ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুর-২ আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি এখন শিল্পনগরীর সর্বস্তরের মানুষের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী নাসের খান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯২ ভোট। ৪৯ হাজার ১৬৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ছিল গণতান্ত্রিক চর্চার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের দিন রনি নিজ গ্রামের সালনা মাদ্রাসা কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করেন, যা সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তার আত্মিক সংযোগের এক প্রতীকী প্রকাশ।
ইতিহাসের উত্তরাধিকার, অসমাপ্ত স্বপ্নের দায়ে, রনির রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একজন নবনির্বাচিত এমপি হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি উন্নয়ন-ঐতিহ্যের ধারক। তার পিতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মান্নান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নগরপিতা (মেয়র) হিসেবে অবকাঠামো ও শিক্ষাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
১৯৯১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকায় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার সময়কার উন্নয়ন আজও স্মরণীয়। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় তাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণও করতে হয়; সেই অধ্যায় গাজীপুরবাসীর স্মৃতিতে এক বেদনাময় ইতিহাস হয়ে আছে।
রনি নিজেই বলেছেন, “আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো আমি শেষ করতে চাই। এ বিজয় আমার একার নয়, গাজীপুরবাসীর।” এই বক্তব্যে অনেকেই দেখছেন ইতিহাসের ধারাবাহিকতার প্রতিশ্রুতি।
শিল্পনগরীর বাস্তবতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রয়োজনে, গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। হাজারো গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও উৎপাদন কারখানা এখানে জাতীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে রাখে। তবু দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট, রেলগেট সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এ অঞ্চলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও তরুণ ভোটারদের মতে, মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থাকলে দ্রুত নীতি-নির্ধারণ, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে। রনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ, রেলগেটের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, শিল্পাঞ্চলের আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে কৌশলগত এই অঞ্চলের জন্য কার্যকর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সময়ের দাবি। শিল্প, বাণিজ্য, যোগাযোগ বা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তার সম্পৃক্ততা গাজীপুরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
ধর্মজ্ঞান, দায়িত্ববোধ ও জনআস্থার রাজনীতি, বিজয়ের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া, পিতা-মাতার কবর জিয়ারত এবং নিজ হাতে বিলবোর্ড অপসারণের মধ্য দিয়ে তিনি যে প্রতীকী সূচনা করেছেন, তা অনেকের চোখে নৈতিক রাজনীতির এক বার্তা।
ইসলামের দৃষ্টিতে নেতৃত্ব হলো আমানত, “ইন্নাল্লাহা ইয়ামুরু বিল আদলি ওয়াল ইহসান” ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ। জনমতের প্রতিফলন হিসেবে মন্ত্রিত্ব কেবল পদ নয়, বরং দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার। গাজীপুরবাসীর বিশ্বাস, নিজ ভূমিতে জন্ম নেওয়া, শিল্পাঞ্চলের বাস্তবতা জানা একজন প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পেলে সিদ্ধান্ত হবে বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব। সময়ের আহ্বান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এই বিজয় কেবল রাজনৈতিক পরিসংখ্যান নয়; এটি শিল্পনগরীর আস্থার রায়। স্থানীয়দের কণ্ঠে এখন একটাই উচ্চারণ, “শিল্পনগরীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবনির্বাচিত এমপি এম. মঞ্জুরুল করিম রনিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হোক।”
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, জনগণের প্রত্যাশা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে গাজীপুর আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তার প্রাপ্য মর্যাদা চায়। শিল্পের রাজধানী যদি দেশের অর্থনীতির ইঞ্জিন হয়, তবে সেই ইঞ্জিন সচল রাখতে প্রয়োজন কার্যকর, অভিজ্ঞ ও স্থানীয় বাস্তবতায় অভ্যস্ত নেতৃত্ব। গাজীপুরবাসীর দৃষ্টিতে, সময় এখন সেই সিদ্ধান্তের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com