টঙ্গীর রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম শেখ মোঃ সুমন। সংগঠনের দায়িত্ব, রাজপথের কর্মসূচি ও মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি এবার তাঁর জীবনে এসেছে এক ভিন্নতর অধ্যায় পবিত্র কাবা শরীফ ও রওজা মোবারক জিয়ারত এবং পবিত্র হজ/ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনার পথে যাত্রা। এই পবিত্র সফরের আগে তাঁকে ঘিরে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল যেন মুহূর্তেই পরিণত হয় ভালোবাসা ও আবেগের এক বিশাল মিলনমেলায়। টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সভাপতি, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোঃ সুমনের নিরাপদ সফর, সুস্থতা, নেক হায়াত ও কবুল ইবাদতের জন্য আয়োজিত এই মাহফিলে উপস্থিত হন ইমাম-মুয়াজ্জিন, হাফেজে কোরআন, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, যুবদলের নেতাকর্মী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মোনাজাতের সময় হাজারো মানুষের সম্মিলিত ‘আমিন’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

একজন নেতার বিদায় নয়, ছিল ভালোবাসার মানুষের দোয়া, শেখ মোঃ সুমন যখন সবার কাছে দোয়া চাইলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ছিল না কোনো অহংকার; ছিল বিনয়ের স্পর্শ। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে পবিত্র সফরে যাচ্ছি। চলার পথে আমার দ্বারা জানা-অজানায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে ক্ষমা করবেন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।” এই কয়েকটি বাক্য উপস্থিত মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। কারণ নেতৃত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু পদ-পদবিতে নয়, কখন মানুষের সামনে নিজেকে ছোট করে ক্ষমা চাইতে হয়, সেটিও নেতৃত্বের একটি বড় পরিচয়। আর সেই জায়গাতেই শেখ মোঃ সুমনের এই বিদায় আয়োজনটি পেয়েছে আলাদা মাত্রা।
মোনাজাতে উঠল হাজারো হাত, মোনাজাত শুরু হলে একে একে হাজারো হাত আকাশের দিকে উঠতে থাকে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও হাফেজগণ দোয়া পরিচালনা করেন। উপস্থিত মুসল্লিরা দরুদ শরিফ পাঠ করেন। কেউ চোখের পানি মুছেছেন, কেউ আবেগে কণ্ঠ ভারী করে ‘আমিন’ বলেছেন। দোয়ার ভাষা ছিল ভিন্ন, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা ছিল এক, আল্লাহ যেন শেখ মোঃ সুমনের পবিত্র সফর কবুল করেন, তাঁকে নিরাপদ রাখেন এবং সুস্থভাবে আবার স্বজন ও মানুষের মাঝে ফিরিয়ে দেন। অনেকেই তাঁর জন্য যেমন দোয়া করেছেন, তেমনি পরস্পরের কাছেও দোয়া চেয়েছেন। ফলে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের এক সুন্দর দৃশ্য।
একটি গরু জবাই, খিচুড়ি ও মানুষের জন্য ভালোবাসার আপ্যায়ন, শেখ মোঃ সুমনের পক্ষ থেকে আগত মানুষের আপ্যায়নের জন্য ছিল ব্যাপক আয়োজন। একটি গরু জবাই করে রান্না করা হয় খিচুড়ি। মোনাজাত শেষে উপস্থিত মানুষের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি ছিল মিনারেল পানির ব্যবস্থা। হাজারো মানুষের জন্য খাবার পরিবেশনের এই আয়োজন শুধু আপ্যায়ন ছিল না; ছিল তাঁর পক্ষ থেকে শুভাকাঙ্ক্ষী, নেতাকর্মী, মুসল্লি ও এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম। একই সঙ্গে একই স্থানে বসে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের খাবার গ্রহণের দৃশ্যও তৈরি করে সম্প্রীতির আবহ। বাবার পাশে দুই কন্যা, আবেগে ভিন্ন এক দৃশ্য এই আয়োজনের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যগুলোর একটি ছিল শেখ মোঃ সুমনের দুই কন্যার উপস্থিতি। পবিত্র সফরের আগে বাবার পাশে দুই মেয়েকে দেখা যায়। বাবার পবিত্র যাত্রাকে ঘিরে তাঁদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনের আবেগকে যেন আরও গভীর করে তোলে। একদিকে হাজারো মানুষের দোয়া, অন্যদিকে দুই কন্যার বাবার পাশে থাকা, দৃশ্যটি হয়ে ওঠে পরিবারের ভালোবাসা ও মানুষের ভালোবাসার এক অপূর্ব মিলন।
