আন্তর্জাতিক পদক জিতেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথ খোঁজখবর না পাওয়ার আক্ষেপ; প্রশাসন, ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ
১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, আর জীবনের ৮৪ বছর বয়সেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মাস্টার্স ভারোত্তোলক মোঃ মজিবুর রহমান। অথচ তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত খোঁজখবর ও স্বীকৃতি পাননি তিনি। জীবনের শেষ সময়ে তাঁর একটিই আকাঙ্ক্ষা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করে নিজের জীবনের সংগ্রাম ও মনের কথাগুলো বলা।

মজিবুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মে কাতারে এশিয়া মাস্টার্স ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক এবং একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মাস্টার্স ভারোত্তোলন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রিসের এথেন্সে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স ভারোত্তোলন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও স্বর্ণপদক জয় করেন। আগামী ২০২৭ সালের মে মাসে জাপানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ ক্রীড়াবিদ।
প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড, টঙ্গী, গাজীপুরে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড় তৈরিতে কাজ করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে নারী ভারোত্তোলনের যাত্রা শুরুতে তিনি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তাঁর প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দল ১১ বার চ্যাম্পিয়ন ও চারবার রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তাঁর স্বপ্ন, তরুণ-তরুণীদের ভারোত্তোলনে প্রশিক্ষিত করে দেশের জন্য আরও আন্তর্জাতিক পদক অর্জনের পথ তৈরি করা।
আনসার বাহিনীর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। বিশেষভাবে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর সহযোগিতার কারণেই বিদেশে গিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তাঁর বক্তব্য, “এই বয়সেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহযোগিতা আমি কোনো দিন ভুলব না।”
এমপি রনির আন্তরিকতায় মুগ্ধ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির সঙ্গে কুশল বিনিময়ের স্মৃতিও তাঁর কাছে বিশেষ। মজিবুর রহমান জানান, তাঁর ক্রীড়াজীবন নিয়ে আলোচনা এবং সালনায় নাছির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আব্দুল মান্না কলেজে ভারোত্তোলন দল গঠনের বিষয়ে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এরশাদনগরের তাঁর প্রশিক্ষণকেন্দ্রেও আসার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য। তাঁর আন্তরিক আপ্যায়নের কথা স্মরণ করে মজিবুর রহমান বলেন, “তিনি আমাকে দুপুরে না খাইয়ে যেতে দেননি। তাঁর এই ভালোবাসা আমি জীবনে ভুলব না।”
চোখে পানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার আকুতি, মজিবুর রহমানের আক্ষেপ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত খোঁজখবর বা স্বীকৃতি পাননি। তাঁর এই বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। চোখে পানি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি ১৯৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, আবার এই বয়সেও দেশের পতাকা বিদেশের মাটিতে তুলে ধরেছি। জীবনের শেষ সময়ে যদি একবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে মনের কথাগুলো বলতে পারতাম, তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম। আমার আর কিছু চাওয়ার থাকত না।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমানের এই আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গাজীপুরের প্রশাসন, ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে তাঁর প্রত্যাশা তাঁর আন্তর্জাতিক অর্জন, মুক্তিযুদ্ধের অবদান এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন খেলোয়াড় তৈরির প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করে পাশে দাঁড়ানো হোক।
দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা উড়িয়েছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ সময়ের আকুতি যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির আড়ালে না থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com