গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ নগরে মরহুম স্বজনদের রুহের মাগফেরাত কামনায় এক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৯ জুন ২০২৬ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর এরশাদ নগরের জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ মাহফিলের আয়োজন করেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি মো. কামরুল ইসলাম কামু। মাহফিলে মো. কামরুল ইসলাম কামুর মরহুম পিতা-মাতা ও পুত্রের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে এরশাদ নগর এলাকার প্রয়াত সকল নারী-পুরুষের রুহের মাগফেরাত, মহান আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁদের ক্ষমা এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য মোনাজাত করা হয়।
এছাড়াও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের মরহুম পিতা, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির মরহুম পিতা অধ্যাপক এম. এ. মান্না, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের সকল মৃত মুসলিম নর-নারীর ক্ষমা ও মাগফেরাত, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
পবিত্র মহররম মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান (রা.) ও হযরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে দোয়া করা হয়। মাহফিলের দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এরশাদ নগর ২ নম্বর ব্লক জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম মাওলানা মো. ইউসুফ। মিলাদ মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মো. কামরুল ইসলাম কামুর আত্মীয়-স্বজন, শ্বশুরবাড়ির সদস্যবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মাঝে ভুনা খিচুড়ি, গরুর মাংস, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন খাদ্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মো. কামরুল ইসলাম কামু বলেন, মানুষের জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, মানবিকতা ও সুন্দর আচরণের কোনো বিকল্প নেই। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা সমাজের যেকোনো মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা প্রত্যেকের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। অসৌজন্যমূলক আচরণ সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে, যা ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে একে অপরের কল্যাণে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাই সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করা এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার। তিনি উপস্থিত সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে তিনি কাজ করে যেতে চান। এ জন্য তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই এ আয়োজনকে শুধু পারিবারিক স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, মানবিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com