“শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি গড়ে তোলেন মানুষ, সমাজ ও ভবিষ্যৎ” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে শিক্ষকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আলোচনা ও মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষকদের করণীয়, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্যের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষকতার মর্যাদা, পেশাগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের ভূমিকা। এ বছর ১৯৬৬ সালের ILO/UNESCO শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশের ৬০ বছর পূর্তিও পালিত হচ্ছে।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাদের একত্রিত করা হয়। এতে শিক্ষকরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা কার্যক্রমের নানা দিক, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজ উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন নাজমুল হোসেন মণ্ডল, সদস্য সচিব, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল ও যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল। তিনি মেডোনা গ্রামার স্কুল, পাগাড়ের সাবেক পরিচালক হিসেবেও পরিচিত। আলোচনা পর্বে নাজমুল হোসেন মণ্ডল বলেন, একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন না; বরং একজন শিক্ষার্থীকে স্বপ্ন দেখতে শেখান, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করেন এবং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেন। তাই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া সমাজের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহৎ আদর্শ। শিক্ষকের হাত ধরেই একটি প্রজন্ম জ্ঞানের আলো পায়, আর সেই প্রজন্মই ভবিষ্যৎ সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়।” অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষকদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, নেক হায়াত ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দেশ-বিদেশের সব শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্যও দোয়া করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য দুপুরের খাবার ও কোমল পানীয়ের আয়োজন করা হয়। শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “শিক্ষক মানেই আলোর পথের দিশারি। শিক্ষার আলো জাগুক প্রতিটি ঘরে, গড়ে উঠুক উন্নত, মানবিক ও আলোকিত সমাজ।”
মিলনমেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নাজমুল হোসেন মণ্ডল সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষক সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। তাঁদের সম্মান করা মানে জ্ঞান, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মান করা।” অনুষ্ঠানটি শেষ হয় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শুভেচ্ছা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com