“রাজনীতি আমাদের কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, এটি মানুষের সেবার এক ধরনের ইবাদত।” কথাগুলো বলছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের নবনিযুক্ত সভাপতি শেখ মোহাম্মদ সুমন। পাশে বসা সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান টিপু নীরবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট দায়িত্বের ভার, আবার সেই সঙ্গে গর্বের আলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনে টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের নেতৃত্ব গ্রহণের পর এই দুই নেতার কণ্ঠে যে অনুভূতি তা শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং গভীরভাবে আত্মিক।
“এটা সম্মান নয়, ভারী এক আমানত” শেখ মোহাম্মদ সুমন ধীর কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমরা এটাকে কোনো পদমর্যাদা হিসেবে দেখছি না। কোরআনের ভাষায় বললে, এটি একটি আমানত। আর আমানতের খেয়ানত করা একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মহানগর ছাত্রদল থেকে যুবদল দীর্ঘ সময় রাজনীতির সঙ্গে আছি। রাজপথে লাঠিচার্জ, মামলা, ভয় সবই দেখেছি। কিন্তু কখনো মনে হয়নি এই পথ ছেড়ে দেব। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ সত্যের পক্ষে থাকেন, আর মজলুমের দোয়া কখনো ফেরত যায় না।”
সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান টিপু বলেন, “যুবদল মানে শুধু একটি অঙ্গসংগঠন নয়। যুবদল হচ্ছে বিএনপির শক্তির মূল ভিত্তি। আমাদের দায়িত্ব। এই শক্তিকে শৃঙ্খলা, আদর্শ ও মানবিকতায় গড়ে তোলা।” তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় বিএনপি, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, মহানগর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সবাই আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, ইনশাআল্লাহ আমরা তা ব্যর্থ হতে দেব না।”
কৃতজ্ঞতার ভাষা: দল, নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি দুজনেই একযোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। “আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে গাজীপুর মহানগর বিএনপি ও যুবদলের সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যারা আমাদের মূল্যায়ন করেছেন।”
এরপর তাঁদের কণ্ঠ আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
শেখ সুমন বলেন, “আমরা বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই টঙ্গী পশ্চিম থানার সর্বস্তরের জনগণকে। এই এলাকার মানুষ আমাদের সন্তানসুলভ ভালোবাসা দিয়েছেন। এই ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।”
টিপু যোগ করেন, “এলাকাবাসীর সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের রাজনীতির মূল শিক্ষা। আমরা গর্বের সঙ্গে বলি। টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল জনগণের সংগঠন হিসেবেই পরিচিত হবে।” এই দুই নেতা রাজনীতিকে আলাদা করে দেখেন না ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে।
শেখ সুমন বলেন, “রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে মানুষের উপকার করে। আমরা সেই হাদিসকে রাজনীতির মূলনীতি হিসেবে নিয়েছি।”
টিপু বলেন, “দেশ ও এলাকার কল্যাণে যত ধরনের ভালো কাজ করা সম্ভব। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক দায়িত্ব। সবখানেই যুবদল থাকবে। এটি শুধু রাজনৈতিক কর্তব্য নয়, এটি আমাদের ঈমানের অংশ।”
বিএনপির দায়িত্ব ও যুবদলের ভূমিকায় নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে জানান, বিএনপির মূল দলের যে কোনো দায়িত্ব, কর্মসূচি ও আন্দোলন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তাঁরা বলেন, “বিএনপি যখনই ডাক দেবে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল রাজপথে থাকবে। প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করবো, কিন্তু আপস করবো না।”
এই ফিচার শেষ করার আগে শেখ মোহাম্মদ সুমন শুধু একটি কথাই বললেন, “দোয়া করবেন, আমরা যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি, আর আল্লাহ যেন আমাদের নিয়ত কবুল করেন।” মো. আজিজুর রহমান টিপু নীরবে বললেন “আমিন।” রাজনীতির এই কঠিন সময়ে এমন নেতৃত্বই প্রমাণ করে, ক্ষমতা নয়, আদর্শই শেষ পর্যন্ত মানুষকে উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ইউনুস আলি মোবাইলঃ ০১৯৭১৮৫৬৮৫৫ ইমেইলঃ sangbadalochona@gmail.com
Developed By : Sabbirelectronics.com