গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ব্লকের মোছাম্মদ বুলবুলি, বিএনপির রাজনীতিতে তিনি হয়তো বড় কোনো পদে নেই, কিন্তু ত্যাগ, শ্রম ও ভালোবাসায় তিনি একজন পরীক্ষিত কর্মী। দলের কঠিন সময়ে মামলা-হামলা, গ্রেফতার, পুলিশের বাধা ও নির্যাতনের ভয় উপেক্ষা করে তিনি রাজপথে থেকেছেন। বড় ছেলে রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন কারাভোগ করলেও সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও বিএনপির প্রতি তাঁর আস্থা ও ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়েনি।
ছোট ফল ও কাঁচামালের ব্যবসাই তাঁর জীবিকার অবলম্বন। সেই সীমিত আয় থেকেই তিনি দলের কর্মসূচিতে নিজের ও অন্য কর্মীদের যাতায়াতের খরচ বহন করেছেন, অসহায় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঢাকার বড় সমাবেশ থেকে স্থানীয় কর্মসূচি, দলের ডাক পেলেই ছুটে গেছেন। শীতের রাত, ভোরের অন্ধকার কিংবা দীর্ঘ পথ, কোনোটিই তাঁকে থামাতে পারেনি।
বর্তমানে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের প্রচার সম্পাদিকা হিসেবে তিনি নিয়মিত সক্রিয়। কিছুদিন আগেও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, দলের যে কোনো কর্মসূচি ও আয়োজনে তাঁকে দেখা যায়। মহিলা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণ করা, আপ্যায়ন করা, খাবারের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনমতো সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি কার্পণ্য করেন না। তাঁকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, “দল থেকে তো কিছু পান না, এত কষ্ট করে কেন রাজনীতি করেন?” তাঁর উত্তর ছিল, “বিএনপি আমার ভালোবাসা, আমার বিশ্বাস। দল আমাকে কিছু না দিলেও আমি দলের জন্য কাজ করব।” এই বিশ্বাসই মোছাম্মদ বুলবুলিকে আলাদা করেছে। তিনি পদ-পদবির জন্য নয়, ভালোবাসা ও আদর্শের টানে রাজনীতি করেন। আর যে মানুষ দলকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন, তিনিও ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য। বিএনপির সুদিনে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন কর্মীরা সামনে আসছেন, এটি স্বাভাবিক। তবে দলের দুর্দিনে পাশে থাকা মোছাম্মদ বুলবুলির মতো ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করাও সংগঠনের দায়িত্ব। কারণ রাজনীতির ইতিহাসে বড় বড় মঞ্চের বক্তৃতার পাশাপাশি নীরবে ত্যাগ করা মানুষগুলোর গল্পই একদিন সবচেয়ে বেশি কথা বলে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com