শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। একটি শিক্ষিত মানুষ শুধু নিজের জীবনকেই আলোকিত করেন না, তাঁর জ্ঞান, মেধা ও মনন দিয়ে আলোকিত করতে পারেন পরিবার, সমাজ ও দেশকে। সেই আলোকিত ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছেন মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসা মলিয়াত। তাঁর শিক্ষাজীবনের সাফল্য, বহুমুখী প্রতিভা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জ্ঞান অর্জনের এই যাত্রা একটি শিক্ষিত, সচেতন ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারের গর্ব ও অনুপ্রেরণার গল্প।
রামিসা মলিয়াত ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ (RAJUK UTTARA MODEL COLLEGE) থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ক্যান্টারবেরিতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব কেন্টে (University of Kent) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানবিজ্ঞানের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দক্ষ, যোগ্য ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের একটি অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণ করছেন শিক্ষার্থী রামিসা মলিয়াত। কলেজের স্কাউট দলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ অংশগ্রহণের দৃশ্য। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টে অধ্যয়নরত রামিসা মলিয়াত।-সংবাদ আলোচনা।
কলেজজীবন থেকেই বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর, রামিসার সাফল্যের গল্প শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে অধ্যয়নকালে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রতিভা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। স্কাউট প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা এবং ইংলিশ স্পোকেন কোর্সে অংশ নিয়ে তিনি প্রথম স্থান অর্জনসহ বিভিন্ন পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। স্কাউটিংয়ের প্রশিক্ষণ তাঁকে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছে। খেলাধুলায় সাফল্য গড়ে তুলেছে আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রকাশ করার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করেছে। এসব অর্জন প্রমাণ করে, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও বহুমুখী দক্ষতার সমন্বয়েই একজন মানুষ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেন। রাজউক কলেজের বিভিন্ন আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণ ও পুরস্কার অর্জনের স্মৃতি আজও তাঁর শিক্ষাজীবনের গর্বিত অধ্যায়। বিশেষ করে স্কাউটিং ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে তাঁর সাফল্য ভবিষ্যতের পথচলায় আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় গর্বিত একটি পরিবার, রামিসার এই পথচলার পেছনে রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ। তাঁর মাতা সালমা সিদ্দিকী এবং পিতা মশিউজ্জামান বাবুল। বাবা মশিউজ্জামান বাবুল সমাজসেবামূলক মনোভাবাপন্ন, ধর্মীয় ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন মানুষ। পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিক শিক্ষা, শিষ্টাচার, মানবিকতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্তানদের শুধু উচ্চশিক্ষিত করাই নয়, বরং সৎ, আদর্শবান, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাঁদের পারিবারিক শিক্ষার অন্যতম দিক। তাঁরা দুই বোন ও এক ভাই। পরিবারের তিন সন্তানই দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। একটি পরিবারের তিন সন্তানকে বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া নিঃসন্দেহে বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, ত্যাগ, পরিশ্রম ও শিক্ষার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তাঁদের এই শিক্ষা-সচেতনতা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টা অন্য অভিভাবকদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হতে পারে। একটি পরিবারের প্রকৃত সম্পদ শুধু অর্থবিত্ত কিংবা সামাজিক অবস্থান নয়; বরং সন্তানদের সুশিক্ষিত, নৈতিকতাসম্পন্ন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় অর্জন। সালমা সিদ্দিকী ও মশিউজ্জামান বাবুলের পরিবার সেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।
প্রযুক্তির জ্ঞান নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রকৌশল খাতে প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে রামিসার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ একটি সম্ভাবনাময় অধ্যায়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করবেন না, বরং আন্তর্জাতিক পরিবেশে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নতুন চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে তাঁর অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত, শিক্ষা, গবেষণা এবং সামগ্রিক উন্নয়নে কাজে লাগবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা, রামিসা মলিয়াত তাঁর শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি যেন বিদেশের মাটিতে সুন্দর ও সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারেন এবং একজন সৎ, দক্ষ, মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, এটাই তাঁর প্রত্যাশা। আমাদের বিশ্বাস, উচ্চশিক্ষার এই পথচলায় অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা একদিন তাঁকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। দেশের উন্নয়ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি, মানবিক সমাজ গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন, এমন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রইল।
সালমা সিদ্দিকী ও মশিউজ্জামান বাবুলের প্রতি রইল সন্তানদের শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য পরিবারটির জন্য যেমন গর্বের, তেমনি সমাজের জন্যও একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। পরিশেষে, রামিসা মলিয়াতের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা ও প্রাণঢালা দোয়া। মহান আল্লাহ তাঁর শিক্ষাজীবন সহজ, সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত করুন। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে তিনি যেন একদিন দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। তাঁর মেধা, মনন, যোগ্যতা ও অর্জনে সমৃদ্ধ হোক পরিবার, আলোকিত হোক সমাজ, এগিয়ে যাক বাংলাদেশ এই আমাদের প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com