রাজনীতি কেবল পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার পরিচয় নয়; রাজনীতির প্রকৃত সার্থকতা মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়ের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা, এলাকার সমস্যা সমাধানে আন্তরিক চেষ্টা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন হাজী আব্দুল জব্বার সরকার। তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির গাছা মেট্রো থানা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর মহানগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
এলাকার শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে আলোচিত। নতুন কুঁড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে। এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপহারসামগ্রী প্রদান এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগও রয়েছে তাঁর।
অসহায়ের পাশে, ন্যায়ের প্রশ্নে, এলাকার মানুষের বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় তিনি মধ্যস্থতা ও সমাধানের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অভিযোগ শোনা, বিরোধের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা এবং ন্যায়সংগত সমাধানে ভূমিকা রাখাকে তিনি সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। অনেক সময় রাতেও মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং সমস্যার কথা শুনতে নিজে উপস্থিত হন। তাঁর এই রাতের জনসংযোগকে অনেকে হজরত ওমর (রা.)-এর জনকল্যাণমূলক দায়িত্ববোধের আদর্শের সঙ্গে তুলনা করেন। যুবসমাজকে রক্ষায় খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতা, গাছা এলাকার তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ফুটবল, হাডুডু, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যয়ভার বহনে সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। তাঁর বিশ্বাস, তরুণদের হাতে মাদকের পরিবর্তে খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দিতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও শিল্প রক্ষার আহ্বান, গাজীপুরের গাছা ও আশপাশের এলাকা পোশাকশিল্পনির্ভর হওয়ায় শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন তিনি। সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি শ্রমিকদের যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধির দাবি এবং মালিক-শ্রমিকের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁর বক্তব্য, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা যেমন সময়ের দাবি, তেমনি কর্মস্থল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা করাও সবার দায়িত্ব। কোনো উসকানি বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে যেন শ্রমিকদের রুজি-রোজগারের পথ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে কারও ইন্ধন থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। তিনি মনে করেন, কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল থাকলেই শ্রমিকের কর্মসংস্থান, মালিকের বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে। তাঁর আহ্বান নিজের কর্মস্থল, নিজের কোম্পানি ও নিজের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিজের সম্পদের মতো রক্ষা করতে হবে।
নিরাপদ ও সুন্দর ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়, গার্মেন্টসশিল্প অধ্যুষিত এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। ছিনতাই, ছিনতাইকারী চক্র, হয়রানি ও ইভটিজিং প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন হাজী আব্দুল জব্বার সরকার। পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাটসহ নাগরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে হাজী আব্দুল জব্বার সরকারের জনসম্পৃক্ততার মূল জায়গা শিক্ষা, মানবিকতা, ন্যায়বিচার, যুবসমাজের বিকাশ, শ্রমিকের অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা। তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাশার চেয়েও বড় হয়ে উঠুক মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের। একটি সুন্দর, নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও মানবিক ৩২ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তুলতে প্রয়োজন কথার চেয়ে কাজের ধারাবাহিকতা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। মানুষের আস্থা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায়ও সেটিই বিপদে পাশে থাকা, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়া।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com