রাজনীতির মঞ্চে অনেক মুখ আসে, আবার সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যায়। কিন্তু মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা, এসবই একজন মানুষের আলাদা পরিচয় তৈরি করে। টঙ্গীর দাড়াইল পশ্চিম থানা ও আশপাশের এলাকায় আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের পরিচয়ও ক্রমে এমন এক সামাজিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যেখানে রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি গুরুত্ব দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল, টঙ্গী পশ্চিম থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছেন। তবে খোকনের গল্প কেবল বর্তমানের রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে পরিবার, শৈশব, প্রবীণদের সান্নিধ্য, মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার দীর্ঘ স্মৃতি।
শৈশবের শিক্ষা, মানুষের পাশে থাকার প্রেরণা, আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের নিজের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর পারিবারিক পরিবেশের কথা। তাঁর পিতা মরহুম কুদরত আলী মাতাব্বর স্থানীয়ভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ড, বিচার-শালিশ ও মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সেই সূত্রে এলাকার বহু গণ্যমান্য মানুষের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই পরিবেশেই শৈশবে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম সরকার তাঁদের বাড়িতে আসতেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং ছোট্ট খোকনের মাথায় হাত রেখে মানুষের পাশে থাকার কথা বলতেন। বহু বছর পর সেই শৈশবের স্মৃতিই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে মানুষের জন্য কাজ করার এক ধরনের ব্যক্তিগত প্রেরণা। খোকনের ভাষায়, নুরুল ইসলাম সরকার তাঁর কাছে শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; ছিলেন বাবার সমতুল্য একজন অভিভাবকসুলভ মানুষ। সেই সম্পর্কের স্মৃতি থেকেই তিনি মানুষের পাশে থাকার দায়িত্বকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে দেখেন। সমাজসেবার জায়গায় মানুষের কথা, সমাজসেবা বড় কোনো শব্দ দিয়ে শুরু হয় না, শুরু হয় মানুষের কথা শোনা থেকে। এলাকার একজন মানুষ কী সমস্যায় আছেন, কার পরিবার অসুবিধায় আছে, কোথাও সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টিকে খোকন গুরুত্ব দেন বলে তাঁর পরিচিতজনেরা জানান।

স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের আলোচনায় তাই মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়া, এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার চেষ্টা, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের জনসম্পৃক্ততা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর নিজের বক্তব্যেও বারবার ফিরে আসে একটি বিষয়, মানুষের পাশে থাকা।
সংগঠনের দায়িত্ব, মানুষের সঙ্গে সংযোগ, টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্বও কম নয়। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও তাঁর কাজের অংশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনীতির মূল্য তখনই তৈরি হয় যখন তা মানুষের প্রয়োজন ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত থাকে। সে কারণেই তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগকেও গুরুত্ব দেন।
তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামাজিক সেবার পার্থক্যও তিনি স্বীকার করেন। জনপ্রতিনিধিত্ব কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনসম্মত কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় জরুরি, এমন দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ঘিরে প্রত্যাশা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে খোকনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। একটি নগর ওয়ার্ডের মানুষের প্রত্যাশার জায়গা অনেক বিস্তৃত, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা, মশকনিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবা, নিরাপত্তা, সামাজিক সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির নিয়মিত যোগাযোগ, সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে একজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি হলো মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝা এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা। খোকনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের সমস্যার কথা শোনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁর জনসম্পৃক্ততার কার্যকারিতা কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তব কাজ, মানুষের অভিজ্ঞতা এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে তাঁর ভূমিকার ওপর।
নুরুল ইসলাম সরকারের স্মৃতি, নিজের জীবনের দায়বোধ, খোকনের সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গে নুরুল ইসলাম সরকারের স্মৃতি একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শৈশবে পাওয়া সেই সম্পর্ক পরবর্তী জীবনে একটি নৈতিক দায়বোধ তৈরি করেছে। নুরুল ইসলাম সরকারের ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর অবস্থানও সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি বিষয়টির সমাধান শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত পথেই চান।
এখানেই তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সামাজিক অবস্থানের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। একজন প্রবীণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া শৈশবের শিক্ষা, পরিবারের সামাজিক পরিবেশ এবং বর্তমান জীবনে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সবকিছু মিলিয়ে তাঁর নিজের পরিচয়ের একটি আলাদা কাঠামো তৈরি হয়েছে।
মানুষের আস্থা, কথায় নয়, সময়ের পরীক্ষায়, একজন সামাজিক কর্মী কিংবা রাজনৈতিক সংগঠকের প্রকৃত পরিচয় কেবল পদবিতে নির্ধারিত হয় না। সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজ, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাই সেই পরিচয়কে অর্থবহ করে। আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের ক্ষেত্রেও সামনে রয়েছে সেই বাস্তব পরীক্ষা। টঙ্গী পশ্চিম থানার সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর জনসম্পৃক্ততা কতটা কার্যকর হয়, তা মূল্যায়িত হবে মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে। কারণ মানুষের কাছে যাওয়ার পথ কখনো শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় না। কখনো তা তৈরি হয় একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে, কারও কথা মন দিয়ে শুনে, সামাজিক সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়ে কিংবা দীর্ঘদিনের একটি সম্পর্ককে সম্মান করার মধ্য দিয়ে।
একটি পরিচয়ের চেয়েও বড়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের বর্তমান পরিচয়ে তাই কয়েকটি অধ্যায় পাশাপাশি দেখা যায়, ৫২নং ওয়ার্ড তিনি একজন স্থানীয় সমাজসেবামুখী ব্যক্তি, টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। কিন্তু তাঁর নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় সম্ভবত মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গাটি।
শৈশবের স্মৃতি তাঁকে মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়, পারিবারিক শিক্ষা তাঁকে সামাজিক দায়িত্বের কথা বলে, সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়, আর বর্তমান সামাজিক কর্মকাণ্ড তাঁকে সেই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে ধরে রাখার সুযোগ করে দেয়। সময় বদলাচ্ছে। টঙ্গী বদলাচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশাও বদলাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম নেতৃত্বের কাছে চায় স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ, যোগাযোগ এবং কাজের দৃশ্যমানতা। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের পথও নির্ধারিত হবে তাঁর কাজ, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং সময়ের পরীক্ষায়।
শেষ পর্যন্ত পদ একটি পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা তৈরি করে কাজ ও আচরণ। আর সেই জায়গাটিই ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে মানুষের কাছে থাকার গল্প লিখে চলেছেন আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com