাচ), এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মোঃ রাসেল। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা আসমা আলম এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক মোঃ এমদাদ স্যার, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মনির স্যার এবং শিক্ষক মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর গান, কবিতা আবৃত্তি এবং স্মৃতিচারণে সজীব হয়ে ওঠে। ২০০৩ ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে তাদের স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগাভাগি করে, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সন্তান-পরিবারও অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. শাফিক রহমান (কানাডা, ব্যাচ ’৯২) স্মৃতিচারণ করে বলেন, “মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু শিক্ষা দেয়নি, জীবনের মূল্যবোধও শিখিয়েছে।” ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন (অস্ট্রেলিয়া, ব্যাচ ’৮৮) বলেন, “প্রথম ব্যাচের আমরা যখন স্কুলটি সম্প্রসারিত হচ্ছিল, cracked benches, chalk-dusted classrooms—সবই আমাদের ধৈর্য শিখিয়েছে।” ফারিয়া তাবাসসুম (ঢাকা, ব্যাচ ’০৫) বলেন, “স্কুলের গেট দিয়ে যখন আবার প্রবেশ করি, মনে হয় সময় ফিরে এসেছে—বন্ধুদের হাসি, শিক্ষকের আদর্শ সবই মনে পড়ে।” ব্যারিস্টার নাজমুল করিম (লন্ডন, ব্যাচ ’৯০) বলেন, “আমরা শিখেছি কেবল বই নয়, মানবিকতা, সাহস এবং সম্মান—এটাই আমাদের প্রকৃত শিক্ষা।” সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মিলিত বক্তব্য ছিল, “মজিদার ছাত্রদের শিক্ষা ও স্মৃতি হৃদয়ে অটুট। আমরা চিরকাল মজিদিয়ান।” বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার কাজ করে আসছে। শিক্ষিকা আসমা আলম তাঁর শিক্ষাদান ও মমত্বপূর্ণ আচরণের জন্য আজও শিক্ষার্থীদের মনে অমলিন। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শুধু পাঠ্যবই নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে।” বিদ্যালয়টি আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল ক্লাসরুম, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ প্রদান করছে। বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গৌরবময় অবস্থান তৈরি করেছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে শীতকালীন পূর্ণমিলনীতে ১৯৮৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন, যা এই ঐতিহ্যের ধারাকে আরও শক্ত করবে। মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শতবর্ষ পার করে আজও শিক্ষার অমলিন বাতিঘর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি আজও গর্বের নাম বহন করছে। এটি শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি ইতিহাস, আবেগ এবং প্রজন্মের অটুট বন্ধনের প্রতীক।

