‘উদ্দেশ্য যদি হালাল হয়, গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর’ পবিত্র সফরকে সামনে রেখে শেখ মোঃ সুমনের বিশ্বাসের জায়গাটিও ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য যদি হালাল হয়, আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমার মনোবাসনা কবুল করবেন।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, মদিনা শরীফে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করার সৌভাগ্য যেন আল্লাহ তাঁকে দান করেন। এই আকাঙ্ক্ষার কথাও উপস্থিত মুসল্লিদের হৃদয়ে দাগ কাটে। সবাই তাঁর এই নেক ইচ্ছা পূরণের জন্য দোয়া করেন।
সঙ্গী হচ্ছেন মোঃ জালাল খলিফাও, শেখ মোঃ সুমনের সঙ্গে পবিত্র সফরে যাচ্ছেন সাবেক কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জালাল খলিফা। তাঁর জন্যও বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। ইমাম-মুয়াজ্জিন, হাফেজ এবং উপস্থিত মুসল্লিরা দুজনের নিরাপদ সফর, সুস্থতা ও কবুল ইবাদতের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।
রাজনীতির ব্যস্ততা থেকে পবিত্রতার পথে, রাজনীতির মাঠে নেতৃত্ব মানে প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সংগঠনের দায়িত্ব এবং নানা ব্যস্ততা। কিন্তু পবিত্র ভূমির পথে যাত্রার এই মুহূর্তে শেখ মোঃ সুমনের সামনে যেন খুলে গেছে আত্মশুদ্ধির একটি নতুন দরজা। ক্ষমা চাওয়া, সবার দোয়া নেওয়া এবং মানুষের জন্য দোয়া করার প্রত্যয়, এই তিনটি বিষয় তাঁর বিদায় আয়োজনকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। পবিত্র ভূমিতে গিয়ে তিনি নিজের জন্য যেমন দোয়া করবেন, তেমনি তাঁর ভাষায়, যাঁরা তাঁকে ভালোবাসেন ও যাঁরা তাঁর কাছ থেকে কোনোভাবে কষ্ট পেয়েছেন, সবার জন্যও দোয়া করবেন। মানুষের প্রত্যাশা, সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন, মোনাজাত শেষে উপস্থিত মানুষের অনেকের মুখেই ছিল একই প্রত্যাশা, “আল্লাহ শেখ মোঃ সুমনের হজ/ওমরা কবুল করুন। তাঁকে সুস্থ রাখুন। নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনুন। ফিরে এসে আবার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দিন।” রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষ হিসেবে তাঁর এই পবিত্র সফরকে ঘিরে যে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে, সেটিই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
একটি বিদায়, হাজারো দোয়া, স্মৃতিতে থাকবে এই দিন, কেউ হয়তো দেখেছেন রাজনৈতিক নেতাকে বিদায় জানানোর আয়োজন হিসেবে। কেউ দেখেছেন একজন মুসলমানের পবিত্র সফরের আগে দোয়ার মাহফিল হিসেবে। কেউ দেখেছেন মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন হিসেবে। আবার কেউ দেখেছেন একজন বাবার পাশে তাঁর দুই কন্যার আবেগঘন উপস্থিতি হিসেবে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যে দৃশ্যটি সবার মনে থেকে যাবে, তা হলো হাজারো মানুষের একসঙ্গে হাত তুলে একজন মানুষের জন্য দোয়া করা। সেই দোয়ার মুহূর্তে পদ-পদবি, পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক বিভাজন যেন অনেকটাই পেছনে পড়ে যায়। সামনে থাকে শুধু মানুষ, ভালোবাসা আর মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা।
শেখ মোঃ সুমনের পবিত্র সফর হোক নিরাপদ, শান্তিময় ও বরকতময়। আল্লাহ তাঁর নেক ইচ্ছাগুলো কবুল করুন। তাঁর হজ/ওমরা কবুল করুন। তাঁকে হজে মাবরুরের মর্যাদা দান করুন। নেক হায়াত, সুস্থতা ও ঈমানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনুন। আর পবিত্র মক্কা-মদিনার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি যেন তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, দেশের মানুষ এবং যাঁরা তাঁর কাছে দোয়া চেয়েছেন, সবার জন্য দোয়া করার সুযোগ পান। সবার একটাই চাওয়া, “পবিত্র ভূমিতে যান, আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে দোয়া করুন; আর সুস্থ হয়ে ফিরে এসে আবার মানুষের পাশে দাঁড়ান।” আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com